দূরদেশে প্রবাসে

সিরাজুল করিম

কত দিন এ ভেবে পথ চলেছি
কত না আনন্দের হতো
আহা! যদি যেতে পারতাম দূরদেশে প্রবাসে।

দ্বিপ্রহরের কিছু পরে একদিন উঠলাম
থাই এয়ার লাইনসের একটি প্লেনে
জিয়া বিমানবন্দর থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে।
প্লেনখানা উড়ে চলে পটিয়া আনোয়ারার ওপর দিয়ে
চট্টগ্রাম বন্দরকে পাশে রেখে
তারপর মিয়ানমারের পাহাড় সব পেছনে ফেলে
আমরা হাফ ছেড়ে বাঁচি বিকেলে ব্যাংকক পৌঁছে।

রাত বারটায় আবার ব্যাংকক থেকে সুইডেনের পথে
সাস্ এয়ারলাইনসের প্লেনে উঠলাম অবশেষে।
ওপর থেকে দেখা যায় অসংখ্য তারার মতো নিবু নিবু আলো
ব্যাংককের সরলরেখার মতো সোজা প্রশস্ত রাজপথের মাঝে।
মনে হয় হাজারো তারার মাঝ দিয়ে
আমরা পথ চলছি সাঁতার কেটে আকাশের গায়ে।
জানালা দিয়ে দেখলাম বঙ্গোপসাগরের বুকে জাহাজের বিচিত্র গতিবিধি
ভারত মহাসাগরের বুকে আন্দামান নিকোবরের পাশে গভীর কাল জলরাশি।
আমাদের প্লেন উড়ে চলে একটি সরলরেখা বরাবর
লাহোর পিণ্ডির ওপর দিয়ে রাতের আঁধারে।
অবশেষে প্লেনখানি বাঁক নেয় যখন উড়ে চলে
মস্কোর উপর দিয়ে রাতের আরো গভীরে।

তারপর আর কিছু মনে নেই
যখন দু’চোখে ঘুম নামে কান্তিতে।
ঘুম ভাঙে হঠাৎ প্রবল একটা ঝাঁকুনিতে
তখন প্লেনখানা নিচে নামতে থাকে ঘুরেফিরে বাল্টিক সাগরের তীরে।
তারপর বিমানবালার সুমধুর কণ্ঠস্বর কানে আসে ভেসে
‘আমরা এসেছি সুইডেনের অতি কাছাকাছি আকাশে’
শুধু একটা রাত শেষে এসেছি দূরদেশে প্রবাসে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.