বিশ্বসাহিত্যের টুকিটাকি

মতিন মাহমুদ

জাপানি চলচ্চিত্র উৎসবে রোহিঙ্গা নিয়ে চলচ্চিত্র
সম্প্রতি জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত ৩০তম টোকিও চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের জীবনভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র। এর নাম ‘উই দ্য ডেড’। এর পরিচালক এডমন্ড ইয়ো পেয়েছেন সেরা পরিচালকের পুরস্কার। তিনি এর চিত্রনাট্যও রচনা করেন। এডমন্ড ইয়োর জন্ম ১৯৮৪ সালে সিঙ্গাপুরে। এর আগে শর্টফিল্ম করে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাহিনীচিত্র নিয়ে ২০১৪ সালে টোকিও চলচ্চিত্র উৎসবে এসেছিলেন। এবার গেছেন উই দ্য ডেড নিয়ে। এই ছবির মূল চরিত্র একটি রোহিঙ্গা মুসলিম তরুণী, যে রাখাইনে নির্যাতন থেকে বাঁচার আশায় মালয়েশিয়া যেতে চায়। যেহেতু তার পর্যাপ্ত অর্থ নেই, তাই সে মানব পাচারকারীদের সাহায্য নিয়ে মালয়েশিয়া পৌঁছে নানা দুর্দশায় পতিত হয়। সেখানে কাজের কোনো স্বীকৃতি পায় না, বেতন ঠিকমতো পায় না, অত্যাচার-নির্যাতনের ফলে সেখানে অবৈধ লোকেরা মারাও যায়। পরিচালক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়টি চলচ্চিত্রে এনে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন এবং এতে তিনি সফল। ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলে এই চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে যে ১৫টি সেরা ছবি অংশ নেয়, এডমন্ড ইয়োর উই দ্য ডেড ছিল সেই তালিকায়। সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন ইয়ো। এটিও কম সাফল্য নয়। সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে তুর্কি ছবি গ্রেইন। এর পরিচালক সেমিহ কাপলানোগলু। রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বিষয়টি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক একটি চলচ্চিত্র উৎসবে। এতে মিয়ানমারের ওপর নিঃসন্দেহে চাপ সৃষ্টি হবে। ১০৬ মিনিটের এই চলচিত্রটি নির্মিত হয়েছে ম্যান্ডারিন অর্থাৎ মূল চীনা ভাষা, মালয় ভাষা ও চীনের ক্যান্টিনিজ ভাষায়।

বিবিসি অফিসের সামনে অরওয়েলের ফিরে আসা
বিশিষ্ট লেখক ও বিবিসির সাবেক কর্মী জর্জ অরওয়েল আবার ফিরে এসেছেন বিবিসি অফিসের সামনে। সশরীরে নয়, ব্রোঞ্জনির্মিত ভাস্কর্য হয়ে। অ্যানিমেল ফার্ম ও ১৯৮৪ সালের মতো উপন্যাস লিখে জগদ্বিখ্যাত জর্জ অরওয়েল সারা জীবন মানবতা আর গণতন্ত্রের জয়গান গেয়েছেন। কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরোধিতা করেছেন। ১৯৫০ সালে জর্জ অরওয়েলের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর এত বছর পরেও তার উপন্যাসগুলো আজো জনপ্রিয়। এগুলোর কোটি কোটি কপি বিক্রি হয়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশে। তার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী কর্তৃত্ববাদী কমিউনিস্ট শাসনেরও অবসান হয়েছেÑ যদিও তিনি তা দেখে যেতে পারেননি। অ্যানিমেল ফার্ম উপন্যাসে তিনি যেমন লিখেছিলেন, ‘ইফ লিবার্টি মিনস এনিথিং অ্যাট অল ইট মিনস দি রাইট টু টেল পিপল হোয়াট দে ডু নট ওয়ান্ট টু হিয়ার’Ñ ঠিক এ কথাগুলোই লেখা রয়েছে তার ভাস্কর্যের সামনে। লেবার পার্টির পরলোকগত এমপি বেন লুইটেকার মূলত এই স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার স্থাপিত জর্জ অরওয়েল মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। ৭ নভেম্বর এই ভাস্কর্য উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন বেন হুইটেকারের স্ত্রী ব্যারোনেস লুইটেকার ও জর্জ অরওয়েলের পালিত পুত্র রিচার্ড ব্লেয়ার। জর্জ অরয়েলের আসল নাম এরিক আর্থার ব্লেয়ার। তার সাথে মিলিয়ে পুত্রের নাম রাখা হয়েছিল রিচার্ড ব্লেয়ার।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.