ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯ নভেম্বর ঢাকা আসছেন 

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-ইউরোপ বৈঠক (আসেম) সামনে রেখে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে ইউরোপী ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (হাই রিপ্রেসেন্টেটিভ) ফেডিরিকা মোঘারিনি ১৯ নভেম্বর ঢাকা আসছেন। তিনি কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। এছাড়া দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। এরপর আসেমে যোগ দিতে নেপিডোর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবেন।

নেপিডোতে আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর আসেম অনুষ্ঠিত হবে। এতে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা তাদের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন। এ সম্মেলনকে যোগ দেবার আগে চীন, জাপান, জার্মানি ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ঢাকা আসার খবর পাওয়া গিয়েছিল। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ১৮ নভেম্বর সকালে দুই দিনের সফরে ঢাকা আসবেন। সফরকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। ১৮ নভেম্বর রাতে আসবেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো। ১৯ নভেম্বর সকালে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল আসবেন। একই দিন সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে সরাসরি কক্সবাজার যাবেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ) আসেমে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। মিয়ানমারের সাথে এ ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি ইইউ সঙ্কট নিরসনে আঞ্চলিক রাষ্ট্র, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আশিয়ানকে আরো সম্পৃক্ত করা চেষ্টা করবে। অর্থাৎ মিয়ানমারের রাজধানীতে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিতির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

গত ১৬ নভেম্বর লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের (ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন অ্যাফেয়ার্স এন্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশেন্স) বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচার শক্তি প্রয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে জোটভুক্ত ২৮টি দেশ মিয়ানমার সশ¯্র বাহিনীর প্রধান মিন অংসহ সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইউরোপে সব ধরনের আমন্ত্রণ স্থগিত করে দিয়েছে। এছাড়া মিয়ানমারের সাথে ইইউ’র সামরিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করা এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নে ব্যবহার করা যায়, এমন সব অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি মিয়ানমারে বিক্রির ওপর আগে থেকে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্বান্ত হয়। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরো পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি ইইউ বিবেচনায় রাখবে। আর পরিস্থিতির অগ্রগতি হলে ইইউ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়।

আসেমে অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সাথে চুক্তি সমঝোতার মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে চায়। এজন্য আসেম সম্মেলনে যোগ দেয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ২২ ও ২৩ নভেম্বর নেপিডো থেকে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেতা অং সান সু চি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর নেপিডো সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আসেমে যোগ দেয়ার আগে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ঢাকা সফরের পরিপ্রেক্ষিতে মাহমুদ আলী তার সফরটি পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।

আসেমের আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ১৫ নভেম্বর নেপিডো সফর করবেন। তিনি রাখাইন সঙ্কট নিরসনের উপায় নিয়ে মিয়ানমারের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলার পাশাপাশি দেশটির গণতান্ত্রিক উত্তরনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা জানাবেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.