ভারতকে আবার ভেবে দেখতে বলল চীন
ভারতকে আবার ভেবে দেখতে বলল চীন

ভারতকে আবার ভেবে দেখতে বলল চীন

রয়টার্স

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নিয়ে আপত্তি এড়ানো এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের সুবিধা নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) নিয়ে বিরোধ অবসান করার জন্য চীন ও ভারতের প্রতি রাশিয়ার আহ্বান জানানোর এক দিন পর তিনি নতুন এই প্রস্তাব দিলেন।


চীন জানায়, এই উদ্যোগের প্রতি ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে। রাশিয়ার উদ্যোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, বিআরআই নিয়ে ভারত বেশ দ্বিধাগ্রস্ত। আমরা বিআরআইয়ের ব্যাপারে উন্মুক্ত। বিআরআইজুড়ে থাকা দেশগুলোর জন্য প্রকল্পটি অনেক কল্যাণ বয়ে আনবে। আমরা অনেকবার বলেছি, সিপিইসি করিডোর একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা। এটি তৃতীয় কোনো দেশকে টার্গেট করে করা হয়নি। এতে ভূখণ্ডগত কোনো বিরোধ সম্পৃক্ত নয়।


গত মে মাসে বেইজিংয়ে বিআরআই শীর্ষ সম্মেলন যে কয়েকটি দেশ বয়কট করেছিল, তার অন্যতম ছিল ভারত। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপকে স্থল ও নৌপথে সংযুক্ত করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হলো বিআরআই। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মে মাসে জানিয়েছিল, কোনো দেশই তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার মতো মূল বিষয় অগ্রাহ্য করে ওবিওআর, সিপিইসিতে যোগ দিতে পারে না। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সদ্য সমাপ্ত ১৯তম জাতীয় কংগ্রেসে বিআরআইকে অন্যতম ভবিষ্যৎ ল্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিআরআইকে চীনা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করাটা ছোট কোনো বিষয় নয়, বিশেষ করে সিপিইসি নিয়ে ভারত ও চীনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে।


জেএনইউর স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক ড. শরন সিং বলেন, চীনা সংবিধানে বিআরআইয়ের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো তারা আরো প্রবলভাবে এটা বাস্তবায়ন করতে চাইবে। আমাদের বুঝতে হবে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে তার মতা আরো সুসংহত করেছেন। তার নাম এখন মাও সে তুং এবং দেং জিয়াও পিংয়ের কাতারে স্থান পেয়েছে। ভারত পুরোপুরি বিআরআইয়ের বাইরে নয়। তারা মেগা-অবকাঠামো প্রকল্পটির সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন আলোচনা ও ওয়ার্কিং গ্রুপে অংশ নিচ্ছে। তবে সিপিইসি নিয়ে তার আপত্তি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।


এই প্রকল্পটি গিলগিট-বাল্টিস্তান দিয়ে গেছে। এই স্থান নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। শরন সিং বলেন, চীনের জোরালো ঘোষণা সত্ত্বেও বাস্তবতা হলো অর্থনৈতিক করিডোরটি গেছে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মির দিয়ে এবং একে বলা হচ্ছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর। এটিই বেইজিংয়ের অবস্থান বদলে দিচ্ছে।

তুর্কি সাংবাদিকদের দুই মাসের জেল দিয়েছে মিয়ানমার

রয়টার্স

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন করপোরেশনের’ (টিআরটি) দুই সাংবাদিকসহ চারজনকে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন মিয়ানমারের আদালত। দেশটির পার্লামেন্টের ওপর দিয়ে ড্রোন চালানোর অভিযোগে শুক্রবার তাদের এ দণ্ড দেয়া হয় বলে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন।

গত ২৭ অক্টোবর রাজধানী নাইপেদোতে ড্রোনের মাধ্যমে ভিডিও ধারণের সময় এই চারজনকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। ২১ অক্টোবর তারা পেশাগত কাজে মিয়ানমার গিয়েছিলেন। গ্রেফতারের পর টিআরটির সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি মক চয় লিন, ক্যামেরাম্যান ল হং মেং, দোভাষী অং নেইং সোয় ও ড্রাইভার হিলা তিনের বিরুদ্ধে সংসদ ভবনের পাশে বিনা অনুমতিতে ড্রোন ওড়ানোর অভিযোগ আনা হয়। তবে তুরস্কের টিআরটি বলছে, সাংবাদিকেরা সেখানে কিছু ভিডিও ধারণ করবে এটি মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়কে আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু ভিডিও ধারণের জন্য ড্রোন উড়ানোর আগেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।

টিআরটি জানিয়েছে, দলটি দেশটির একজন এমপির সাাৎকার নেয়ার পর পার্লামেন্ট ভবনের চিত্র ধারণ করতে চাইছিল। টিআরটি আরো জানায়, পুলিশ স্থানীয় সাংবাদিক অং নাইং সুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে এবং তার কম্পিউটার ও হার্ডড্রাইভ জব্দ করেছে। আটকের পরপরই দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা যায় আটককৃতরা বিমান আইন ছাড়াও আমদানি-রফতানি আইন ভঙ্গ করেছেন। কিন্তু বিচারক ১৯৩৪ সালের বিমান আইনের একটি ধারাকে প্রাধান্য দিয়ে দুই মাসের সাজা দেন।

যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া ‘নিষিদ্ধ’ পণ্য আমদানির দায়ে দলটি অতিরিক্ত তিন বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারে বলে আইনজীবী জানিয়েছেন। ১৬ নভেম্বর এ নিয়ে বিচার শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবী খিন মং জো মনে করেন, বিদেশী হিসেবে মিয়ানমারের আইন না জানা স্বাভাবিক। এ জন্য তাদের কারাদণ্ড দেয়া সঠিক নয়; বরং জরিমানাই যুক্তিযুক্ত। তিনি বলেন, যেহেতু আসামিরা ভুল করেছে বলে স্বীকার করেছে সেহেতু তাদের জরিমানা হতে পারে। কারাদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। শিগগিরই আপিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

শুক্রবার রায় ঘোষণার আগে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আসলে কী হচ্ছে আমরা কিছুই জানি না। বন্দীদের তাদের পরিবারের সাথেও কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। কী আইনে কিভাবে বিচার হচ্ছে তাও আমাদের বিস্তারিত জানানো হয়নি। মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন নিয়ে দণি-পূর্ব এশীয় দেশটির সাথে তুরস্কের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.