উন্নয়নের জারিজুরি আর শিক্ষার নড়বড়ে ভিত
উন্নয়নের জারিজুরি আর শিক্ষার নড়বড়ে ভিত

উন্নয়নের জারিজুরি আর শিক্ষার নড়বড়ে ভিত

জি. মুনীর

শিক্ষা মানুষের অধিকার। এটি নিছক কোনো সুযোগের নাম নয়। শিক্ষার আরেকটি দিক আছে। শিক্ষা হচ্ছে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক অপরিহার্য উপাদান। কারণ- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন আর দারিদ্র্য কমিয়ে আনার বিষয়গুলো অনেকাংশে নির্ভরশীল সংশ্লিষ্ট দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর বাস্তবসম্মত প্রায়োগিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাত্রার ওপর। কে কত বেশি বছর ক্লাস করে কোন ডিগ্রি অর্জন করল, তা গৌণ হয়ে দাঁড়ায় যদি সে জ্ঞান ও দক্ষতা সময়োপযোগী না হয়। তাই আজকের তাগিদ, প্রায়োগিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে সমগ্র জনগোষ্ঠীকে। সে জন্যই এখন বলা হচ্ছে ‘এডুকেশন ফর অল’- সবার জন্য শিক্ষা। আর একই সাথে শিক্ষার কৌশলে তিনটি বিষয়ের কথা উচ্চারিত হচ্ছে- শিক্ষা খাতের বিনিয়োগে দেরি করা যাবে না, দক্ষতার সাথে এ বিনিয়োগ করতে হবে এবং বিনিয়োগ চাই সবার জন্য শিক্ষার লক্ষ্যে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অগ্রগতি, কৃষি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, দক্ষ জনপ্রশাসন, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি সব ধরনের উন্নয়নের বীজ রোপিত আছে মানুষের মনে। তাই উন্নয়ন চাইলে প্রথমেই চাই মানসিক তথা মেধার বিকাশ। শিক্ষা ছাড়া তো আর মেধার বিকাশ হয় না। যেসব দেশ উন্নয়ন আর অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চায়, তাদের মনোযোগী হতে হবে মানবমনের অমিত সম্ভাবনা উদঘাটনে। আর এ ক্ষেত্রে উত্তম হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা। সে দিকটি বিবেচনা করেই হয়তো বলা হয়- শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। 

শিক্ষার অর্থনৈতিক গুরুত্বকে আরো সুনির্দিষ্ট করতে এখন বলা হচ্ছে- বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৭০০ কোটিতে পৌঁছেছে, কিন্তু বিশ্বে রয়েছে সম্পদের সীমাবদ্ধতা। তাই ব্যক্তিক, সামাজিক ও বৈশ্বিকভাবে সবাই মিলে আমাদের রপ্ত করতে হবে টেকসই বসবাসের উপায়। সেজন্য সামনে আসছে নতুন ধারণা : ‘এডুকেশন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’। সংক্ষেপে ইএসডি। এর সারকথা হচ্ছে, দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে- যাতে এরা ভাবতে পারে, পদক্ষেপ নিতে পারে নিজেদের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য। ইউনেস্কো বিশেষ করে এ ধারণার পৃষ্ঠপোষকতায় নেমেছে। তবে গোটা বিশ্বই এই ইএসডির গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েছে। বলা হচ্ছে, ইএসডি হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য উপাদান।

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়নের অংশীদারেরা একসাথে মিলিত হয়েছিলেন অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিক্ষার গুরুত্বের বিষয়টির ওপর জোরালো সমর্থন ঘোষণা করতে। সেখানে এরা অর্থনীতির উন্নয়ন, আরো সম্প্রসারিত অর্থে মানবজীবনের উন্নয়নের জন্য ‘এডুকেশন ফর অল’ নামের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। এটি ঠিক, এর ফলে বিদ্যালয়ে ছাত্র ভর্তির হার বেড়েছে বিশ্বজুড়ে। এটাকেই আমাদের দেশসহ অনেক দেশের সরকারপক্ষ শিক্ষার উন্নয়ন বলে জোরালো প্রচার চালায়, কিন্তু বৈশ্বিকভাবে এবং অনেক দেশের শিক্ষার মান ও সার্বিক চিত্র এখনো রয়ে গেছে হতাশাজনক।

হতাশাজনক বৈশ্বিক চিত্র হচ্ছে- এখনো বিশ্বের পাঁচ কোটি ৯০ লাখ শিশু ও পাঁচ কোটি ৬০ লাখ কিশোর-কিশোরী স্কুলের বাইরে। ১২ কোটি শিশু শেষ করতে পারেনি প্রাথমিক শিক্ষা। এই পরিসংখ্যানের পেছনের সত্যিটা হচ্ছে, আমরা এসব শিশু-কিশোরের শুধু শিক্ষার অধিকারকেই অস্বীকার করছি না, একই সাথে তাদের কাক্সিক্ষত চাকরি বা কাজের অধিকার বা সুযোগকেও অস্বীকার করছি। তাদেরকে দারিদ্র্যের বৃত্ত থেকে বের করে আনার ব্যক্তিক, সামাজিক, জাতীয় ও বৈশ্বিক দায়িত্বকে অস্বীকার করছি।

যেকোনো দেশের কাক্সিক্ষত শিক্ষার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাইলে অভিযান শুরু করতে হতে হয় গোড়া থেকেই। কিন্তু আমাদের দেশের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক চিত্র বিবেচনায় আনলে দেখা যায়, সেই ভিত্তিস্তরের শিক্ষায় রয়েছে বড় ধরনের গলদ। আমরা কথায় কথায় উন্নয়নের ফানুস উড়াই। প্রতিদিন চলে উন্নয়নের জারিজুরি। কিন্তু উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি তথা চালিকাশক্তি যে শিক্ষা, তার ভিত হচ্ছে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা। সেই প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে আছে আমাদের সীমাহীন অবহেলা। সম্প্রতি সহযোগী জাতীয় দৈনিক আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক শিক্ষাচিত্র তুলে ধরে ‘শিক্ষার গোড়ায় গলদ’ শিরোনামে একটি সুদীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদন সূত্রে পাওয়া দেশের প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র সত্যিই মর্মপীড়াদায়ক ও উদ্বেগজনক। মনে হয়, আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলেরা আত্মপ্রচারে যে সময় ব্যয় করেন, এর অর্ধেক প্রয়াসও নেই সত্যিকারের শিক্ষা উন্নয়নের পেছনে। তা না হলে আজকে আমাদের সার্বিক প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র ভিন্ন থাকত, হতো না এতটা হতাশাজনক।

প্রতিবেদনটির মতে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৪ হাজার। এতে পড়ালেখা করছে দেশের এক কোটি ৯৫ লাখ শিশু। চরম শিক্ষক সঙ্কটে ভুগছে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। ৬৪ হাজার স্কুলেই রয়েছে শিক্ষকের পদ শূন্য। প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ২১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ১৭ হাজার। প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২৬ হাজার। এ ছাড়া ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া ২৬ হাজার বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও দীর্ঘ দিন আটকে আছে। ফলে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষক। সব মিলিয়ে ৬৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় ৬৪ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

জানা যায়, দেশের বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিক্ষক রয়েছেন চারজন। এর মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তা ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষক নারী হওয়ায় মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ নানাভাবে একজন থাকেন ছুটিতে। ফলে একজন শিক্ষককেই কার্যত স্কুল চালাতে হয়। ফলে কোনো স্কুলে দু-তিন ক্লাসের শিক্ষার্থীকে একসাথে পড়াতে হয়। অনেক স্কুলে দু-একটি ক্লাস করেই ছুটি দিতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও শিগগিরই সে সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না। কারণ, এ পদটি এরই মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। ফলে এ পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেয়ার দায়িত্ব এখন পিএসসির। পদোন্নতির জন্য জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট অধিদফতর। আর নতুন নিয়োগেও ধীরগতি আছে পিএসসির। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের আগস্টে ৩৪তম বিসিএস থেকে ৮৯৮ জনকে সুপারিশ করে পিএসসি। এখনো তাদের সবাইকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো শিক্ষকদের যোগ্যতার ঘাটতি। জানা যায়, আমাদের প্রাথমিক স্কুলগুলোর দেড় লাখ শিক্ষকেরই রয়েছে যোগ্যতার ঘাটতি। প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হারের দিক থেকেও আমরা পিছিয়ে আছি আশপাশের দেশগুলো থেকে। আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের মাত্র ৫৮ শতাংশকে প্রশিক্ষিত করতে পেরেছি, অথচ এই হার মিয়ানমারে ১০০ শতাংশ, নেপালে ৯০ শতাংশ, পাকিস্তানে ৮২ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৮২ শতাংশ ও মালদ্বীপে ৭৮ শতাংশ।
সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে সরকারের শিক্ষা উন্নয়নের প্রচার-প্রচারণা সীমাহীন। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও আমাদের পিছিয়ে থাকা উদ্বেগজনক। বাস্তবে দেখা গেছে, সৃজনশীল বা যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন পুরোপুরি বোঝেন না আমাদের ১৩ শতাংশ শিক্ষক। নিজে বুঝলেও ক্লাসে বোঝাতে পারেন না ৪২ শতাংশ শিক্ষক। বোঝেন মাত্র ৪৫ শতাংশ শিক্ষক। গাইড বইয়ের ওপর নির্ভর করেন ৪৭ শতাংশ শিক্ষক।
অর্ধেক স্কুলেই রয়েছে অবকাঠামোগত সমস্যা। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অনেক ভবনের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে কক্ষের ভেতর। অনেক স্কুলের টিনের ঘরের চালে ফুটো, বেড়া ভাঙা। বৃষ্টি হলেই ভিজে শিক্ষার্থীদের বইখাতা। অনেক স্কুলঘর টিকে আছে নড়বড়ে অবস্থায়। এমন জরাজীর্ণ অবস্থায় চলছে দেশের ১০ হাজার স্কুল। জরাজীর্ণ এসব ভবনে ঝুঁকির মুখে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। পত্রপত্রিকায় মাঝে মধ্যেই ছবি ছাপা হয়, অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীরা স্কুলভবন বা স্কুলঘর ছেড়ে ক্লাস করছে গাছতলায়। একমাত্র সুনামগঞ্জ জেলার সাতটি স্কুলেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে খোলা আকাশের নিচে। মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রেণিকক্ষ বা স্কুলভবন সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য অধিদফতর বারবার তাগিদ দিলেও তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না।

উল্লিখিত প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়- বহুমুখী সঙ্কটে হাবুডুবু খাচ্ছে হাওরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা। পানিবেষ্টিত ভিন্ন প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের এই অঞ্চলের জন্য স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা নানা পরামর্শ-পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিরা হাওরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আলাদা শিক্ষানীতি-পরিকল্পনা দাবি করছেন। কিন্তু যুগ যুগ ধরে উচ্চারিত এসব সুপারিশ ও দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে। হাওর জেলা সুনামগঞ্জের ১৬৬টি গ্রামে এখনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য এ জেলায় উপজেলাপর্যায়ের ৬১ জন সহকারী উপজেলা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও ৩৭ জনের পদ শূন্য। প্রায় ৬০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ৩৯৩টি পদ শূন্য। জেলার সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে খোলা আকাশের নিচে। জেলার ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন পরিত্যক্ত। বেশির ভাগ স্কুলের সাথে সড়ক যোগাযোগ নেই। বর্ষায় দ্বীপগ্রামের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এসব বিদ্যালয়ে নৌকায় করে যেতে হয়। প্রতি বছর হাওর এলাকায় নৌকাডুবিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি ঘটে।

এখনো দেশের প্রাথমিক স্কুলের ৮৩ শতাংশ শিশুই স্কুল ফিডিংয়ের বাইরে। যে ১৭ শতাংশ স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে, তারাও পাচ্ছে না উপযোগী খাবার। আমাদের দেশের মানুষ মূলত রান্না করা খাবারে অভ্যস্ত। গ্রামের পরিবারগুলোর শতভাগই রান্না করা খাবার খায়। কিন্তু দেশে ঝরে পড়া কমাতে চালু হওয়া স্কুল ফিডিংয়ে শিক্ষার্থীদের রান্না করা খাবারের বদলে দেয়া হচ্ছে শুকনো বিস্কুট। প্রতিদিন এ খাবারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একগুঁয়েমি দেখা দেয়। ফলে ঝরে পড়া কমছে না। আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটানসহ প্রায় সব দেশেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ে রান্না করা খাবার দেয়া হয়। এই স্কুল ফিডিং নিয়ে নানা দুর্নীতির অভিযোগও আছে।

প্রাথমিক শিক্ষাকে ঘিরে নানা দুর্নীতির খবর তো আমরা হরহামেশাই পাই পত্রিকার মাধ্যমে। শিক্ষক নিবন্ধন, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে দুর্নীতি বহুল আলোচিত ব্যাপার। গত শনিবারের একটি জাতীয় দৈনিক সূত্রে জানা গেল, প্রাথমিকে মেধাবৃত্তি নিয়েও নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে যোগ্য শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের বৃত্তি পাইয়ে দেয়ার বহু অভিযোগ থানা শিক্ষাকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তদন্তেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে প্রভাবশালীদের সন্তান ছাড়াও নিজেদের সন্তানের বৃত্তি পাইয়ে দেয়ার অভিযোগের সত্যতা ধরা পড়েছে এসব শিক্ষাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সচেতন অভিভাবকদের অভিযোগের পর বেশ কিছু জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়লেও খুব কম ক্ষেত্রেই দোষীদের শাস্তি দেয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে।

আসলে আমাদের শিক্ষার ভিত্তিস্তরের গোড়ায় যে এতসব গলদ, এর বিষবাষ্প শিক্ষার পরবর্তী স্তরেও ছড়িয়ে পড়ছে। মাধ্যমিক শিক্ষার স্তরের দুর্নীতির তো মা-বাপ নেই। উচ্চশিক্ষা স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে ভর্তিবাণিজ্যসহ রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি স্থায়ী বাসা বেঁধে বসে আছে। দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার গলদগুলো সারানোর দায়িত্ব যাদের, তাদের নেতিবাচক ভূমিকাই আজ আমাদের শিক্ষার ভিতকে, সেই সাথে গোটা শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকেই নড়বড়ে করে তুলছে। অথচ এই সত্যটুকুও আমরা স্বীকার করতে চাই না। এসব গলদ সারিয়ে তোলার বদলে এগুলো লুকিয়ে রেখে এমন ভাব দেখাতে চাই, যেন আমরা শিক্ষার উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক অর্জন করে ফেলেছি। শিক্ষা উন্নয়নে অর্জন করার মতো আর কিছুই আমাদের বাকি নেই। এটি আসলে এক ধরনের উন্নাসিকতা। এ থেকে আমরা যত দ্রুত বেরিয়ে এসে বাস্তব দুর্বলতাগুলো সারানোর প্রয়াসে প্রয়াসী হবো, ততই মঙ্গল। সে উপলব্ধি আসুক আমাদের সবার মাঝে, সেই তাগিদের লক্ষ্যেই এই লেখা।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.