সাবাস জার্মানি, সুন্দর তোমাদের গ্রামগুলো!
সাবাস জার্মানি, সুন্দর তোমাদের গ্রামগুলো!

সাবাস জার্মানি, সুন্দর তোমাদের গ্রামগুলো!

মো: মনির হোসেন

১. জার্মানি এসেছি মাত্র এক মাস হলো। এখানে একটি বিষয় খুবই ভালো লাগছে
যে, যেখানেই যাই না কেন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় শিখছি। যেমন- আজকে বের হলাম
আমার পাশের এলাকাটা ঘুরে দেখতে। দেখলাম ছোট ছোট ডু-প্লেক্স বাড়ি। প্রত্যেকের বাড়ির সামনে একটি ছোট ফুল বাগান। অধিকাংশ বাড়িতেই কমপক্ষে একটি কুকুর আছে। ঘরে আলো প্রবেশের জন্য ছাউনির উপরে জানালার মতো করে কাঁচের ঢাকনা। আবার অনেকে বাসার ছাউনির উপরে এক সারিতে সোলার প্যানেল স্থাপন করেছে।

২. এই মুহূর্তে জার্মানি Renewable Energy-কে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের মোট ৩০% শক্তি উৎপাদিত হয় এ পদ্ধতিতে। বাংলাদেশের গ্রামে অনেক বাড়িতে সোলার প্যানেল দেখা গেলেও শহরে তেমন দেখা যায় না। আবার কেউ যদি বলে আমাদের বাসায় সৌরপ্যানেল আছে, অনেকে বিষয়টিকে খাটো করে দেখে। কিন্তু আমরা চাইলেই বিদ্যুতের পাশাপাশি সৌরপ্যানেল স্থাপন করতে পারি।

আরেকটি বিষয় হলো- বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধির বিষয়ে আমার মনে হয় জার্মানরা অনেক পাকা। ছুটির দিন পেয়ে কেউ ফুল গাছ লাগাচ্ছে। কেউ গাছের বর্ধনশীল পাতা কাটছে, কেউবা মেশিন দিয়ে ঘাস সমান করছে। এছাড়া উঠানের একপাশে ছোট একটা দোলনা ঘরের সৌন্দর্যকে বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। মা-বাবা তার সন্তানদের নিয়ে ফুটবল খেলছে। সাথে কুকুরের বাচ্চাটাও।

৩. আমার পাশের এই এলাকাটি একটা স্মার্ট গ্রাম। হেটে যেতে ১০-১৫ মিনিট সময় লাগে। এত সুন্দর করে এরা প্রত্যেকে বাড়িটাকে সাজিয়েছে, মনেহয় এটা একটা পর্যটন কেন্দ্র। বাংলাদেশেও আমরা যদি আমাদের গ্রামের বাড়িগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখি, তাহলে গ্রামগুলো হয়ে উঠতে পারে বিদেশী-পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। কেননা আমাদের দেশে একেক এলাকার ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি। তাই ঘর সাজানোর স্টাইলও ভিন্ন ধরনের হবে। সাথে যদি থাকে একটু আধুনিকতার ছোঁয়া- তাহলে তো কথাই নেই। পৃথিবী থেকে পর্যটক আসবে বাংলাদেশের গ্রাম দেখতে। পর্যটন কর্পোরেশন ব্রান্ডিং করবে--Come to Bangladesh! Visit our smart villages!

৪. সময়টা ছিল বিকেলবেলা। অনেক বয়স্ক নারী-পুরুষ দুজন-দুজনার হাত ধরে সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে খোশগল্প করতে করতে হেঁটে যাচ্ছে। এই বয়সে আমাদের দেশের নানা-নানী অথবা দাদা-দাদীরা হয়তো বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর জন্য দিন গুনছে। যারা সুস্থ আছে তারা নাতি-পুতি নিয়ে ব্যস্ত। তাদের মধ্য এ বয়সে এমন ভালোবাসা আর রোমান্টিকতা খুবই কম দেখা যায়। একবার দাদীকে বলেছিলাম-
-দাদী! দাদাকে নিয়ে একটু ঘুরে আসো।
- দাদীর জবাব- বুড়া বয়সে আবার ঢং! তোমার দাদার মতো আমার মনে এত প্রেম নাই। লাগলে আরেকটা বিয়ে করতে কও।

এলাকার অধিকাংশের ঘরের জানালায় রঙ-বেরঙের ফুল শোভা পায়। যা দেখে আপনার মন ভরে উঠবেই। আপনি হয়তো ভাববেন- আহা! এমন একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি যদি থাকত।

সন্ধ্যা হয়ে গেছে বাড়িগুলো দেখতে দেখতে চলে এলাম এক ঘোড়ার খামারের পাশে। ঘোড়ার কয়েকটি ছবি তুলতেই হঠাৎ মেও...মেও...। কিরে এতো বিড়াল। অনেক সুন্দর বিড়াল পিঠটা কালো আর বুকটা সাদা। আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল। মনেমনে বললাম- ভাই আমি জার্মান ভালো পারি না। পারলে তোর সাথে কথা বলতাম।

৫. এবার খেয়েছি ধরা! রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। সামনে বড় বড় গাছের বিশাল এক বাগান। হঠাৎ এক ভাইয়ের পরামর্শ মনে পড়ল-‌ 'সাবধানে মর্নিং ওয়াকে যাইয়েন, জংগলে কিন্তু শেয়াল আছে। খুবই ভয়ংকর, মানুষকে পর্যন্ত তাড়া করে।'

তাড়াতাড়ি গুগলম্যাপ চালু করলাম, দেখি আর কিছুখন হাটলেই সামনে টিয়ারপার্ক (চিড়িয়াখানা)। তাড়াতাড়ি গন্তব্যের দিকে রওনা দিলাম। সামনে আরেকটা সুন্দর বাড়ি। ভাবলাম দেখেই যাই। ঘরের সামনে যেতেই ঘেউঘেউ।
ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি। এত ভয় কখনো পাইনি। বড় কুকুরের থ্রেড বলে কথা। আমি চলে যাওয়া পর্যন্ত আমাকে ফলোআপে রাখল। সাথে পাসপোর্ট ছিল না, থাকলে দেখাইতাম। বলতাম- বেটা চিল্লাইস না বৈধ পাসপোর্ট আছে!
আমাকে দেখেই চার-পাচটা পিচ্চি ছেলে-মেয়ে ছুটে আসল। ওদেরকে হাত দিয়ে বাই-বাই বলে বিদায় নিলাম।

সাবাস জার্মানি! সুন্দর তোমাদের গ্রামগুলো! আর তোমাদের রুরাল প্লানিং!

স্থান: সাক্সেন্ড্রফ, কোটবুস (তাং-০৫/১১/২০১৭)

লেখক : মো: মনির হোসেন
মাস্টার্স ইন এনভাইরোনমেন্টাল অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট।
ব্রান্ডেনবুর্গ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলোজি
কোটবুস, জার্মানি
ইমেইল : MohammadMonir.Hossen@b-tu.de

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.