কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

দশ.

পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। দেহের একটা পেশিও যেন নড়াতে পারছি না। বুঝতে পারছি পালানো দরকার, কিন্তু কোথায় পালাব? বেজমেন্টে নামতে পারি, কিন্তু ওখান থেকে বেরোনোর কোনো পথ নেই। আর সামনে দিয়ে গেলে ওই ভয়ঙ্কর ভুতুড়ে মূর্তিটার পাশ কাটাতে হবে।
‘কী হলো তোমার, রবিন!’ অন্ধকারে কিটুর চিৎকার শোনা গেল।
‘কিটু?’ বিশ্বাস করতে পারছি না। ‘তুমি?’
‘হ্যাঁ, আমি,’ অন্ধকারে খিলখিল করে হেসে উঠল কিটু। ‘ভয় পেয়েছ? তোমাকে বলেছি না, খেলব আমরা? এভাবে সেজে ভয় দেখানো আমার কাছে একটা খেলা?’
দুই হাতে বুক চেপে ধরলাম। ‘কখন বললে ভয় দেখানোটা তোমার কাছে খেলা? আমি ভেবেছি, ক্যারম, লুডু...।’
বাধা দিয়ে বলল কিটু, ‘আমার এই কালো আলখেল্লাটা মা বানিয়ে দিয়েছে। এটা পরে, মুখে মেকআপ করে ড্রাকুলা সেজেছি। ড্রাকুলা চেনো তো, রক্তচোষা ভূত।’
চিনি। কিন্তু জবাব দিলাম না।
হাঁটুতে জোর পাচ্ছি না। আপনিই ভাঁজ হয়ে গেল। বসে পড়লাম সিঁড়িতে। কয়েকবার ঘন ঘন দম নিয়ে কোনোমতে বললাম, ‘কিটু, টর্চটা ভেঙে গেছে। মোমবাতি আছে?’
‘আছে,’ জবাব দিলো কিটু। ‘ম্যাচও আছে, কিন্তু সেগুলো আমার ধরা নিষেধ। মা বলে, আগুন খুবই বিপজ্জনক জিনিস।’
ক্লান্তস্বরে বললাম, ‘চলো, আমিই ধরাব।’
আবার আমাকে রান্নাঘরে নিয়ে এলো কিটু। যে ড্রয়ার থেকে টর্চ বের করেছিল, টান দিয়ে সেটা খুলল। বলল, ‘এখানেই আছে।’
হাতড়ে বের করলাম একটা দিয়াশলাই আর একটা পোড়া মোমবাতির গোড়া।
(চলবে)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.