খঙলং

খেতে খেতে পাহাড় বা জঙ্গলের যেখানেই গরু চলে যাক না কেন, ওই ঘণ্টার শব্দ শুনেই গৃহস্থ সহজে বুঝতে পারেন তার গরুটি কোথায় আছে। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ঘণ্টার আওয়াজ শুনে গৃহস্থ সেখানে গিয়ে হাজির হন এবং গরুকে বাড়ি নিয়ে আসেন। ঘণ্টাসদৃশ এই বস্তুটিকেই মারমা ভাষায় বলা হয় ‘খঙলং’, চাকমা ভাষায় ‘ঘণ্টি’।
লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয় রায়

পাহাড়ি উপজাতিদের অনেকেই গরু পালন করেন। সেসব গরু মুক্তভাবে পাহাড়ের ঢালে চরে বেড়ায়, ঘাসলতা খেয়ে বড় হয়। সেসব গরু কখনো একসাথে অনেক পাল ধরে বের হয় না আর গরুকে গলায় রশি দিয়ে খুঁটার সাথে কখনো এক জায়গায় বেঁধে রাখা হয় না। তাই গৃহস্থের পক্ষে খেয়াল রাখা সম্ভব হয় না যে, গরু চরতে চরতে কোথায় গেল। সে জন্য তারা গরুর গলায় একধরনের ঘণ্টা বেঁধে দেন। গরু ঘাস খাওয়ার সময় মাথা নাড়ে আর তাতে গলার ঘণ্টা বাজতে থাকে। খেতে খেতে পাহাড় বা জঙ্গলের যেখানেই গরু চলে যাক না কেন, ওই ঘণ্টার শব্দ শুনেই গৃহস্থ সহজে বুঝতে পারেন তার গরুটি কোথায় আছে। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ঘণ্টার আওয়াজ শুনে গৃহস্থ সেখানে গিয়ে হাজির হন এবং গরুকে বাড়ি নিয়ে আসেন। ঘণ্টাসদৃশ এই বস্তুটিকেই মারমা ভাষায় বলা হয় ‘খঙলং’, চাকমা ভাষায় ‘ঘণ্টি’।
কাঠ বা বাঁশ দিয়ে খঙলং তৈরি করা হয়। ছয় থেকে আট ইঞ্চি লম্বা ও আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি চওড়া এক টুকরো কাঠের এক দিকে খোদাই করে বাক্সের মতো বানানো হয়। তার ভেতরে দুই থেকে তিনটি কাঠের বা বাঁশের কাঠি রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। বাঁশের তৈরি খঙলংয়ে খোদাই করে ফাঁকা করতে হয় না, বাঁশের দু’টি গিঁটের মধ্যবর্তী অংশই খঙলং তৈরির জন্য ব্যবহার হয়। তবে এক দিক কেটে কাঠি লাগানোর জায়গা বের করা হয়। একটা মোটা রশি দিয়ে তা গরুর গলায় বেঁধে দেয়া হয়। কাঠের তৈরী খঙলংয়ের একধরনের আওয়াজ, বাঁশের খঙলং বাজে অন্য সুরে। মজার ব্যাপার হলো, সাধারণত কোনো খঙলংয়ের শব্দই হুবহু এক হয় না। শব্দের এই সূক্ষ্ম পার্থক্যের সূত্র ধরেই গৃহস্থ তার গরুকে ঠিকই খুঁজে নেন। পাহাড়ি জনপদে বহুকাল আগে থেকেই খঙলং ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি উপজাতিদের একধরনের গার্হস্থ্য উপকরণগত ঐতিহ্য। এটি তারা নিজেরাই তৈরি করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.