শীতে ত্বকের যতœ : রূপ কথা

নিপা আহমেদ

ত্বকের শুষ্ক টানটান ভাব শীতের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। শীত পুরোপুরি আসার আগেই ত্বক নিজ থেকেই এভাবে জানিয়ে দেয় যে, ত্বকে আর্দ্রতার ঘাটতি পড়েছে। রুক্ষ, মলিন, বিবর্ণ ত্বক খুবই অস্বস্তিকর। ত্বকের রঙ যা-ই হোক, মসৃণ, কোমল ত্বকের জন্য এই শীতে প্রয়োজন বিশেষ যতœ। কর্মব্যস্ত দিনের শুরুতে ও শেষে ত্বক পরিচর্যার জন্য একটু সময় হাতে রাখুন। বেয়ার বিজ বডি ওয়েক্স এন্ড বিউটি স্যালনের বিউটি এক্সপার্ট শারমিন সেলিম তুলি জানাচ্ছেন এই সময়ের ত্বকের পরিচর্যা বিষয়ে।
ত্বক পরিষ্কার রাখুন
ধুলোবালির মুখোমুখি হতে হয় না এমন মানুষ খুবই কম। প্রায় সবাইকে ঘরের বাইরে যেতে হয়। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কারের ওপর ত্বকের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে। শুষ্ক ত্বক শীত শুরু হতে-না-হতেই বিড়ম্বনায় ফেলে। এ ধরনের ত্বক ক্লিন করতে ময়দা, বেসন বা ক্লিনজিং মিল্ক বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকে এ সময় ফেসওয়াশ ব্যবহার করা প্রয়োজন। সাবান যত কম ব্যবহার করা যায় ততই ভালো। ক্লিনজিং ত্বকে লাগিয়ে ম্যাসাজ করার পর তুলা বা টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে ফেলুন। ত্বকের ক্লিনজিং করার পর টোনিং প্রয়োজন। টোনার বা স্কিন টনিক হিসেবে শসা আলু ও পাতিলেবুর রস একসাথে নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। ডিমের সাদা অংশ এবং মুলতানি মাটি দিয়ে ঘরোয়া টোনার তৈরি করে নিতে পারেন। রোদে পোড়া দাগ তুলতে পাকা টমেটোর রস বেশ কাজ করে। মুখমণ্ডল পরিষ্কার করলে লোমকূপের ময়লাও পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ থাকে। দিনে অন্তত দুবার ত্বক পরিষ্কার করা উচিত। বেসন ও মধু মিশিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতেও ক্লিনজিং করতে পারেন। ফেসপ্যাক ব্যবহারের পর মুখমণ্ডল ধোয়ার ক্ষেত্রে একদম ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার না করে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তুলসীপাতা বা নিমপাতা সেদ্ধ গরম পানিতে মুখে ভাপ নিতে পারেন। দিনে বাইরে বের হওয়ার আগে ক্লিনজিংয়ের পর ময়েশ্চারযুক্ত সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন। দিনে গ্লিসারিন, অলিভ অয়েল ব্যবহার না করাই ভালো। মাসে অন্তত একবার বিউটি সেলুন থেকে ফেসিয়াল করে নিলে ভালো হয়।
হাত ও পায়ের যতœ
মুখমণ্ডলের মতো হাত, পা ও সারা শরীরের ত্বক ও প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়। ক্লিনজিং করার পর ত্বকে টানটান ভাব চলে আসে। ক্লিনজিংয়ের পরপরই ময়েশ্চারাইজিং করে নিন। দিনে বাইরে যাওয়ার আগে, ক্লিনজিংয়ের পর ময়েশ্চারযুক্ত সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন। পাকা কলা, মুলতানি মাটি ও কমলা লেবুর রস মিশিয়েও পেস্ট করে হাতে পায়ে লাগাতে পারেন। গোসলের সময় কুসুম গরম পানি বা স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত গরম পানিতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। গোসলের পানিতে গোলাপজল মিশিয়ে নিতে পারেন। তাহলে গোসলের পর সুগন্ধ ঘিরে থাকবে সারাক্ষণ। হাত-পায়ের পরিচর্যায় পেডিকিউর ও মেনিকিউর সব ঋতুতেই দরকার। এ সময় অনেকের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়। প্রতিদিন গোসলের সময় পায়ের গোড়ালি পরিষ্কার করুন। এ ক্ষেত্রে বাথরুমে একটি পিউমিস স্টোন রেখে দিন। সপ্তাহে এক দিন পেডিকিউর ও মেনিকিউর আপনার হাত-পায়ে দেবে বাড়তি সুরক্ষা।
ত্বকের যতেœ ময়েশ্চারাইজিং
ত্বকে ময়েশ্চারের অভাব হলে চলবে না। শুষ্ক ত্বকে স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। ময়েশ্চারাইজার বাতাসের জলীয়বাষ্প টেনে নিয়ে আপনার ত্বকে ফিরিয়ে দেবে কোমল সজীবতা। মেকআপ করার আগে অল্প পরিমানে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ১০ মিনিট পর মেকআপ শুরু করুন। মুখমণ্ডলের ময়শ্চারাইজার হিসেবে এ সময় কোনো ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করুন। হাত ও পায়ের ত্বকে গ্লিসারিন, গোলাপজল বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে সন্ধ্যার পর লাগাতে পারেন। অলিভ অয়েলের সাথে মধু মিশিয়ে লাগাতে পারেন। ত্বকে লাগানোর পর ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.