উৎসবে এবার সুতি : রঙের ঝলক

সাবিরা সুলতানা

আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে সুতির কাপড় ও সুতা। মুখ মোছার গামছা বা তোয়ালে থেকে শুরু করে আরামদায়ক পোশাক, ব্লু জিনস থেকে শুরু করে জুতাÑ গৃহস্থালির কোনায় কোনায় ছড়িয়ে আছে সুতির কাপড়ের ব্যবহার। অনুমান করা হয়, প্রায় সাত হাজার বছরের পুরনো সুতির ইতিহাস। মেক্সিকোর এক গুহায় পাওয়া যাওয়া সুতি কাপড়ের একটি টুকরা থেকে। অন্য দিকে, একই সময়ে ইন্ডোস ভ্যালি, নীল নদীর অববাহিকাতেও সুতির কাপড় পাওয়া যেত। হাতেবোনা সুতির কাপড় এখনো এ অঞ্চলে অনেকের উপার্জনের অবলম্বন। সময়ের পরিবর্তনের সাথে আরো অনেক ধরনের কাপড় এসেছে। সেগুলো লোকজন গ্রহণও করেছে। কিন্তু উৎসবের পোশাক হিসেবে সুতির কাপড় যেন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। উৎসব, পার্বণ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও বেছে নেয়া যায় সুতির পোশাক। এর জন্য প্রয়োজন মানসিকতা। সেই সাথে থাকতে হবে পোশাক নির্বাচনে দক্ষতা। অনুষ্ঠানের ধরন বুঝে নির্বাচন করুন পোশাকের রঙ ও ডিজাইন।
পোশাক নির্বাচনে আবহাওয়া ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে সুতি জাতীয় পোশাক তাই বেশি ব্যবহার করা হয়। সুতির পোশাক যেমন আরামদায়ক তেমনি রক্ষণাবেক্ষণ করাও সহজ। তবে সুতি কাপড় মূলত ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবেই বেশি ব্যবহার করতে দেখা যায়।
উৎসবের পোশাক হিসেবে সুতি কিভাবে বাছাই করবেন, সেই বিষয়ে অঞ্জন’স-এর প্রধান নির্বাহী শাহীন আহমেদ বলেন, একটা সময় ছিল যখন উৎসবগুলোতে কী পোশাক পড়বে তা নিয়ে ভাবা হতো না। কিন্তু সময়ের প্রেক্ষাপটে ফ্যাশন-সচেতন মানুষ এখন চিন্তাভাবনা করে পোশাক পরে থাকে। উৎসবগুলোতে ফ্যাশন সচেতন মানুষ স্টাইলের সাথে আরামের বিষয়টিও মাথায় রাখে। আমাদের দেশে যেহেতু গরমকাল দীর্ঘ হয় তাই আমাদের পোশাকের রেঞ্জে সুতির কাপড়কেই প্রাধান্য দেয়া হয়। ঈদ, পয়লা বৈশাখের মতো উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা সুতির ওপর অসংখ্য জমকালো নকশায় পোশাক তৈরি করে থাকি। এগুলোর মধ্যে শাড়ি, সালোয়ার, কামিজ, পাঞ্জাবি, লং কামিজ-ওড়না ও ছোটদের পোশাকসহ সব ধরনের পোশাকই রয়েছে। এগুলোর প্রতিটির ডিজাইনে রয়েছে ভিন্নতা। উৎসবগুলোতে বিষয়কে চিন্তা করে থিমভিত্তিক ডিজাইন করা হয়। উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তুলতে জমকালো কারুকাজের নকশাও ফুটিয়ে তোলা হয়। ব্যবহার করা হয় নানা অ্যাক্সেসরিজ। সোনালি ও রুপালিসহ বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করা হয়। গরমে যেকোনো পার্টি, বিয়ে বা উৎসবে সহজেই বেছে নেয়া যায় সুতির পোশাক। অনুষ্ঠান অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করলে যেকোনো উৎসবে সুতির পোশাকেও হয়ে উঠবে অনন্য।
সুতির কাপড়ের মধ্যে রয়েছেÑ এন্ডি কটন, স্লাব কটন, তাঁত কটন ও লিনেন কটন। এছাড়া খুব পাতলা ভয়েল কাপড়ও ব্যবহার হয়ে থাকে।
গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হওয়ায় পোশাকের নকশা রঙ বৈচিত্র্যের সাথে আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকটিও মাথায় রাখতে হবে। ফেব্রিক হিসেবে সুতিকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ তাদের কালেকশন সমৃদ্ধ করে। ঈদ, বিভিন্ন উৎসব, গায়ে হলুদ বিয়েসহ নানা রকম উৎসব যেমনÑ পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে জনপ্রিয়তা পেয়েছে সুতির তৈরি পোশাকগুলো। আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও সুতির পোশাক পরতে দেখা যায়। ফ্যাশন হাউজগুলোতে সুতির পোশাকের বিপুল কালেকশন দেখা যায়। সুতির পোশাককে রাতের অনুষ্ঠান কিংবা বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন ও উৎসব জাতীয় অনুষ্ঠানে পরার জন্য এর রঙ নকশায় প্রাধান্য দেয়া হয়। উজ্জ্বল রঙ, এম্বয়ডারি, হাতের কাজ, জমকালো লেস, সুতি, স্টোন, পার্ল, ঝালর, টার্সেল, ব্লক, এপলিকের সমন্বয়ে তৈরী শাড়ি কিংবা সালোয়ার কামিজগুলো যেকোনো অনুষ্ঠানে পরার উপযোগী।
সুতির পোশাকের সাথে সাজটা কেমন হবে এবিষয়ে রূপবিশেষজ্ঞ আমিনা হক বলেন, সুতির পোশাকের সাথে হালকা সাজ বেশি মানায়। উৎসবের ধরণ অনুযায়ী মেকআপ নিতে হবে। গয়না হিসাবে বিডস, পার্ল, মেটালের গয়না সুতির পোশাকের সাথে বেশি মানানসই। পোশাকের সাথে মিলিয়ে ব্যাগ ও জুতা নির্বাচন করুন। এভাবে সুতির পোশাকেও একজন হয়ে উঠবে আকর্ষণীয়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.