ব্যাংকিং খাতে সংশোধন

মিশ্র পুঁজিবাজার সূচক, লেনদেনে অবনতি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

টানা পাঁচ দিন সূচকের উন্নতির পর অবশেষে সংশোধন হয়েছে পুঁজিবাজারে। শিকার হয়েছে মিশ্র আচরণের। বিশেষায়িত সূচকগুলো কিছুটা উন্নতি ধরে রাখলেও উভয় বাজারেই অবনতি হয় প্রধান সূচকের। একই সময় হ্রাস পেয়েছে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনও। দর হারায় বেশির ভাগ কোম্পানি। সোমবার সকালে সূচকের বড় ধরনের উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রয়চাপে পড়ে দুই বাজার। বেশ কয়েক দিন টানা মূল্যবৃদ্ধির পর ব্যাংকিং খাতের সংশোধনই এ রকম বাজার আচরণের জন্য দায়ী, এমনটিই মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৭ দশমিক ১৬ পয়েন্ট হ্রাস পায়। সূচকটির আগের দিনের অবস্থান ৬ হাজার ২২৩ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি সোমবার দিনশেষে নেমে আসে ৬ হাজার ২১৬ দশমিক ৬১ পয়েন্টে। তবে বাজারটির বিশেষায়িত দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি হয় যথাক্রমে ২ দশমিক ৫৩ ও ৬ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট। এর আগে গত পাঁচ দিনে প্রায় ১৫০ পয়েন্ট উন্নতি হয় ডিএসইএক্স সূচকের। গতকাল তার ৭ দশমিক ১৬ পয়েন্ট হারাল সূচকটি।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি হয় যথাক্রমে ৩৫ দশমিক ৭৬ ও ২২ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট। সিএসই-৫০ সূচক হারায় ৩ দশমিক ৫৫। তবে এখানে সিএসই শরিয়াহ সূচকটি ২ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে।
সূচকের নেতিবাচক আচরণের কারণে গতকাল বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণে ছিলেন বেশ সতর্ক, যার প্রভাব পড়ে দুই বাজারের লেনদেনে। ঢাকা শেয়ারবাজার ৯০৩ কোটি টাকা লেনদেন নিষ্পত্তি করে গতকাল, যা আগের দিন অপেক্ষা ৮০ কোটি টাকা কম। রোববার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৯৮৩ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ৬৯ কোটি টাকা থেকে ৪৯ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।
সোমবার সকালে সূচকের বড় ধরনের উন্নতি দিয়েই দিন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ডিএসইএক্স সূচকের ৬ হাজার ২২৩ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে বেলা পৌনে ১১টায় সূচকটি পৌঁছে যায় ৬ হাজার ২৫১ পয়েন্টে, অর্থাৎ মাত্র ১৫ মিনিটে ডিএসই সূচকের উন্নতি হয় ২৭ পয়েন্টের বেশি। লেনদেনের এ পর্যায়ে শুরু হয় বিক্রয়চাপ। এ সময় ব্যাংকিং খাতে সংশোধন শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে সূচকটি নেমে আসে ৬ হাজার ২১৬ পয়েন্টে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে চাপ সামলে ওঠে বাজারটি। বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএসই সূচক আবার পৌঁছে যায় ৬ হাজার ২৪২ পয়েন্টে।
দুপুর ১২টার দিকে ফের বিক্রয়চাপ শুরু হলে ব্যাংকগুলো নতুন করে দর হারাতে থাকে। হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক আগের দিনের দর ধরে রাখতে সক্ষম হলেও বাকিগুলো ব্যর্থ হয়। এ পর্যায়ে ফের নি¤œমুখী হয়ে ওঠে সূচকটি। বেলা পৌনে ১টায় সূচক নেমে আসে ৬ হাজার ২০০ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের ২৩ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। তবে দিনের শেষ দিকে এসে হারানো সূচকের একটি অংশ ফিরে পায় বাজারটি। দিনশেষে ৭ দশমিক ১৬ পয়েন্ট অবনতিতে ৬ হাজার ২১৬ দশমিক ৬১ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক।
গতকালও দুই পুঁজিবাজারে বেশির ভাগ খাতে দরপতন হয়। তবে ব্যাংক ছাড়া অন্য খাতের বেশ কিছু কোম্পানি আগের দিনের হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পায় গতকাল। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি, মিউচুয়াল ফান্ড ও বিবিধ খাতে এ প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও উভয় বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগই উঠে আসে দরপতনের তালিকায়। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩৩২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০৬টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৮৬টি। অপরিবর্তিত ছিল ৪০টির দর। অন্য দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৪২টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৭৮টির দাম বাড়লেও কমেছে ১৩১টির। অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির দর।
ঢাকা ব্যাংককে হটিয়ে গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ইফাদ অটোস। ৫১ কোটি ৫ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৩৭ লাখ ২৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ৩৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় এক কোটি ৫৮ লাখ ৩৮ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ঢাকা ব্যাংক। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এ বি ব্যাংক, গ্রামীণফোন, সিটি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, সাউথইস্ট ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ফার্মা এইড। ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয় কোম্পানিটির। আগের দিন অনুষ্ঠিত কোম্পানির পর্ষদ সভায় বিগত অর্থবছরের জন্য ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে ফার্মা এইড। উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ইনটেক অনলাইন ৮.৩৪, রেকিট বেনকিসার ৬.২৪, গ্রামীণফোন ৪.২৬, পিপলস ইন্স্যুরেন্স ৪.১৮ ও এ বি ব্যাংকের ৩.৯৫ শতাংশ। অন্য দিকে দিনের সর্বোচ্চ দরপতন হয় গোল্ডেন সন। বিগত অর্থবছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ প্রস্তাব না করায় দরপতনের শীর্ষে ছিল কোম্পানিটি। একই সাথে একই কারণে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে আসে কোম্পানিটির শেয়ার মান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.