ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা সঙ্কট : সু চি-গুতেরেস বৈঠক

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তেনিও  গুতেরেস মিয়ানমারের নেতা অং সান সু চির প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ফিলিপাইনে এক শীর্ষ সম্মেলনে মঙ্গলবার তাদের এক বৈঠকে এ আহবান জানানো হয়। তার দফতর এ কথা জানায়। খবর এএফপি’র।

সম্মেলনে মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সু চির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের কথাও বলা হয়।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনেরও মঙ্গলবার ম্যানিলায় তার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। পরে তিনি সেখান থেকে মিয়ানমারে যাবেন।

জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘দেশটিতে মানবিক সাহায্য প্রবেশ, নিরাপত্তা ও সম্মানের সাথে দেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন জরুরি।’

বিগত আড়াই মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গা ‘বিদ্রোহীরা’ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানোর পর দেশটির সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালালে এ সংকটের সৃষ্টি হয়। এ অভিযান চালানোর সময় তারা রোহিঙ্গাদের অনেক গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় এবং এসব জনগোষ্ঠীর ওপর অমাববিক নির্যাতন চালায়।

চুক্তি স্বাক্ষরের ৩ সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে : সু চি
মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী ও দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি আবারো রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সোমবার ৩১তম অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশন্সের (আসিয়ান) সম্মেলনের প্লেনারি অধিবেশনে এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান সু চি। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ম্যানিলা বুলেটিন জানায়, আসিয়ান সম্মেলনের সভাপতিত্ব করা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মুখপাত্র হ্যারি রক জুনিয়র জানান, সম্মেলনে মিয়ানমারের কাছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই উদ্বেগের পর সু চি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

হ্যারি রক জানান, সম্মেলনে যখন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা জানতে চাওয়া হয় তখন মিয়ানমার জানায় কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের মানবিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

দুতার্তের মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, ফিলিপাইন শুধু মারাউই শহরের বাস্তুচ্যুতদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সহযোগিতা প্রয়োজন বলে স্বীকার করেছে।

এর আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক খবরে জানিয়েছে, আসিয়ান সম্মেলনের খসড়া ঘোষণায় রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। মঙ্গলবার সম্মেলন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা পাঠ করা হবে। ঘোষণার একটি অনুচ্ছেদে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনে মানবিক সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে রাখাইনে ‘আক্রান্ত সম্প্রদায়’কে মানবিক সহযোগিতার কথা শুধু উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও রাখাইনে চলমান সামরিক অভিযানের মুখে ছয় লাক্ষাধিক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে পালিয়ে আসার বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই।

রয়টার্স জানিয়েছে, খসড়ায় রাখাইনের পরিস্থিতির কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি এবং রোহিঙ্গা শব্দও ব্যবহার করা হয়নি। মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি বিদেশী নেতাদের রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকে আসিয়ান সদস্য মালয়েশিয়া উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। তবে আসিয়ানের নীতি সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা না বলার কারণে বিষয়টি সম্মেলনের আলোচ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বক্তব্য থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয় রোহিঙ্গা ইস্যু না থাকায়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.