আমেরিকার বৈঠক বর্জন করেছে রাশিয়া-চীন-বলিভিয়া-মিশর
আমেরিকার বৈঠক বর্জন করেছে রাশিয়া-চীন-বলিভিয়া-মিশর

আমেরিকার বৈঠক বর্জন করেছে রাশিয়া-চীন-বলিভিয়া-মিশর

পার্সটুডে

ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকার পক্ষ থেকে আয়োজন করা একটি বৈঠক বর্জন করেছে সংস্থার চার সদস্য দেশ। দেশগুলো হচ্ছে- রাশিয়া, চীন, বলিভিয়া ও মিশর।

সোমবার ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের আয়োজন করেছিল আমেরিকা। কিন্তু ওই চার দেশ বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত হবে না কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। চার দেশ মার্কিন এ উদ্যোগকে অবৈধ ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে বৈঠক বর্জন করেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদুত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করি বাইরে কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই ভেনিজুয়েলা নিজ প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণভাবে তার নিজের ইস্যু সমাধান করতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, বৈঠকে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি সাংবাদিকদের বলেন, ভেনিজুয়েলা পরিস্থিতি দিন দিন সহিংস হয়ে উঠছে এবং এ অঞ্চল ও সারা বিশ্বের জন্য তা হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সহযোগিতা জোরদারে সম্মত ইরান-রাশিয়া আজারবাইজান

ইরান, রাশিয়া ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টরা পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে ত্রিপীয় বৈঠক করেছেন।

বৈঠক শেষে তিন প্রেসিডেন্ট যৌথ বিবৃতিতে বলেন, নর্থ-সাউথ ইন্টারন্যাশনাল করিডরের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সহজতর যোগাযোগ স্থাপন করতে চায় ইরান, রাশিয়া ও আজারবাইজান। এই তিন দেশ বিশেষ করে পণ্য পরিবহনের ল্েয নিজেদের মধ্যে একটি বিশেষ রেললাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার নাম দেয়া হয়েছে নর্থ-সাউথ ইন্টারন্যাশনাল করিডর।

বিবৃতিতে বলা হয়, তেল ও গ্যাস শিল্পে প্রতিবেশী তিন দেশ সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি বিবৃতিতে ইরানের পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে সব পকে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

পরে ত্রিপীয় সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে ব্যাংকিং লেনদেন সহজতর করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সেই সাথে দ্বিপীয় ও ত্রিপীয় বাণিজ্যিক লেনদেনে মার্কিন ডলার বা অন্য কোনো বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের ওপর তাগিদ দেয়া হয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেন, সিরিয়ার চলমান সঙ্ঘাতের অবসান ঘটাতে যে শান্তি প্রক্রিয়া চলছে তা ইতিবাচক গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কড়া প্রতিবাদ রাশিয়ার

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় আত্তানাফে আমেরিকা সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। ওই ঘাঁটিতে পূর্ব কালামুন, আল-কারিতিন ও আল-বাদিয়া এলাকার বহু সন্ত্রাসী আশ্রয় নিয়েছে।

মার্কিন ঘাঁটির কারণে ওই এলাকায় আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার সিরিয় শরণার্থীর কাছে মানবিক ত্রাণ সাহায্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে না বলেও রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সম্প্রতি ওই ঘাঁটির অদূরে দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ১৩ জন সিরিয় শরণার্থী নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি শিশুও রয়েছে।

মার্কিন সামরিক উপদেষ্টারা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে নতুন একটি গোষ্ঠী গড়ে তোলার চেষ্টা করছে যারা পরবর্তীতে নিজেদেরকে সরকারবিরোধী মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচয় দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রুশ কন্স্যুলেটে অনুপ্রবেশের অভিযোগ পাল্টাব্যবস্থার হুমকি মস্কোর
সানফ্রান্সিসকোতে রাশিয়ার কূটনীতিকদের ছেড়ে যাওয়া কন্সুলেটের বিভিন্ন বাসায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ‘অনুপ্রবেশ’ করেছেন অভিযোগ তুলে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে মস্কো। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে গত মাসে ওই কন্স্যুলেটসহ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশ কয়েকটি স্থাপনা খালি করে ফেলার নির্দেশ দেয় ওয়াশিংটন।

এর পর থেকেই কন্স্যুলেট কম্পাউন্ডের প্রশাসনিক অংশটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকর্মীদের দখলে ছিল। কন্স্যুলেটের যে আবাসিক অংশ ছেড়ে যাওয়া কর্মকর্তারা বন্ধ করে রেখেছিলেন সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সেখানে ‘অনুপ্রবেশ’করেন বলে অভিযোগ রাশিয়ার। এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমাদের সতর্কতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কথা শোনেননি এবং তাদের বেআইনি ইচ্ছা চরিতার্থের সুযোগ ছাড়েননি। প্রতিক্রিয়া দেখানোর অধিকার আমরা রাখি। পারস্পরিক ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ার নীতি সব সমই সম্পর্কগুলোর ভিত্তি।’

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ধারাবাহিকভাবে প্রচার বিভিন্ন ফুটেজের সঙ্গে সংবাদপাঠকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কম্পাউন্ডের বন্ধ করা অংশের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন।অনুপ্রবেশকারীরা কনসাল জেনারেলের বাসভবনসহ পুরো আবাসিক এলাকার দখল নিয়েছে বলেও অভিযোগ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কূটনৈতিক ভবনে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে আমেরিকানরা আমাদেরকেও তাদের সঙ্গে একই ধরনের আচরণের অনুমতি দিয়েছে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, রাশিয়ার কর্মকর্তারা পহেলা অক্টোবর সময়সীমার মধ্যে কন্স্যুলেট ছেড়েছেন কি না তা নিশ্চিত হতে আবাসিক অংশের চার পাশ ঘুরে দেখেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। রাশিয়ার কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অফিসের মতো দেখতে জায়গাগুলোতে বসবাস করতেন এটা জানার পর যুক্তরাষ্ট্র ‘দয়াপরবশ হয়ে’ কন্স্যুলেট ছাড়তে বেশি সময় দেয় বলেও মন্তব্য করেন মুখপাত্র হিদার নয়ের্ত।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন জানতে পারি, তখন তাদের গোছগাছ করতে ও ছেড়ে যেতে অতিরিক্ত সময় দিই; এ কারণেই অ্যাপার্টমেন্টগুলো ছাড়ার সময়সীমা আমরা ১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়াই, সেই সময়ও শেষ হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কোনো তালা ভাঙেনি বলেও মন্তব্য করেন হিদার; এই ঘটনায় এফবিআইয়ের সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি তার। তিনি বলেন, ‘কূটনীতিকদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিদেশী মিশন দফতরের কর্মকর্তারা ছিলেন। তারা ওই এলাকার আশপাশটা ঘুরে দেখেছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, ওইখানে যে কেউ নেই তা নিশ্চিত হওয়া।’

প্যাসিফিক হাইটস এলাকার ছয়তলা ওই ভবনের চার পাশে সাধারণ মানের নিরাপত্তা বেড়া দেখা গেছে। কন্স্যুলেটের প্রধান ফটকে টাঙানো একটি নোটিশে এটি যে বন্ধ তার উল্লেখ করে যোগাযোগের জন্য নতুন ঠিকানা দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নিরাপত্তারী প্রধান ফটকটি খোলা রেখে চলে গেলেও পেছনের আরেকটি ফটক বন্ধ ছিল। ভেতরে বিভিন্ন ধরনের শব্দ শোনা গেলেও বারবার অনুরোধ সত্বেও কেউ সাড়া দেয়নি।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ৩৫ রাশিয়ান কূটনীতিককে বহিষ্কার করার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তপে এবং ট্রাম্পের জয়ের পেছনে ভূমিকা রাখার অভিযোগে ওবামা ওই কূটনীতিকদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার ইঙ্গিত দেন।

মার্কিন নির্বাচনে মস্কোর হস্তেেপর অভিযোগ তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। রাশিয়া শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ট্রাম্পও বলছেন, নির্বাচনের সময় তিনি কিংবা তার শিবিরের কেউই রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশে জড়িত ছিলেন না।

ওয়াশিংটনের আকাশে রুশ গোয়েন্দা বিমান
মার্কিন দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউজের আকাশসীমায় রাশিয়ার গোয়েন্দা বিমান টিইউ-১৫৪কে উড়তে দেখা গেছে। রুশ বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা বিমানকে, পেন্টাগন, ক্যাপিটল নামে পরিচিত ওয়াশিংটনের কংগ্রেস ভবনসহ মার্কিন অন্যান্য সরকারি ভবনের ওপর দিয়েও উড়তে দেখা গেছে।

এ ছাড়া ভার্জিনিয়ার লাংগলির সিআইএ সদর দফতর, মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডের আকাশ দিয়েও রুশ বিমান উড়েছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য রুশ গোয়েন্দা বিমান উড়েছে বলে ধারণা ব্যক্ত করা হয়। অবশ্য, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, আমেরিকা রাশিয়াসহ ৩২ দেশের স্বারিত ‘খোলা আকাশ চুক্তির’ আওতায় বিমানটি ওয়াশিংটনসহ অন্যান্য এলাকার আকাশসীমা দিয়ে ওড়ে।

চুক্তিতে সই করা দেশগুলোর সদস্যরা অন্য দেশের আকাশসীমা দিয়ে অস্ত্রহীন নজরদারি বিমান ওড়াতে পারবে। স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ তৎপরতা বজায় রাখার স্বার্থে এ ভাবে বিমান ওড়ার অনুমতি ‘খোলা আকাশ চুক্তিতে’ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার বেলা ১১টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকার আকাশসীমা দিয়ে একটি বিমান উড়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল মার্কিন ক্যাপিটল পুলিশ। এতে বলা হয়েছে, ক্যাপিটল পুলিশসহ মার্কিন অন্যান্য সংস্থা নিচু দিয় উড়ে যাওয়া বিমানটির ওপর নজর রাখবে।

এ ছাড়া সন্ধ্যায় আরেকটি রুশ বিমান নিউ জার্সি বেডমিনিস্টারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পত্তির ওপর দিয়ে উড়ে যাবে বলে প্রথমে জানিয়েছিল মার্কিন চ্যানেল সিএনএন। ট্রাম্প এখানে অবকাশ যাপন করছেন।

খোলা আকাশ চুক্তির আওতায় কখন বিমান উড়বে তা পর্যবেণ করার জন্য মার্কিন বিমানবাহিনীর কয়েক সদস্য রুশ বিমানে ছিলেন। অবশ্য রাশিয়া চুক্তির অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রতিরা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিআইএ’র পরিচালক লে জেনারেল ভিনসেন্ট স্টুয়ার্ড। রুশ বিমানকে এ ধরনের উড়তে দেয়ার সুযোগ বন্ধ করে দিতে চান বলেও খোলাখুলিভাবে জানান তিনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.