ইরান-তুরস্ক-রাশিয়ার ঐক্য
ইরান-তুরস্ক-রাশিয়ার ঐক্য

ইরান-তুরস্ক-রাশিয়ার ঐক্য

পার্সটুডে

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে তার দেশের সহযোগিতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিরিয়া সংকটের সমাধান এনে দিয়েছে। রাশিয়ার সোচি শহরে সোমবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন পুতিন।

তিনি বলেন, ‘আমি সন্তোষের সঙ্গে বলতে চাই আস্তানা শান্তি প্রক্রিয়ায় নিশ্চয়তাকারী তিন দেশ রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের মধ্যেকার সহযোগিতা সিরিয়া সংকট সমাধানে বাস্তব ফল এনে দিয়েছে।’ তেহরান ও আঙ্কারার সঙ্গে মস্কো এই সহযোগিতা চালিয়ে যাবে বলে পুতিন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দুই নেতা দীর্ঘমেয়াদে সিরিয়ায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা জোরদার করতে একমত হন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সিরিয়ায় সহিংসতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে এসেছে। এখন জাতিসংঘের তত্ত্ববধানে সিরিয়ার বিভিন্ন দল ও পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে নেয়ারও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’

ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিসতা কমিয়ে আনতে আস্তানায় অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠকগুলো ভূমিকা রেখেছে। এখন সিরিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মনযোগী হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় এ পর্যন্ত সিরিয়া বিষয়ক সাত দফা বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সিরিয়ার সরকার এবং সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপগুলো অংশ নিয়েছে। আর এসব বৈঠকের ফলাফল বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিয়েছে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক।

আস্তানা বৈঠকের উল্লেখযোগ্য ফলাফল ছিল সিরিয়ার ইদলিব, উত্তর হোমস এবং পূর্ব ও দক্ষিণ ঘৌতা এলাকাকে নিয়ে একটি নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণা করা। ওই ঘোষণার পর সিরিয়ায় বিদেশি মদদে চাপিয়ে দেয়া সহিংসতা অনেকাংশে কমে যায়।

ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের চুক্তির মূল্য ৭০০ কোটি ডলার

তুরস্কের ইউনিট ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ইরানের গাদির ইনভেস্টমেন্ট হোল্ডিং কোম্পানি ও রাশিয়ার জারুবেঝনেফতের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে তার অর্থমূল্য হলো ৭০০ কোটি ডলার।

চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের তিনটি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন কাজ করা হবে এবং এসব ক্ষেত্র থেকে এক হাজার কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলন করা যাবে। সেখান থেকে প্রতিদিন তেল উত্তোলন করা সম্ভভ হবে এক লাখ ব্যারেল এবং বিশাল একটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে ৭,৫০০ কোটি ঘন মিটার গ্যাস।

ইউনিট কোম্পানি ইরানের গ্যাসক্ষেত্রের নাম উল্লেখ করে নি তবে তুরস্ক এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১৫০ বছর পর্যন্ত তাদের গ্যাস চাহিদা পূরণ করতে পারবে। তুরস্ক বর্তমানে প্রতি বছর ৫,০০০ কোটি ঘন মিটার গ্যাস আমদানি করে।

ইরানের গাদির ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, রাশিয়ার জারুবেঝনেফত অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এবং তুরস্কের ইউনিট ইন্টারন্যাশনাল তেল-গ্যাস খাতে যৌথ বিনিয়োগের জন্য ওই চুক্তি সই করে। এই প্রথম ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হলো। চুক্তির আওতায় তিন দেশ ইরানে ও তার বাইরে যৌথ উদ্যোগে অর্থ বিনিয়োগ করবে।

সিরিয়ায় ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ ইরান-রাশিয়া-তুরস্ক

সিরিয়ায় নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক। কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় সিরিয়া বিষয়ক চতুর্থ দফা শান্তি আলোচনা শেষে এ চুক্তি সই হয়।

সিরিয়ার উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণের চারটি অঞ্চলে ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় রাশিয়া। এসব অঞ্চলে সিরিয়ার সরকারি সেনা ও বিদেশি মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছে। প্রস্তাবে অবিলম্বে এসব সংঘর্ষ বন্ধ করে শরণার্থীদেরকে তাদের ঘরবাড়িতে ফিরে আসার নিরাপদ সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সিরিয়ায় নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার চুক্তি সই হওয়ার পর বৈঠকে বিদ্রোহীদের কিছু প্রতিনিধি প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে সম্মেলনকক্ষ ত্যাগ করেন। বিদ্রোহী নেতা ওসামা আবু যাইদ দাবি করেন, নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা এটি মেনে নেবেন না।

জাতিসংঘের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্ট্যাফান ডি মিস্তুরা সিরিয়ায় সেফ জোন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, দেশটির সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পদক্ষেপ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.