জহিরুলের রিভার্স স্কুপের জুয়া
জহিরুলের রিভার্স স্কুপের জুয়া

জহিরুলের রিভার্স স্কুপের জুয়া

বাসস

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ডের ২৪ বলে ৫৫ রান ও জহিরুল ইসলামের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৩৯ বলে অপরাজিত ৪৫ রানের সুবাদে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম আসরের ১৩তম ম্যাচে ঢাকা ডায়নাইমাইটস ৪ উইকেটে হারিয়েছে খুলনাকে। প্রতিপক্ষ খুলনার ছুঁড়ে দেয়া ১৫৭ রানের টার্গেটে ৪১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ঢাকা। সেখান থেকে ৩৭ বলে ৭৩ রানের জুটি গড়ে ঢাকাকে অবিস্মরনীয় জয় এনে দেন পোলার্ড ও জহিরুল। তবে ম্যাচে পোলর্ডের ৫৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটিই ঢাকার জয়ে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া জহিরুল।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জহিরুল বলেন, ‘আমদের যে ব্যাটিং লাইন আপ, এখানে সুযোগ পাওয়া খুবই কঠিন। স্থানীয়রা খুব একটা সুযোগই পাইনি আগে। কারণ বিদেশীদের শক্তির জায়গা বেশি টি-টোয়েন্টিতে ওরা খুবই ভালো ব্যাটসম্যান। আজকে ১৫৫ রান তাড়ায় এত মারার দরকার ছিল না। একটু ধীরগতির শুরু হলেও আমাদের ব্যাটসম্যানদের যে সামর্থ্য তাতে রানটা পরে পুষিয়ে নেয়া যেত। আজকে প্রথমবার বড় চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। ২৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর আমি যখন নামলাম। আমাদের মতো ক্রিকেটারদের জন্য এটি একটি সুযোগ যে শেষ পর্যন্ত খেলা। তবে ম্যাচের মূল কাজ করে দিয়েছেন পোলার্ড। তখন প্রয়োজনীয় রানরেট ছিল সাড়ে ১৪। আমাদের জন্য কাজটি খুবই কঠিন। আমরা হয়ত ক্যালকুলেশন করে ৮-৯ করে করতে পারব। পোলার্ডের ইনিংসটিই ম্যাচে আসলে আমাদের এত দূর নিয়ে এসেছে। পরে আমি আর সৈকত ঠিক করেছিলাম শেষ পর্যন্ত খেলব।’

ধৈর্যশীল ইনিংস খেলার পথে মাত্র ৫টি চার মেরেছেন জহিরুল। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন তিনিই। রিভার্স স্কুপে বাউন্ডারি মেরে ঢাকার জয় নিশ্চিত করেন জহিরুল। তবে এই শট ম্যাচে প্রথম মারলেন বলে জানান জহিরুল, ‘প্রথম দু’টি বল আমি স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মারতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বোলার নরম্যালি একটু দ্রুতগতির এবং ইয়র্কারগুলো মারছিল। চার মারার চিন্তা আমার ভুল ছিল। যদি এক রানের চিন্তা করতাম, তাহলে ব্যাটে লাগত। ম্যাচটায় আমি দলকে বিপদে ফেলে দিয়েছিলাম। পরে চিন্তা করেছি, যেহেতু দু’টি বলে ইয়র্কার করে সফল হয়েছে, আবারও ইয়র্কার করবে। আমি তাই গ্যাম্বলিংয়ের মতো চিন্তা করলাম যে থার্ড ম্যান যেহেতু ওপরে, সেদিক দিয়ে রিভার্স স্কুপ করব। আগে এটা কোনো দিন খেলিনি ম্যাচে। অনুশীলনে চেষ্টা করি। ম্যাচে এটিই প্রথম।’


যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি পোলার্ডের
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম আসরের ১৩তম ম্যাচে খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে ১৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন ঢাকা ডায়নামাইটসের ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় কাইরন পোলার্ড। বিপিএলের ইতিহাসে যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি এটি।

বিপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ড পাকিস্তানের আহমেদ শেহজাদের। ২০১২ সালে বরিশাল বার্নার্সের হয়ে দুরন্ত রাজশাহীর বিপক্ষে ১৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন শেহজাদ।
এরপর গত আসরে ১৮ বলে বিপিএলের দ্বিতীয় দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি করেন ঢাকা ডায়নামাইটসের শ্রীলংকার সেক্কুজে প্রসন্ন।

চলতি বিপিএলের সিলেট পর্বে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ১৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন চিটাগং ভাইকিংসের নিউজিল্যান্ডের লুক রঞ্চি। আর এটি বিপিএলের তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। এবার ১৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করে রঞ্চির পাশে বসলেন পোলার্ড।
ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৩টি চার ও ৬টি ছক্কায় ২৪ বলে ৫৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন পোলার্ড।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.