মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ দশ কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরির

সূচক ও বাজার মূলধনের সর্বোচ্চ অবস্থানে ডিএসই

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ও বাজার মূলধন। গতকাল মঙ্গলবার দিনশেষে এ অবস্থানে পৌঁছে পুঁজিবাজারটি। ৬ হাজার ২১৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স মঙ্গলবার দিনশেষে পৌঁছে যায় ৬ হাজার ২৫২ দশমিক ১৪ পয়েন্টে। চালুর পর এটি ডিএসইএক্স সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ ৬ হাজার ২৪০ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে উঠেছিল সূচকটি। এর দুই মাস পর আবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছল সূচকটি।
ডিএসইর বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ সূচকও গতকাল এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে যায়। ২ হাজার ২৬১ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট থেকে দিনশেষে এ সূচক পৌঁছে যায় ৬ হাজার ২৭৭ দশমিক ৯১ পয়েন্টে। সূচকের পাশাপাশি গতকাল বাজার মূলধনেরও সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল দেশের শীর্ষ এ পুঁজিবাজারটি। গতকাল দিনশেষে ডিএসইর বাজার মূলধন পৌঁছে যায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ২৭ কোটি টাকায়। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ব্যাংকিং খাতের টানা মূল্যবৃদ্ধিই নতুন এ উচ্চতায় পৌঁছায় ডিএসইর বাজার মূলধনকে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকটি গতকাল ৩৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ০৩ ও ১৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১১৪ দশমিক ৪৭ ও ৬৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট। বাজারটির সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচক যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৩৮ ও ৯ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
বড় কোনো বিক্রয়চাপ ছাড়া দিনের শুরু থেকে সূচকের ধারাবাহিক উন্নতির ফলে গতকাল দুই পুঁজিবাজারের লেনদেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। ঢাকা শেয়ারবাজার গতকাল ১ হাজার ১৭৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ২৭৩ কোটি টাকা বেশি। গত সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৯০৩ কোটি টাকা। এভাবে প্রায় ১ মাস পর ডিএসইর লেনদেন আবার হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়। সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর ডিএসইর লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে ছিল। তবে গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১২০ কোটি টাকা ছিল ব্লক মার্কেটের। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ৪৯ কোটি টাকা থেকে ৭২ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।
এ দিকে গতকাল দুই পুঁজিবাজারের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ দশ কোম্পানিতে দুর্বল মৌলভিত্তিসম্পন্ন ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর ব্যাপক প্রাধান্য দেখা যায়। ঢাকায় মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশ কোম্পানির প্রায় সব ক’টিই ছিল ‘জেড’ ক্যাটাগরির। এদের মধ্যে ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে দিনের শীর্ষে ছিল সাভার রিফ্রেক্টরিজ। ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল জুট স্পিনার্স। অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ ৯.৯১, দুলামিয়া কটন ৯.৮৪, বিচ হ্যাচারিজ ৯.৭২, সাইনপুকুর সিরামিকস ৯.৫২, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ৮.৪৪ ও বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ৮.২১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। বছরের পর বছর ধরে এসব কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা না করায় ‘জেড’ ক্যাটাগিরিতে লেনদেন হচ্ছে। বিগত অর্থবছরেও এসব কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ প্রস্তাব করেনি। এদের মধ্যে কোনো কোনোটি আবার স্পট মার্কেটে লেনদেন হচ্ছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এভাবে কম মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধি বাজারের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করে। স্বল্প সংখ্যক বিনিয়োগকারী এ ধরনের প্রবণতার সাথে জড়িত। কিন্তু বাজারে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে দিয়ে তারা নিরীহ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করে। ফলে অনেকে এ মূল্যবৃদ্ধিতে আকৃষ্ট হয়ে শেয়ার কেনেন। পরিণামে লোকসান গুনতে হয়।
গতকাল সকালে সূচকের বড় ধরনের উন্নতি দিয়েই দিন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকা শেয়ারবাজারে ডিএসইএক্স সূচকের ৬ হাজার ২১৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে। শুরু থেকে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে বেলা ১টা পর্যন্ত। এ সময় ডিএসই সূচক পৌঁছে যায় ৬ হাজার ২৭৫ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে প্রায় ৫৯ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে সূচকের। বেলা ১টার পর বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলে নি¤œমুখী হয়ে ওঠে বাজার সূচক। দিনশেষে ৩৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রেখে ৬ হাজার ২৫২ দশমিক ১৪ পয়েন্টে স্থির হয় সূচকটি।
দুই পুঁজিবাজারেই বেশির ভাগ কোম্পানির দরপতন ঘটে গতকাল। বেশ কিছুদিন ধরে টানা মূল্যবৃদ্ধির ধারায় থাকা ব্যাংকিং খাতও এ পতনের শিকার হয়। কিন্তু একই সময় ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে যা দিনের সূচককে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখে। তবে বরাবরের মতো দিনশেষে উভয় বাজারেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানি দর হারায় গতকালও। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২৮টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৬৬টি। অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৩৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৮৫টির দাম বাড়ে, ১১৮টির কমে এবং ৩৩টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত থাকে।
গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষস্থানটি দখলে নেয় সিটি ব্যাংক। ৫৬ কোটি টাকায় কোম্পানিটির ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ৫০ কোটি ১৯ লাখ টাকায় ২ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে এবি ব্যাংক ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে গ্রামীণফোন, ঢাকা ব্যাংক, এসিআই লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, আইডিএলসি ফিন্যান্স, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও ইফাদ অটোস।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.