আপৎকালীন খাদ্য মজুদ

অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে

দেশে আপৎকালীন খাদ্য মজুদ বাড়ানোর তাগিদ বাড়ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে খাদ্য সঙ্কট অসহনীয় মাত্রায়, চালের বাজার কয়েক মাস ধরে অনিয়ন্ত্রিত; যা এখনো বিরাজমান। সরকার নানাভাবে খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলার উদ্যোগ নিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। এপ্রিল মাসে হঠাৎ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়ায় খাদ্য ঘাটতি বেড়েছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ না থাকায় মুনাফালোভী শ্রেণীর কাছে সরকার জিম্মি হয়ে পড়ে।
এ বছর আগাম বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দফায় দফায় প্রধান ফসলের ক্ষতি করেছে। তাই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় ধস নামে। আবার সময়মতো চাল আমদানি করাও সম্ভব হয়নি। ফলে অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় খাদ্য মজুদ সর্বনি¤œ পর্যায়ে চলে আসে। অভ্যন্তরীণভাবে চাল ও ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এ সুযোগে মুনাফাখোর মজুদদারেরা খাদ্যমূল্য বিশেষ করে চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। এক লাফে চালের দাম কেজিপ্রতি বেড়ে যায় ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত। সাধারণ মানুষ হঠাৎ বাড়তি দামে চাল কিনতে গিয়ে হিমশিম খায়। চাপে পড়ে যায় সরকার। ওএমএস কর্মসূচি চালিয়ে নেয়াও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যে সময় মোটা চালের মজুদ ৮-১০ লাখ টন থাকার কথা, তখন সাড়ে চার লাখ টনের মতো মজুদ নিয়ে সরকারকে বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। অথচ গত বছর একই সময়ে চালের মজুদ ছিল পৌনে ৯ লাখ টন।
চালের মজুদ ঘাটতির পরিমাণ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আড়তদার মজুদদারেরা পরিস্থিতির পুরো সুযোগ নিতে তৎপর হয়ে ওঠে। এই সুযোগ নিতে কার্পণ্য করেনি চাল আমদানিকারকেরা। তারা শুল্ক মওকুফের বাহানা নিয়ে আরো সময়ক্ষেপণ করেছে। শেষাবধি লাভবান হলো আড়তদার মজুদদারেরা। সরকার মিলারদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় জিটুজি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়ে সময়ক্ষেপণের কবলে পড়ে। ফলে প্রতিশ্রুত চাল পেতে প্রচুর সময় চলে যায়। তত দিনে চালের দাম আরো বেড়ে গেছে।
এবার সরকার আপৎকালীন খাদ্য মজুদ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ নিয়েছেন যেন খাদ্য মজুদ সর্বনি¤œ ১০ লাখ টন রাখার সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
আমরা আশা করি, খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রায় নিশ্চিতভাবে পৌঁছার লক্ষ্যে আমদানি, অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ এবং জিটুজি প্রক্রিয়ায় চাল সংগ্রহ করার আগাম প্রস্তুতি নেয়া হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জনের ফাঁকা বুলি আপৎকালীন সঙ্কট মোচনে কোনো কাজ দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না। তাই যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্য মজুদ যথেষ্ট বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিতে হবে। নয়তো অস্থিতিশীল বাজার স্থিতিশীল করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.