গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে ডায়াবেটিস খেটে খাওয়া মানুষও আক্রান্ত

ওষুধ ও ইনসুলিনের দাম কমানোর দাবি
মুরাদ ইমাম কবির হাকিমপুর (দিনাজপুর)

শহরের পাশাপশি এখন গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা। গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষও এখন আক্রান্ত হচ্ছেন এ রোগে। এক সময় শহর অঞ্চলে ডায়াবেটিক রোগীর দেখা মিললেও এখন প্রত্যন্ত গ্রামেও বাড়ছে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে দেশে যত মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন তার ৫ থেকে ৮ শতাংশই গ্রামের মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিবর্তন, মানসিক দুঃশ্চিন্তা, ভেজাল খাবার আর অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস এবং যান্ত্রিকতার কারণে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়াবেটিসে। তাই জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তারা।
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা ডায়াবেটিক অ্যান্ড হেলথ কেয়ারের তথ্য মতে এই ক্লিনিকে রেজিস্টার্ড রোগী রয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার। প্রতিদিন শতাধিক ডায়াবেটিক রোগী এখানে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে আসেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃদ্ধ ও মাঝ বয়সীর পাশাপাশি তরুণ ছেলেমেয়েরাও আসে এখানে চিকিৎসা নিতে। আশপাশের উপজেলা হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রোগীরা আসেন। দিনের প্রথম দিকে রোগীর চাপ বেশি থাকলেও বিকেলের দিকে চাপ কিছুটা কম থাকে। এক সাথে এত রোগীর চিকিৎসা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।
জানা গেছে, শুধু ডায়াবেটিক অ্যান্ড হেলথ কেয়ার নয়, বিরামপুর ডায়াবেটিক সমিতি ও ডায়াবেটিক অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার নামেও আরো দুটি ডায়াবেটিক সেবা কেন্দ্র রয়েছে। এসব সেবা কেন্দ্রে কর্মরতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদেরও দুই থেকে তিন হাজার রেজিস্টার্ড রোগী রয়েছেন। যারা এসব সেবা কেন্দ্র থেকে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছরই বাড়ছে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা। শহরের পাশাপশি আক্রান্ত হচ্ছেন গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষও। ডায়াবেটিক অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সেন্টারের চিকিসৎক ডা: আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, গ্রামের সাধারণ মানুষ সাধারণত কাজে ব্যস্ত থাকলেও মানসিক দুঃশ্চিন্তা ও অতিমাত্রায় ভাতের প্রতি নির্ভরশীলতার কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ডায়াবেটিক অ্যান্ড হেলথ কেয়ারের চিকিৎসক ডা: আতিয়ার রহমান বলেন, ডায়াবেটিসের চিকিৎসা মানুষের দোরগোড়ায় আসায় সাধারণ মানুষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারছেন। আগে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে দিনাজপুর বা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব ছিল না। তাই রোগীর সংখ্যাও তেমন বোঝা যেত না। তিনি বলেন, রিকশাচালক থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ জন্য ভেজাল খাবার এবং যান্ত্রিকতার প্রভাবকেই দায়ী করেন তিনি।
এসব ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা গ্রামের রোগীরা জানান, ডায়াবেটিসের ওষুধ আর ইনসুলিন কিনে সেই সাথে এই রোগের চিকিৎসা খরচ মিটিয়ে সংসারের খরচ যোগানো অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আফতাবগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ৬৫ বছর বয়সী আব্দুর রহমান মিয়া বলেন, এই রোগে আক্রান্ত হয়ে তার দুই চোখ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এক সময় ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও এখন তিনি কিছুই করতে পারেন না। তার কোনো ছেলেও নেই। তাই ভিক্ষাবৃত্তি করে চিকিৎসা করাতে হয়। তিনি দাবি করেন ডায়াবেটিসের ওষুধের দাম কমানোর পাশাপাশি সরকারিভাবে দেয়া হলে তারা এসব ওষুধ খেয়ে বাঁচতে পারতেন। এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.