দেলদুয়ারে এসএসসির ফরম পূরণে মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায়

ফরিদ মিয়া দেলদুয়ার (টাঙ্গাইল)

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে বোর্ড ফি সর্বোচ্চ এক হাজার ৮৩৫ টাকা হলেও একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ফরম পূরণের জন্য দুই হাজার টাকা থেকে চার হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। অন্য দিকে টাকার রসিদ সরবরাহ করা হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। আর এ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র অভিভাবকেরা। উপজেলার বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে চলছে ফরম পূরণ নিয়ে এমন অনিয়ম। প্রতি বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত ফি না নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নির্দেশনা দিলেও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান তা মানছে না।
পাথরাইল বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়, নাল্লাপাড়া বেলায়েত হোসেন উচ্চবিদ্যালয়, সৈয়দ জব্বার আলী উচ্চবিদ্যালয়, ড. এফ আর খান পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, নলশোঁধা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বাথুলি উচ্চবিদ্যালয়, এলাসিন উচ্চবিদ্যালয়সহ বেশির ভাগ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ। এ অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার শিক্ষানুরাগীরা।
পাথরাইল বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্বীনবন্ধু প্রামাণিকের সাথে কথা বলার জন্য তার বিদ্যালয়ে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে তিনি বিদ্যালয়ে আসেন না। অনেকের অভিযোগ, দরিদ্র অভিভাবকেরা তার কাছে টাকা কমানোর অনুরোধ করবেন বলে তিনি প্রতি বছর কৌশলে এই সময় বিদ্যালয়ে থাকেন না। এ ব্যাপারে তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, দুই হাজার বা দুই হাজার ২০০ টাকা করে নিচ্ছি। কোচিং বাবদ কোনো টাকা নেয়া হচ্ছে না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিন ছাত্রী জানায়, তাদের কাছে চার হাজার ৫০০ টাকা করে চেয়েছিল, কিন্তু তারা দেয়নি। পরে তিন হাজার ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন। আর মডেল টেস্ট পরীক্ষার জন্যও এর আগে তাদের কাছ থেকে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে বলে তারা জানায়।
ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা গাভীর দুধ আর বাড়ির সবজি বিক্রি করে সংসার চালান। পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য একসাথে তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার টাকা দিতে ধারদেনা করতে হয়েছে।
উপজেলার বেশ কিছু বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ বিদ্যালয় মানছে না শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা। নেয়া হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি।
এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুল আহসান বলেন, বোর্ড ফি সর্বোচ্চ এক হাজার ৮৩৫ টাকা। এর বাইরে হয়তো প্রতিষ্ঠানের কিছু বৈধ পাওনা থাকতে পারে। তবে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ব্যাপারে তদন্ত করে দেখব। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি নিয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কুলে কোচিংয়ের কথা নীতিমালায় রয়েছে। তবে তা হতে হবে নিয়ম অনুযায়ী। এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে স্কুলে কোচিং করাতে বাধ্য করা যাবে না। এটা নির্ভর করবে শিক্ষার্থীর ওপর।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.