শ্রীপুরে আমন ক্ষেতে শেষ সময়ে পোকার আক্রমণ

নজরুল ইসলাম মাহবুব শ্রীপুর (গাজীপুর)

সারা দেশে এখন ধান কাটার ধুম। নবান্ন উৎসবের প্রস্তুতি চলছে গ্রামে গ্রামে। কিন্তু গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোদারচালা গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেনের চোখেমুখে বিষাদের ছায়া। কিভাবে সামনের একটা বছর পরিবারের খাওয়া যোগাবেন সে চিন্তায় তিনি অস্থির। কারণ তার একমাত্র সম্বল চার বিঘা জমির আমন ধান পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে। একাধিকবার কীটনাশক ছিটিয়েও তিনি ফসল রক্ষা করতে পারেননি। একই এলাকার আরেক কৃষক হুমায়ুন কবির জানান, আমনে এ রোগের আক্রমণ এত তীব্র যে ধানগাছ মরে খড়ে পরিণত হয়ে যায়। এসব খড় গবাদিপশুও খায় না। কীটনাশক দিয়ে সামলাতে না পেরে অনেকে আক্রান্ত ধানক্ষেত আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছেন। আলতাফ হোসেন ও হুমায়ুন কবিরের মতো শ্রীপুরের অনেক কৃষক এবার ধান ঘরে তুলতে পারছেন না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাদামি ঘাসফড়িং ও ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইটেডের (বিএলবি) হাত থেকে ধানক্ষেত রক্ষা করতে না পেরে বাকি জমি সুরক্ষিত রাখার জন্য আক্রান্ত অংশ পুড়িয়ে দিচ্ছেন কৃষকেরা। অন্তত ২০ জন কৃষক জানিয়েছেন তারা গড়ে চার বিঘা জমির ধান পুড়িয়ে দিয়েছেন।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি মওসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে উফশী জাত ও ২৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিড) এবং প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে দেশীয় জাতের আমন ধানের চাষ হয়েছে। চলতি মওসুমে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবং অতিবৃষ্টির কারণে ধানক্ষেতে বিএলবি রোগ ও বাদামি ঘাসফড়িংয়ের আক্রমণ হয়েছে। কৃষকের অসাবধানতায় অনেক জায়গায় ধানের জমি রক্ষা করা যায়নি। এ পোকা অতি দ্রুত সময়ে ধানগাছে আক্রমণ করে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে এর থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধানের শীষ বের হওয়ার আগে ও পরে ব্যাপকভাবে এ রোগ দেখা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে অনেকে ক্ষেত রক্ষা করতে পেরেছেন। যেসব কৃষক রোগের লক্ষণ দেখে ব্যবস্থা নিতে দেরি করে ফেলেছেন তারা একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকার আক্রমণ থেকে ক্ষেত রক্ষা করতে পারেননি। বিন্দুবাড়ি জিওসি গ্রামের আব্দুল হামিদ বলেন, এ সময়ে প্রতিবছর আমরা নবান্ন উৎসব পালন করি এবার পোকায় ধান নষ্ট করে দেয়ায় আমাদের সামনে এখন অন্ধকার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুুয়িদ উল হাসান বলেন, ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও হঠাৎ প্রচুর বৃষ্টিপাত আবার গরম পড়ায় অর্থাৎ পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে (দিনে প্রচণ্ড গরম ও রাতে ঠাণ্ডা) ধানগাছে পাতাপোড়া রোগসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঘটে। এ ব্যাপারে কৃষকদের সতর্ক করতে আমরা ইউনিয়নপর্যায়ে স্কোয়াড গঠন করে কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছি। যারা পরামর্শ মেনেছে তারা কিছুটা রেহাই পেয়েছে, যারা মানেনি তাদের ক্ষেতে পোকার আক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তী সময় যাতে ক্ষেতে এ পোকা আক্রমণ করতে না পারে সে জন্য আক্রান্ত ফসল কিংবা ধানগাছের অবশিষ্টাংশে (নাড়ার অংশ) আগুন দিয়েছে কৃষকেরা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.