চেক প্রজাতন্ত্রে বৈষম্যের শিকার সংখ্যালঘু মুসলিমরা

প্রতিনিয়তই বর্ণবাদী ও বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হচ্ছেন চেক প্রজাতন্ত্রের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়। মধ্য ইউরোপের এই দেশটিতে জনসংখ্যার প্রতি হাজারে মুসলিমদের সংখ্যা দুইজনেরও কম। জনসংখ্যার এই ক্ষুদ্র অংশটি দেশটির প্রতিটি ক্ষেত্রে শিকার হচ্ছেন অবহেলা ও বৈষম্যের। দেশটিতে ইসলামের নামও মুছে ফেলতে চাইছেন কট্টর ডানপন্থীরা।
চেক প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামবিদ্বেষীদের দ্রুত উত্থান হচ্ছে, যার ফল ভোগ করছে দেশটির ক্ষুদ্র মুসলিম কমিউনিটি।
আলজাজিরার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে এই উত্থানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চেক-জাপানিজ উদ্যোক্তা ও রাজনীতিক তোমিও ওকামুরা। ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদ পরস্পরের সাথে যুক্ত বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন এই ইসলামবিদ্বেষী নেতা। তার একমাত্র নীতি হলো ‘ইসলামকে না বলুন, সন্ত্রাসকে না বলুন’। গত অক্টোবরের নির্বাচনে দলটির অভূতপূর্ব উত্থান হয়েছে ইসলামবিদ্বেষকে পুঁজি করে। নির্বাচনে তাদের মূল এজেন্ডা ছিল ‘চেক প্রজাতন্ত্র থেকে ইসলাম দূর করা’। আর এই এজেন্ডা নিয়েই পার্লামেন্টে তৃতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। এই সুযোগ নিয়ে ওকামুরা দেশটিতে ছড়াচ্ছেন ইসলামবিদ্বেষ।
এসপিডির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফ্রন্টসহ ইউরোপের অন্যান্য কট্টর-ডানপন্থী দলগুলোর সাথে। ওকামুরোর পরবর্তী টার্গেট অ্যাকশন অব ডিসস্যাটিসফাইট সিটিজেনস পার্টির (এএনও) নেতা আন্দ্রেজ বেবিসের সাথে সমঝোতা করে সরকারের অংশ হওয়া। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই তাদের। দলটির প্রধান ধনকুবের বেবিসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় অনেক দল এএনও’র সাথে জোট সরকার গঠনে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। আর এই সুযোগটিই নিতে চাইছেন ওকামুরা। তিনি বেবিসের দলকে শর্ত দিয়েছেন জোট সরকার গঠন করলে ‘শরিয়াহ’ নিষিদ্ধ ও মুসলিম অভিবাসীদের আগমন নিষিদ্ধ করতে হবে। স্থানীয় মিডিয়াকে ওকামুরা জানিয়েছেন তার শর্ত বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে বেবিসের দল এএনও। দু’টি দলের মতাদর্শগত মিলা থাকায় তাদের মধ্যে ঐক্য হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
গত জুনে আন্দ্রেজ বেবিস সাংবাদিকদের বলেন, ‘পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে আমাদের লড়াই করতে হবে’। বেলজিয়ামের উদারনীতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে ব্রাসেলসে যদি বেলজিয়ানদের চেয়ে মুসলিমদের সংখ্যা বেশি হয়, সেটি তাদের সমস্যা। আমাদের দেশে তা হতে দেবো না। এখানে কারা বসবাস করবে সে ব্যাপারে তারা কথা বলতে পারে না’। রাজনীতিকদের এসব ভাষা ও মনোভাবই দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ জাগিয়ে তুলেছে। এখন সেখানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হচ্ছে এটি। ইউরোপের আর কোনো দেশে যা এতটা আক্রমণাত্মক নয়।
আরো কয়েকটি ধর্মের মতো ইসলাম সরকারিভাবে স্বীকৃত ধর্ম চেক প্রজাতন্ত্রে, তবে এই ধর্মের অনুসারীদের পূর্ণমাত্রায় স্বাধীনতা ভোগ করার সুযোগ হয় না। মুসলিমদের স্কুল-মাদরাসা স্থাপন কিংবা জনসমাবেশ স্থলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার অনুমতি নেই। রাজধানী প্রাগের মুসলিম কমিউনিটির নেতা ভøাদিমির সাঙ্কা (৫৮) বলেন, ‘মুসলিমদের প্রায় সবাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ কিংবা এ রকম বড় পেশায় যুক্ত। তা সত্ত্বেও কিছু রাজনৈতিক দল আমাদের অধিকার হরণ করে ইসলামকে মুছে ফেলতে চায়। তবে কট্টরপন্থার উত্থান হলেও দেশটিতে হয়তো ইসলাম সরাসরি নিষিদ্ধ করা সম্ভব হবে না। চেক প্রজাতন্ত্রের আইনে সেটি বৈধও নয়। দেশটির সাংবিধানিক আদালতের প্রধান পাভেল রিচেটস্কি এ বিষয়ে বলেছেন, ‘কেউ ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।’
সূত্র : এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.