ছেলের বর্বরতা

তালাক দেয়া স্ত্রীকে ফিরে পেতে বাবাকে পুড়িয়ে হত্যা

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা

বগুড়ার আদমদীঘিতে লোমহর্ষক হত্যার বিবরণ দিলো পাষণ্ড ছেলে ওয়াহেদুল ইসলাম। সে তার তালাক দেয়া স্ত্রীকে ফিরে পেতে জন্মদাতা বাবাকে ঘুমের মধ্যে পুড়িয়ে হত্যার বর্ণনা দিয়েছে আদালতে। ওসি আবু সায়িদ মো: ওয়াহেদুজ্জামান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তির কথা নিশ্চিত করে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ দিকে ঘাতকের মা হাফছা বেগম দগ্ধ অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন এখন।
জানা যায়, তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরে পেতে বাবা-মা বাধা দিয়েছিলেন বলে গত ৯ নভেম্বর রাতে ওয়াহেদুল প্রতিবেশীদের বাড়ির দরজাগুলোতে শিকল আটকিয়ে দেয়। এরপর ঘুমন্ত বাবা-মায়ের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাড়ির বাইরে চলে যায়। প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর পাষণ্ড ঘাতক ছেলে সেখানে পৌঁছে।
উল্লেখ্য, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার আগাপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ আদমদীঘির কুশাবাড়ী গ্রামের ময়েজ উদ্দীনের মেয়েকে বিয়ে করে স্ত্রী ও ২ পুত্রসন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে ১৪-১৫ বছর ধরে বাস করে আসছিল। নিহত হামিদের ছোট ছেলে ওয়াহেদুল ইসলামের সাথে পাঁচ-ছয় বছর আগে গজারিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে মর্জিনা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ওয়াহেদুল স্ত্রীর সাথে তার বাবা-মায়ের বনিবনা না হওয়ায় মাঝে মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো। এর জের ধরে তিন-চার মাস আগে স্ত্রী মর্জিনাকে মৌখিকভাবে তালাক দেয় ওয়াহেদুল। তবে স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাবা-মাকে রাজি করাতে ব্যর্থ হলে সে এই ঘটনা ঘটায়। পুলিশ ঘটনার দিন ওয়াহেদুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে শাহাজাহান বাদি হয়ে থানায় হত্যামামলা করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.