ঢাকা ডায়নামাইটসের জয়ের নায়ক অমি ও মোসাদ্দেক  : শফিউদ্দিন বিটু
ঢাকা ডায়নামাইটসের জয়ের নায়ক অমি ও মোসাদ্দেক : শফিউদ্দিন বিটু

অমিতে উজ্জ্বল ডায়নামাইটস

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ব্যাটিংয়ে স্থানীয় ব্যাটসম্যানদের তেমন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। বোলিংয়েও সে একই অবস্থা। বিপিএলের এবার আসরে জয়জয়কার বিদেশীদের। এর মধ্যেও কিছু কিছু পারফরম্যান্স একেবারে যে হচ্ছে না তা নয়। বোলিংয়ে তাসকিন ও আবু জায়েদের পর ব্যাটিংয়ে মুমিনুল ও জহুরুল ইসলাম অমি স্থানীয়দের মুখ উজ্জ্বল রাখছেন। জাতীয় দলের দক্ষিণ আফ্রিকায় লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের পর সবার দৃষ্টি স্থানীয়দের ওপর। কিন্তু ঘরের মাঠেও অনুজ্জ্বল তারা! ফলে ২-১ ম্যাচে স্থানীয়রা ভালো করলেই ফোকাসটা চলে যায় তার ওপর। যেমন কাল জহুরুল ইসলাম অমি। জাতীয় দলে অনেক আগে খেলেছেন (২০১৩-এর মার্চ-এপ্রিলে শেষ টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০)। বেশ গ্যাপ হয়ে গেছে এ স্থানে তার। মুমিনুল তো এক ম্যাচে খেলেন অন্য ম্যাচে সাইডলাইনে। হাতুরাসিংহের বেশ কিছু মন্তব্যে মুমিনুল বেশ দিশেহারাও। এরই মধ্যে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে অপরাজিত ৪৪ বলে ৬৩ রানের ইনিংস জাতীয় দলের স্কোয়াডে থাকা ব্যাটসম্যানদের বড় অপবাদ থেকেও মুক্ত রেখেছেন! কাল স্থানীয় আরেক খেলোয়াড় জহুরুল ঢাকা ডায়নামাইটসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ডায়নামাইটস যখন নির্ঘাত পরাজয়ের দিকে যাচ্ছিল, সেখান থেকে একরকম টেনে তুলেছেন স্থানীয় এ ব্যাটসম্যান। সাথে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান কাইরন পোলার্ডও ছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে খেলে অমি ম্যান অব দ্য ম্যাচের জন্যও নির্বাচিত হয়েছেন। খুলনা টাইটানসের করা ১৫৬/৫ রানের জবাবে খেলতে নেমে ডায়নামাইটসের চার টপ অর্ডারের বিদেশী ব্যাটসম্যান ২৪ রানে আউট হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচে অন্ধকার দেখছিল যেন ঢাকা। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আউট হন এরপর। দলের রান তখন ৪১/৫। এ সময় ব্যাট হাতে দলের দায়িত্ব নেন ওই উইকেট কিপার কাম ব্যাটসম্যান অমি। এমনিতেই টপ অর্ডারে ব্যাটিং করে অভ্যস্ত। কিন্তু দলের কম্বিনেশনে তাকে একটু নিচে নেমেই ব্যাটিংটা করতে হয়। কাল ম্যাচ শেষে জানালেন, ‘দলে যে সব ব্যাটসম্যানরা রয়েছেন টপ অর্ডারে, আসলে তাদের পারফরম্যান্সের পর ব্যাটিংয়ে তেমন সুযোগ পাওয়া যায় না। এ ম্যাচে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। এবং আমার পারফরম্যান্সে দল জিতেছে এটা বেশি আনন্দের। বড় কথা, আসল কাজটা করে দিয়েছেন কাইরন পোলার্ড। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে এগিয়ে দিয়ে গেছেন। বাকিটা মোসাদ্দেককে নিয়ে আমি করেছি।’ এক প্রশ্নের উত্তরে অমি বলেন, ‘আমরা যখন ব্যাটিংটা করছিলাম। তখন প্রয়োজনীয় রান রেট ছিল ১৩-এর ওপরে। আসলে আমাদের অত বড় টার্গেট তাড়া করার অভ্যাস নেই। আমরা ৮-৯ এমনটা করে আসছি। তবে এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন পোলার্ড।’
জহুরুল উইনিং শটটা নিয়েও বেশ আলোড়ন তুলেছে। কারণ এ টাইপের শট সাধারণত খেলেন না তিনি। কিন্তু জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছতে যখন দুই বলে প্রয়োজন ছিল ৪ রান, তখন তো উত্তেজনায় কাঁপছিল যেন ঢাকার দর্শকেরা। ব্রেথওয়েটের করা বলটি নিয়ে আগেই চিন্তা করে রেখেছিলেন জহুরুল। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলাম ও (বোলার) আমাকে ইয়রকার দেবে। ফলে আমি সেটাকে ওই শটে (রিভার্স স্কোপ) খেলার চেষ্টা করে সফল হই।’ অমি বলে চোখ রেখে বসে শট খেলে থার্ডম্যান অঞ্চল দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসান ঘটান দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়ে। তিনি বলেন,‘আসলে এ ধরনের শট আমি কখনই ম্যাচে খেলিনি। অনুশীলনে মাঝে মধ্যে চেষ্টা করতাম। এ ম্যাচে এমনটা আসলে প্রয়োজনের তাগিদেই হয়ে গেছে। বলতে পারেন অনেকটা গ্যাম্বলিং।’ যেহেতু আর একটা বল ছিল তাই রিক্সটা তিনি ওই বলেই নেন। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তার লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের প্রশংসা করে বলেন, ‘আসলে ১৬০ রানের লক্ষ্যে পাওয়ারপ্লেতে ২-৩ উইকেটের পতন হলে সেখান থেকে কামব্যাক করা কঠিন। কিন্তু এ ম্যাচে আমরা সে কঠিন কাজটা করতে পেরেছি। এটাতে আমাদের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়েছে।’ টাইটানসের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেন, ‘নতুন বলে ও পাওয়ারপ্লেতে দুই দলই সমস্যায় পড়েছি। কিন্তু পোলার্ড সব হিসেব বদলে দিয়েছে।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.