ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলায় পুলিশের চূড়ান্ত রিপোর্ট

আদালত প্রতিবেদক

কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে আদালতে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুল হক এ প্রতিবেদন ঢাকার সিএমএম আদালতে দাখিল করেন।
আদাবর থানার সংশ্লিষ্ট জিআরও এসআই মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতারের করা মামলার সত্যতা পাওয়া যায়নি। আসল ঘটনা ওই মামলায় আড়াল করা হয়েছেÑ এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করায় ফরিদা আখতার ও ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি বলেন চূড়ান্ত রিপোর্টটি বর্তমানে আমার হাতে আসার পর আমি সাথে সাথে ডিসি প্রসিকিউশনের কাছে নিয়ে যাই। অতঃপর তিনি সিএমএম-এর কাছে প্রেরণ করেন। আগামী ধার্য তারিখ ৭ ডিসেম্বর চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির জন্য আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্টটি উপস্থাপন করা হবে।
ফরহাদ মজহার অপহরণের মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়ায় বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ পি কে আব্দুর রব বলেন, ফরহাদ মজহার মামলার ঘটনা তৎপরবর্তী পুলিশের বক্তব্য এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রমাণ করে কাউকে প্রসিকিউট করা বা না করা আইনের বিধান সাপেক্ষ নয়। সংশ্লিষ্টদের ইচ্ছা-অনিচ্ছানির্ভর। কোনো একটি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে ঘটনা সম্পর্কে বাদিকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত। ফৌজদারি কার্যবিধি ২১১/১০৯ ধারা অনুযায়ী বাদি ও ভিকটিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি চেয়ে পুলিশ প্রমাণ করেছে আইন পুলিশের নির্যাতনের হাতিয়ার। আদালত পুলিশের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে কি না সেটা ধার্য তারিখে প্রমাণিত হবে।
গত ৩ জুলাই ভোরে রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর ফরহাদ মজহার ‘অপহৃত’ হয়েছেন বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। এরপর তার স্বজনরা আদাবর থানায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। টানা ১৮ ঘণ্টা ‘নিখোঁজ’ রহস্যের পর ওই দিন রাতেই ফরহাদ মজহারকে যশোরের নোয়াপাড়া থেকে উদ্ধার করে র্যাব। ওই সময় তিনি হানিফ পরিবহনের একটি বাসে খুলনা থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। ফরহাদ মজহার নিখোঁজ বিষয়ে তার স্ত্রীর করা জিডি মামলা আকারে নেয়া হয়। এতে ভিকটিম হিসেবে ফরহাদ মজহার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন। জবানবন্দী শেষে নিজ জিম্মায় বাসায় ফেরার অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.