এস কে সিনহার পদত্যাগ অশনি সঙ্কেত : ড. মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেষ হয়ে আসছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ অশনি সঙ্কেত। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই পদত্যাপত্র দেননি, জোর করে তাকে দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে। এটা অশনি সঙ্কেত, এটা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। উচ্চ আদালতে যে নজিরবিহীন, খারাপ, হীন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো তা বাংলাদেশের মানুষ কখনো গ্রহণ করবে না। গতকাল এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এস কে সিনহাকে নজিরবিহীনভাবে ন্যক্কারজনকভাবে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে আজকে বলেছেন যে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও দফতর সম্পাদক এস কে সাদীর পরিচালনায় সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষক দলের সহসভাপতি এম এ তাহের, নাজিমউদ্দিন মাস্টার, যুগ্ম সম্পাদক তকদির হোসেন জসিম, জামাল উদ্দিন খান মিলন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ওই রায়ে বর্তমান সংসদকে এস কে সিনহা ডিসফাংশনাল বলেছেন। এতে আওয়ামী লীগ গোস্সা হয়েছে। আসলেই এ সংসদ ডিসফাংশনাল; কারণ এখানে ১৫৪টি আসনে জনগণ কাউকে ভোট দেননি। সংবিধানে লেখা আছে জাতীয় সংসদ সদস্য তিনি যিনি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। অথচ এই ১৫৪ জন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নন। একটি রিট করা আছে যে ১৫৪ জন অবৈধ। আমরা শুনতে পাচ্ছিলাম যে, প্রধান বিচারপতি ছুটি থেকে ফিরে সেই রিটের শুনানি করবেন। হয়তো সিদ্ধান্তে যেতে পারে ১৫৪ আসন অবৈধ। তাহলে সরকার অবৈধ হয়ে যায়। এজন্যই সরকার প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যক্কারজনকভাবে, নজিরবিহীন আচরণ করল, প্রথমে সুস্থ মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে ছুটির দরখাস্ত করিয়ে নিলো, পরে তাকে গায়ের জোরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিলো।
তিনি বলেন, মানুষের শেষ আশা-ভরসারস্থল বিচারালয়। প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, এই সরকার নি¤œস্তরের সকল আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে, আর উচ্চ আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। আমরা ফলাফল দেখলাম। এভাবে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভকে ধ্বংস করে আওয়ামী লীগ অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একটা জঙ্গল আইন করতে চায়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী আগামী নির্বাচন যদি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে না হয়, এই আওয়ামী লীগ যদি আবার গায়ের জোরে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হয়, জনগণ এবার তা হতে দেবে না। জনগণ রাস্তায় নামবে। জাতীয়তাবাদী শক্তির নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই জনগণকে নেতৃত্ব দেবেন। রাস্তায় এসে জনগণ তাদের প্রস্তাবিত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে যাবে। সেই নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জাতীয়তাবাদী শক্তিকে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের জন্য, গুম-খুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাবে। খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা উপযুক্ত সময়ে দেবেন।  

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.