জাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

সবচেয়ে কম যোগ্য প্রার্থীকে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ

এম এন নোমান জাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে সবচেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে সিলেকশন কমিটি। এ নিয়ে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুুমুল বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভাগীয় সভাপতি ড. মো: খালিদ কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী এক ছাত্রীকে নিয়োগের সুপারিশ করার অভিযোগ উঠেছে।
২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে থিসিস গ্রুপের রেজাল্ট না দিয়ে শুধু নন-থিসিস গ্রুপের রেজাল্ট দিয়ে উম্মে পারভীন নামের ওই ছাত্রীকে প্রভাষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। অপেক্ষাকৃত মেধাবী ও থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থীদের কৌশলে বাদ দিতেই এমনটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঁচজন শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত ২৮ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। একজন স্থায়ী সহকারী অধ্যাপক, তিনজন স্থায়ী প্রভাষক ও একজন অস্থায়ী প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিলেও মূলত অস্থায়ী প্রভাষক পদে নতুন একজনকে নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে। বাকি পদগুলো বিভাগের অস্থায়ী শিক্ষকদের মধ্য থেকে স্থায়ী করা হবে। সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের উম্মে পারভীনকে অস্থায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করে সিলেকশন কমিটি, যাকে আগামী সিন্ডিকেটে সভায় নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া আবেদনকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা আবেদন করেছেন তারা সবাই উম্মে পারভীনের থেকে অপেক্ষাকৃত অভিজ্ঞ ও যোগ্যতা সম্পন্ন। আবেদনকারীদের মধ্যে সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম স্নাতকে ৩.৮১ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৮৮, জেরিন তানজিম স্নাতকে ৩.৭৩ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৮৪, নাবিলা জাহান জয়ী স্নাতকে ৩.৬৮ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৭২, মো: সাইফুল্লাহ আকন স্নাতকে ৩.৭৩ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৬৬, আল আমিন স্নাতকে ৩.৬৩ ও স্নœাতকোত্তরে ৩.৭৮, মো: শাহাদাত হোসাইন স্নাতকে ৩.৬৬ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৬৯ এবং মো: আবদুল মমিনের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ৩.৬০ রেজাল্ট রয়েছে।
এ ছাড়া জাবি থেকে সুপ্রীতা চৌধুরী স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ৩.৫৫ (থিসিস) এবং উম্মে পারভীনের স্নাতকে ৩.৫৫ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৫২ (নন-থিসিস) রেজাল্ট রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলধারী উম্মে পারভীনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকেও তার রেজাল্ট তুলনামূলক খারাপ।
বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন- মূলত পারভীনকে নেয়ার জন্যই থিসিস গ্রুপের রেজাল্ট না দিয়ে নন-থিসিস গ্রুপের রেজাল্ট দিয়ে তাকে আবেদন করতে বলা হয়। আর বিভাগীয় সভাপতির নির্দেশেই উম্মে পারভীন আবেদন করেন।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর পরীক্ষা শেষ হয়। এরপর থিসিস গ্রুপের জন্য নির্ধারিত সময় তিন মাস শেষ হলেও বিভাগীয় সভাপতি অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর থিসিস কর্ম শেষ করতে না পারায় বারবার মৌখিক পরীক্ষা পিছিয়ে ২২ জুলাই শেষ করা হয়। মৌখিক পরীক্ষার চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো থিসিস গ্রুপের রেজাল্ট দিতে পারেনি বিভাগটি। যদিও মৌখিক পরীক্ষা বারবার পেছানোর কারণ হিসেবে বিভাগের এক ছাত্রকে দায়ী করেছেন বিভাগের সভাপতি খালিদ কুদ্দুস। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ছাত্র বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং আমি নির্দিষ্ট সময়ে মৌখিক পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।
বিভাগের সার্বিক বিষয়ে এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, বিভাগে এ ধরনের নিয়োগ নিয়ে আমি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে বাদ দিয়ে যখন কম যোগ্য প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করা হয় তখন বোঝাই যায় বিভাগটি ধ্বংস করার জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বিভাগীয় সভাপতি মো: খালিদ কুদ্দুস বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি করা হয়নি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.