রাখাইনে সহিংসতার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী দায়ী : ব্রিটিশ মন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের এশিয়া-প্যাসেফিকবিষয়ক মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড রাখাইনে সহিংসতার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, রাখাইনে যা ঘটেছে তা জাতিগত নিধন বলেই মনে হয়।
গতকাল ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে মার্ক ফিল্ড বলেছেন, সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর পশ্চিমা কোনো মন্ত্রী হিসেবে আমিই প্রথম রাখাইন রাজ্য পরিদর্শন করেছি। সেখানে আমি হত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ সব ঘটনার বর্ণনা শুনেছি।
তিনি বলেন, গত সোমবার ব্রিটেন ও ফ্রান্সের প্রস্তাবের ভিত্তিতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতি দিয়েছে। এতে রাখাইন রাজ্যে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ অনতিবিলম্বে বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কফি আনানের রাখাইন পরামর্শক কমিটিও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সমস্যার সমাধান ও তাদের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলেছে।
মার্ক ফিল্ড বলেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চির সাথে গত সেপ্টেম্বরে সাক্ষাৎকালে আমি এসব বিষয় সরাসরি তার কাছে উত্থাপন করেছি। সু চি জনসমক্ষে উদ্বাস্তু প্রত্যাবাসনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এ জন্য তার সম্ভাব্য সব কিছুই করা প্রয়োজন। তবে ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সু চির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। তাই সামরিক বাহিনীর ওপর সু চির নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি বলেন, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছেন সু চি। মিয়ানমারের ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আমাদের সুরক্ষা ও সমর্থন দিতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত নাও হতে পারে।
ব্রিটিশ মন্ত্রী বলেন, মানবিক সঙ্কটের জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী দায়ীÑ এ ব্যাপারে আমাদের সন্দেহ নেই। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের আহ্বানে সাড়া দিতে হবে এবং জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের তথ্যানুসন্ধান মিশনকে সহযোগিতা দিতে হবে। রাখাইনে ঠিক কী ঘটেছিল তা খুঁজে বের করাই এই মিশনের লক্ষ্য।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.