অর্থনীতির চিত্রের সাথে প্রবৃদ্ধির কোনো মিল নেই : বিশ্বব্যাংক

প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ ঘোষণা; জিডিপিতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ৩০.৫১ শতাংশ
হামিদ সরকার

সরকার দাবি করছে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছর দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ হয়েছে, যা খসড়ায় ছিল ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধির দাবির সাথে অর্থনীতির বাস্তব চিত্রের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, ২০১৩ সালের পর থেকে দেশে অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান কমেছে। তাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ে কী করে? গত মে মাসে বিশ^ব্যাংক বলেছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ হবে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গতকাল সাংবাদিকদের জানান, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ল্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। সেটা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। এর ফলে জিডিপির আকার বেড়ে হয়েছে ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের ৩৪ বছরে জিডিপির আকার ছিল ১ শ’ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেটা এখন ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলত জিডিপির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির কারণেই মানুষের গড় মাথাপিছু আয়ও বেড়ে এক হাজার ৬১০ ডলার হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তিনটা খাতের মধ্যে কৃষি খাতে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, শিল্প খাতে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ ও সেবা খাতে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, জিডিপিতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির হার ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০১৯ সালে ৮ শতাংশের ওপরে যাবে। আশা করছি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে থাকবে। তাহলেই আমরা আমাদের ২০৪১ সালের প্রকৃত ল্য অর্জন করতে পারব। বর্তমানে সারা বিশ্বে কম সময়ে মাত্র তিনটা দেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে অর্জন করল। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশ দু’টি হচ্ছে কম্বোডিয়া ও ইথিওপিয়া। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ।
বিশ^ব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, এই প্রবৃদ্ধির দাবির সাথে অর্থনীতির বাস্তব চিত্রের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না। প্রবৃদ্ধির সুফল কর্মসংস্থান খাতে দেখতে পাচ্ছি না। পোশাক শিল্পেও কর্মসংস্থান কমেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে গেছে। জিডিপির অনুপাতে ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়েনি। তিনি বলেন, ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ যখন বলা হয়েছিল তখনই যে প্রশ্নগুলো উঠেছিল এখনো সেগুলো আছে। অন্যান্য সূচকের সাথে মেলানো কঠিন হচ্ছে। রফতানি, রেমিট্যান্স, ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহের যে অবস্থা তাতে এতটা প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা নয়।
তিনি বলেন, সরকার যা বলছে তাহলে সেটা তো রেকর্ড। আমাদের রফতানি প্রবৃদ্ধি দুর্বল, অন্যান্য খাতে এত বড় প্রবৃদ্ধি এলো কিভাবে? তিনি বলেন, ২০১৩ সালের পর অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান কমেছে। তিনি প্রশ্ন করেন, প্রবৃদ্ধি বাড়ল, তাহলে কর্মসংস্থান হলো না কেন?
মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৮ ডলার
দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৮ ডলার। এটি বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬১০ ডলারে। জাতীয় আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের ক্রয়মতাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে একনেকের সভা শেষে গতকাল পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় ৮ ডলার বেড়েছে। গত অর্থবছরে দেশবাসীর মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৬০২ ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ২৮ হাজার ১৬০ টাকা। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৩১৬ মার্কিন ডলার।
মন্ত্রী জানান, গত অক্টোবর শেষে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। চালের দাম কিছুটা কমেছে। আশা করছি, আগামীতে এটা আরো কমে যাবে। বন্যার কারণেই মূলত আমাদের এ মূল্যস্ফীতি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.