উত্তেজনা ছড়িয়ে ঢাকার জয়

জয় পেল ভিক্টোরিয়ান্স
ক্রীড়া প্রতিবেদক

শেরেবাংলার মূল গেটের সামনের রাস্তা একেবারেই ফাঁকা রাখা হয় ম্যাচ চলাকালীন! প্রতিটি ম্যাচেই নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন থেকে রাস্তার দুই প্রান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়। টিকিট ছাড়া ওই এলাকায় প্রবেশেও দেয়া আছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু কাল মিরপুরের ওই রাস্তার বিশাল একটা অংশ দেখে মনে হচ্ছিল বাস টার্মিনাল। দোহার অঞ্চলে যেসব বাস চলাচল করে ঢাকা থেকে সেসব বাসে রাস্তা সয়লাব। বাসের যারা যাত্রী তারা সবাই ঢাকা ডায়নামাইটসের টি-শার্ট পরিহিত। পেছনে লেখা জিতবে ঢাকা-দেখবে দেশ। কারো যদি খেলার শিডিউল জানা নাও থাকে, বাস ও যাত্রীদের দেখে অনায়াসেই বলে দেবেন স্টেডিয়ামে নির্ঘাত খেলা- ঢাকা ডায়নামাইটসের। বিপুল ওই সকল দর্শক ঢাকাকে সাপোর্ট দিতে দোহার অঞ্চল থেকে ছুটে এসেছেন! এ জন্য তাদের জন্য ওই বিশেষ ব্যবস্থা বাস রাখা খুলনা বা চিটাগাং থেকে আসলে হয়তো ওই সুযোগ পাওয়া যাবে না। ঢাকা বলে কথা!
কাল ওই সব দর্শকও গ্যালারিতে দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। ঢাকা জিতবে তো! খুলনা টাইটানস সিলেটে অনুষ্ঠিত আগের মুখোমুখিতে হারের প্রতিশোধের জন্য ছিল মরিয়া। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে জয় নিশ্চিত হয় ঢাকার জয়। জহুরুল ইসলাম অমির দায়িত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে বিপদে পড়েও সাকিব আল হাসানের ঢাকা তুলে নেয় ম্যাচে জয় ১ বল হাতে রেখে চার উইকেটে। তবে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে দুইটি দলেরই সুযোগ ছিল জয়ের। এক দিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অন্য দিকে সাকিবের রণকৌশল। ম্যাচ চলছিল সমানে সমান। কখনো এগিয়ে যায় টাইটানস কখনো ডায়নামাইটস। শেষ পর্যন্ত জয়ে তৃপ্ত হলো ডায়নামাইটসই। প্রথম ব্যাটিং করে এ ম্যাচে টাইটানস সূচনায় স্লো ব্যাটিং করে পেছনে পড়ে গেলেও শেষের দিকে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান ব্রেথওয়েটের দুর্দান্ত ব্যাটিং চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে নিয়ে যায় দলকে। ২৯ বলে ছয়টি ছক্কা, চারটি চারের সাহায্যে ৬৪ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন ১৫৬ রানের সম্মানজনক অবস্থানে। রুশো করেছিলেন ৩৪। বোলিংয়ে রনি নেন দুই উইকেট। আফ্রিদি ও সাকিব নেন একটি করে।
এরপর ১৫৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ঢাকা সহজে জিতবে এমনই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু ঘটনার সূচনা সেখানেই। চার রানে এভিন লুইস আউট হওয়ার পর, ছয় রানে আউট হন শহীদ আফ্রিদি। এরপর ১৩ রানে ডেলপোর্ট ও ২৪ রানে অপর ওপেনার সুনিল নারিন আউট হলে প্রচণ্ড চাপে পড়ে যায় ঢাকা। ম্যাচে তখন স্পষ্ট প্রাধান্য খুলনার। সাকিব অবশ্য ক্রিজে ছিলেন। কিন্তু মাহমুদুল্লাহর বলে তিনিও আউট দলীয় ৪১ রানে। নির্ঘাত পরাজয়ে যাচ্ছিল ঢাকা। সারা ম্যাচে যে উচ্ছ্বাস ঢাকার দর্শকদের। সেখানে নেমে আসে নীরবতা। কিন্তু এ সময় দলের দায়িত্ব নিয়ে খেলেন জহুরুল ইসলাম ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান কাইরন পোলার্ডকে নিয়ে। ৭৩ রানের দুর্দান্ত এক পার্টনারশিপ খেলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। পোলার্ড ঝড়ো এক ইনিংস খেলে আউট হয় তখন। ২৪ বলে করেছিলেন তিনি ৫৫ রান। এরপর জহুরুল মোসাদ্দেকে নিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছান তিনি এক বল হাতে রেখে। তবে জহুরুল খেলেন অসাধারণ ইনিংস। ঠাণ্ডা মাথায় প্রতিপক্ষের সব অ্যাটাক দেখেশুনে খেলে দলকে নিয়ে যান তারা জয়ের লক্ষ্যে। জহুরুল ৩৯ বলে ৪৫ ও মোসাদ্দেক ১২ বলে ১৪ করে ছিলেন অপরাজিত। ম্যাচসেরা হন জহুরুল এ ম্যাচে। এ জয়ে ঢাকা উঠে যায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।
জয় পেল ভিক্টোরিয়ান্স
ইনজুরি কাটিয়ে ম্যাচে ফিরলেন তামিম ইকবাল। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এ আইকনের ফেরার ম্যাচটা জয় দিয়েই উদযাপন করল দল। হারিয়ে দিয়েছে তারা চিটাগাং ভাইকিংসকে ১১ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সূচনায় অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ে গোটা সফরই টেনে-হিঁচড়ে পার করেছিলেন তামিম। শেষের দিকে সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরেও আসতে হয়েছিল। বিপিএলে সে ইনজুরির জন্যই খেলেননি তিনি। কাল পূর্ণ ফিট হয়েই নেমেছেন। যদিও রান পাননি। ৪ রান করেই আউট হয়েছেন। তবে তা আর মনে রাখতে দেননি ইমরুল কায়েস, বাটলাররা। চমৎকার ব্যাটিং করে দলকে পৌঁছে দেন তারা জয়ের লক্ষ্যে। ইমরুল কায়েস ৩৬ বলে ৪৫ ও বাটলার করেছিলেন ৩১ বলে ৪৪। শেষের দিকে মারলন স্যামুয়েলস ও মোহাম্মাদ নবি অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে ফেরেন। এর আগে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে চিটাগাং ভাইকিংস ধুঁকতে ছিল ব্যাটিংয়ে। কুমিল্লার বোলারদের বিপক্ষে সতর্ক হয়ে খেলতে গিয়ে বড় স্কোর করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ৪ উইকেটে ১৩৯ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল তাদের ইনিংস। যার মধ্যে রঞ্চির ১৯ বলে ৩১, সৌম্য সরকারের ৩২ বলে ৩০ রান ছিল উল্লেখযোগ্য। কুমিল্লার বোলাররা উইকেট প্রাপ্তিতে তেমন সফল না হলেও রান চেক দিয়েছেন। বিশেষ করে আফগান দুই বোলার মোহাম্মাদ নবি, রাশিদ খান এ ম্যাচেও চমৎকার বোলিং করেছেন। এর পাশাপাশি স্পিনার আরাফাত সানিও নিখুঁত নিশানায় বোলিং করে চিটাগাংয়ের ব্যাটসম্যানদের সেভাবে রান সংগ্রহ করতে দেননি। রশিদ খান তার ৪ ওভারে দিয়েছেন ১৭ রান, উইকেট একটি। মোহাম্মাদ নবি ৩ ওভারে দেন ১৯। আরাফাত সানি ৩ ওভারে দিয়েছেন ১৪ রান। খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন কুমিল্লার টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। কুমিল্লার পয়েন্ট ৪ ম্যাচে ৬। সমান খেলায় ভাইকিংসের ২।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.