একনেকে অনুমোদন

শেখ হাসিনার নামে বরিশালে সেনানিবাস

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পায়রা নদীসংলগ্ন লেবুখালীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নতুন একটি সেনানিবাস স্থাপনের উদ্যোগকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা দক্ষিণাঞ্চলে কোনো সেনানিবাস না থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হয়। এর মাধ্যমে সমুদ্র উপকূলে জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যুহে সন্নিহিত করা হবে। কৌশলগত দিক থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সম্ভাব্য যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্রুত মোকাবেলা করার বিষয়টি বিবেচনা করেও সেনানিবাসটি স্থাপন করা হচ্ছে। এক হাজার ৫৩২ একর জমিতে এই নতুন সেনানিবাস করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় বরিশালে শেখ হাসিনা সেনানিবাস স্থাপন প্রকল্পসহ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। অনুমোদিত ১০ প্রকল্পে ব্যয় হবে তিন হাজার ৩৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। যার মধ্যে সরকারি তিন হাজার ৩১৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বাকিটা সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসবে। ব্রিফিংয়ে অতিথি হিসেবে ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।
মন্ত্রী জানান, এক হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে সেনানিবাস স্থাপনে। আগামী ২০২১ সালের জুনে শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০১৪ সালের ২৫ জুন এটি স্থাপনে অনুমোদন দেন। এখন ৯৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। তবে এখানে চর বলে তেমন কোনো জনবসতি নেই। তাই কোনো ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯টি ডিভিশনে ৩০টি সেনানিবাস রয়েছে। রাজস্ব বাজেটের আওতায় ৫৬৭ একর জমি কেনা হয়েছে। এখন ৯৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন। প্রকল্পের কাজ হলো ৫০ লাখ ৩১ হাজার ৫৯৮ ঘন মিটার মাটি ভরাট/ভূমি উন্নয়ন, ৩৫ হাজার ৩৪২ বর্গমিটার আয়তনের আটটি অফিস ভবনও হবে। ভবনের উচ্চতা হবে সর্বোচ্চ চার তলা। দুই লাখ ২৩ হাজার ২৯৪ বর্গমিটার আয়তনের ১২টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এই ভবনগুলোর সর্বোচ্চ উচ্চতা হবে ১৪ তলা। নয়টি অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো নির্মিত হবে। এ ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় আরো থাকছে তিন লাখ ৬৫ হাজার ১৪৯ বর্গমিটার বিটুমিনাস রোড ও এক লাখ ৭৩ হাজার ৯৪০ বর্গমিটারের সারফেস ড্রেন। সর্বোচ্চ চার তলার আটটি অফিস ভবন হবে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত ৫৫ পদাতিক ডিভিশনকে এই অঞ্চলের ২১টির জেলার প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবেলা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত ২০১৪ সালের ২৫ জুন প্রস্তাবিত সেনানিবাসটি স্থাপনের অনুমোদন দেন। এটি স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। চলতি ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে আগামী ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে।
জানা গেছে, মোংলা বন্দরের আউট বার এলাকায় কম গভীরতার কারণে সাড়ে আট মিটারের অধিক ড্রাফটের জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। বঙ্গোপসাগর হতে মোংলা বন্দরের চ্যানেলের প্রবেশমূখে কম গভীরতা সম্পন্ন একটি প্রশস্ত নৌপথ রয়েছে। যা আউট বার নামে পরিচিত। বড় জাহাজের স্বাভাবিক প্রবেশের জন্য বন্দরের আউট বার এলাকায় গভীরতা বাড়াতে এখন ড্রেজিং করা হচ্ছে। মোংলা বন্দরের অবস্থানগত কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ ভারত, নেপাল এবং ভুটানের মালামাল হ্যান্ডলিং ও পরিবহনের সহজ সুযোগ বিদ্যমান। পদ্মা বহুমুখী সেতু বাস্তবায়নের পর ও খুলনা-মোংলা রেল লাইন স্থাপন এই বন্দরের ব্যবহার বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু মোংলা বন্দরের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডেল করা প্রয়োজন। এই জন্যই আউট বার এলাকায় এই ড্রেজিং প্রস্তাবনা। এখানে ১০৩ দশমিক ৯৫ লাখ ঘন মিটার ড্রেজিং করা হবে। যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ৬৮৫ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা
একনেকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলোÑ ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিং, ১০৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে শালিখা (মাগুরা)-আড়পাড়া-কারিগঞ্জ (ঝিনাইদহ) জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতীকরণ প্রকল্প, ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ১২৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর খুলনা ও যশোর জেলা ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প, ৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প, ১৮৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ভেড়ামারা (বাংলাদেশ)-বহরমপুরের (ভারত) দ্বিতীয় ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন (বাংলাদেশ অংশ) নির্মাণ প্রকল্প, ১৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতীয় চিত্রশালা এবং জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্প, ১১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প এবং ৯০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ইনস্টিটিউট অব বায়োইকুভ্যালেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড ফার্মাসিটিক্যাল সাইন্সেস প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.