সংসদে সেনানিবাস আইন বিল উত্থাপন

সংসদ প্রতিবেদক

১৯২৪ সালের তৈরি ক্যান্টনমেন্ট আইন আরো যুগোপযোগী করতে সেনানিবাস আইন ২০১৭ নামে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সংসদ কার্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে তা যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এজন্য কমিটিকে সময় দেয়া হয়েছে ৩০ দিন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন বিলটি উত্থাপনের আগে আপত্তি জানান জাতীয় পার্টি দলীয় সদস্য ফখরুল ইমাম। পরে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্ট ১৯২৪ দ্বারা সেনানিবাসগুলোর প্রশাসন পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশে প্রচলিত ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে ইংরেজি ভাষায় প্রণীত আইন বাংলায় ভাষান্তর সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিদ্যমান ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্ট ১৯২৪ হালনাগাদ করে সেনানিবাস আইন, ২০১৬ এর খসড়া প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট, ১৬ সেপ্টেম্বর, ১০ নভেম্বর, ১৮ নভেম্বর এবং ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মতামতের আলোকে ‘সেনানিবাস আইন ২০১৭’ শীর্ষক আইনের একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এতে বলা হয়েছে বিধ্যমান আইনে ২৯২টি ধারা রয়েছে। যার কিছু ধারা অনাবশ্যক বিবেচনায় বর্জন করা হয়েছে। কিছু নতুন ধারা আবশ্যক বিবেচিত হওয়ায় সংযোজন করা হয়েছে। এভাবে প্রস্তাবিত সেনানিবাস আইন ২০১৭-এ ১৬টি অধ্যায়ে মোট ২১৮টি ধারা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া দ্বারা প্রধানত বিদ্যমান আইনকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এতে অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদফতরকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। সামরিক আবাসিক প্রকল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ৯০ বছর আগে নির্ধারিত বিভিন্ন ফি ও জরিমানার পরিমাণ বর্ধিত করা হয়েছে।
এ দিকে বিলটি সংসদে উত্থাপনের আগে এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ফখরুল ইমাম বলেন, বিলের নামটি স্পর্শকাতর। তাই বেশি কথা বলা যাবে না। বিলটি ঘণ্টাখানেক আগে পেয়েছি। তাই পুরোটা পড়ার সময় পাইনি। যতটুকু দেখেছি তাতে এরকম একটি বিল রহিত না করে সংশোধন না করে কেবল সমন্বয় করা হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব তা আমার বোধগম্য নয়। আইনমন্ত্রী বিষয়টি আরো ভালো জানেন। নতুন এই বিলের কয়েকটি ধারা তুলে ধরে বলেন, এগুলোর যৌক্তিকতা সম্পর্কে আমার বোধগম্য নয়।
আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিলটি আগে ইংরেজিতে ছিল। এখন তা বাংলায় ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। বিলটি রহিত করারও বিধান রয়েছে। তাই এ নিয়ে উনার যে দুশ্চিন্তা তা দূর করতে পেরেছি বলে মনে হয়। তিনি বলেন, বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে তিনি আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন। সেখানে আমরা জবাব দিতে পারব।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.