জীবননগরে তিন ইউনিয়নে ১৪ বছর পর ভোটের আমেজ

আতিয়ার রহমান জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলীসহ নবগঠিত তিনটি ইউনিয়নে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। উথলী ইউনিয়নে সর্বশেষ ২০০৩ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এই ইউনিয়ন থেকে আরো দু’টি ইউনিয়ন গঠন করায় সীমানা বিভাজন ও সীমানা নির্ধারণসহ নানা জটিলতার কারণে পরবর্তী নির্বাচন প্রক্রিয়া মামলার ফাঁদে আটকে যায়। দীর্ঘ দিন পর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করায় তিনটি ইউনিয়নেই শুরু হয়েছে নির্বাচনী উৎসব-আমেজ। শুরু হয়েছে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। অন্য দিকে একটি মহল আবারো আইনি জটিলতায় নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য তৎপরতা চালাতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে এবার সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটারদের বিশ^াস কারো কোনো অপতৎপরতাই এবার নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানা যায়, জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। পরে বিভাজন আর সীমানা নির্ধারণ সমস্যা নিয়ে একের পর এক আইনি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক এক প্রজ্ঞাপন জারি করে উথলী ইউনিয়ন পরিষদকে বিভক্ত করে নবগঠিত কেডিকে ও মনোহরপুর ইউনিয়ন সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু তারপরও আইনি জটিলতা শেষ না হওয়ায় এসব ইউনিয়নে নির্বাচন করা যায়নি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উথলী, কেডিকে ও মনোহরপুর ইউনিয়নে আগামী ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনের জন্য উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার শেষ তারিখ ২৭ নভেম্বর, প্রার্থী বাছাই ২৯ নভেম্বর এবং প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৬ ডিসেম্বর আর ভোটগ্রহণ হবে ২৮ ডিসেম্বর। ২০১৬ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী এই তিন ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৬ হাজার তিনজন। এর মধ্যে উথলী ইউনিয়নে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৬৪৪৫ জন, মহিলা ভোটার সংখ্যা ৬২৮৬ জন। কেডিকে ইউনিয়নে পুরুষ ভোটার ৫৯৪২ জন, মহিলা ভোটার ৫৮৯৮ জন এবং মনোহরপুর ইউনিয়নে পুরুষ ভোটার ৫৭৬৭ জন, মহিলা ভোটার ৫৬৬৫ জন। তবে হাল ভোটার তালিকা পাওয়া গেলে এ সংখ্যা আরো বাড়বে।
দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচন না হওয়া এসব ইউনিয়নের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার চায়ের দোকান, হোটেল আর রেস্তোরাঁগুলোতে শুরু হয়েছে নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা। একই সাথে নানা কৌশলে দিন-রাত নির্ঘুম গণসংযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে উথলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল হান্নান, আবজালুর রহমান, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আসাদুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, নবগঠিত কেডিকে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবলীগ নেতা উদীয়মান খায়রুল বাসার, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রদল নেতা তানভির আহমেদ এবং মনোহরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সোহরাব হোসেন খান, রাজা মিয়া, আব্দুর রশিদ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা বিএনিপর কোষাধ্যক্ষ ও উপজেলা যুবদল নেতা কামরুল ইসলামের নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। তবে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য আরো কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে আমরা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। ২০১৬ সালের ভোটার তালিকা মোতাবেক তিন ইউনিয়নে সম্ভাব্য মোট ভোটার সংখ্যা ৩৬ হাজার তিনজন। ২০১৭ সালের হাল নাগাদ নতুন ভোটার তালিকা এখনো নির্বাচন কার্যালয়ে আসেনি। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই নতুন ভোটার তালিকা পাওয়া যাবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.