সোনারগাঁওয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে তিন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান

হাসান মাহমুদ রিপন সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যোরবাজার ইউনিয়নের ১১২ নম্বর দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘ দিন ধরে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়টির ভবনটিও ভগ্নপ্রায়। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়ানোর পাশপাশি দফতরির কাজও করে থাকেন। স্কুলের ঘণ্টা দেয়া থেকে শুরু করে স্কুল খোলা বা বন্ধ করার কাজটিও শিক্ষকরাই করেন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। স্কুলের ছাদের পলেস্তরা আস্তর খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ ছাড়াও কখনো কখনো স্কুল চলাকালীন স্কুল মাঠে বসে গরুর হাট এমন কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বিদ্যালয়ে নেই একটি টয়লেটও। এমনভাবে চলছে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে স্কুলটি।
জানা যায়, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের ১১২ নম্বর দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৯৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে স্থাপিত হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র তিনজন শিক্ষক। এ তিনজন দিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পাঠদান। ২০১১ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেরিনা সুলতানা, রেখা রানী সূত্রধর ও রওশন আরা নামে তিনজন শিক্ষিকা ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করে আসছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক ভবন থাকার পরও আরো ভবন বরাদ্দ পায়, কিন্তু দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৩ সালে নির্মিত পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মেরিনা সুলতানা জানান, ২০১৬ সালে বিকল্প ক্লাসরুম নির্মাণের জন্য ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। ওই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে একটি টিনের ঘর তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু ঘরের মেঝেতে মাটি ফেলা হয়নি বিধায় ক্লাস করা যাচ্ছে না।
সোনারগাঁও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আফম জাহিদ ইকবাল বলেন, দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুত নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়া যাবে। তা ছাড়া বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। ইতঃপূর্বে একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তিনি যোগদান করেননি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.