পটিয়ায় ভারত থেকে আনা অপরিশোধিত লবণ খালাস করছেন শ্রমিকেরা  :নয়া দিগন্ত
পটিয়ায় ভারত থেকে আনা অপরিশোধিত লবণ খালাস করছেন শ্রমিকেরা :নয়া দিগন্ত

লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে চলতি মওসুমেও সংশয়

এস এম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

বৈরী আবহাওয়া, চাহিদার তুলনায় বেশি লবণ আমদানি, বিভিন্ন কারণে লবণ তৈরির মাঠ সঙ্কুচিত হওয়া এবং লবণমাঠের খাজনা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে চলতি মওসুমেও সংশয় দেখা দিয়েছে।
প্রস্তাবিত লবণ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা, উপকূলীয় এলাকায় লবণের মাঠ বৃদ্ধিকরণ, লবণ চাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান, উৎপাদিত লবণের ওপর সরকারি ভর্তুকি প্রদান ও লবণের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হলে প্রতি মওসুমে দেশে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ লবণ রফতানি করাও সম্ভব বলে সচেতন লবণ চাষিরা মনে করেন।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে পরপর দুই বছর দেশে চাহিদা পূরণের মতো লবণ উৎপাদন হয়নি। এ কারণে গত দুই বছর বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করে লবণের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও চাহিদার ঘাটতি পুষিয়ে উদ্বৃত্ত লবণ রয়েছে কয়েক লাখ টন।
প্রতি বছর নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে পরবর্তী বছরের ১৫ মে পর্যন্ত লবণ উৎপাদনের মোক্ষম সময়। কিন্তু চলতি বছর নভেম্বরের ২ তারিখ পর্যন্ত প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ ধকল কাটিয়ে চাষিরা যখন মাঠ তৈরিতে ব্যস্ত ঠিক সে সময় বুধবার থেকে আবার বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। সেই সাথে গতকাল পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর সতর্কতা সঙ্কেত বহাল ছিল। এর আগে একই কারণে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একই পরিমাণ লবণের মাঠে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ লাখ টন। আর লবণের চাহিদা ছিল ১৬ লাখ ৫৮ হাজার টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টন। ঘাটতি এক লাখ তিন হাজার টনের বিপরীতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করা হয় তিন লাখ টন।
গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ১৪৭ একর লবণের মাঠে ১৮ লাখ টন লবণ উপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চাহিদা ছিল ১৫ লাখ ৭৬ হাজার টন। লবণ চাহিদার বিপরীতে ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়।
চাহিদার বিপরীতে দুই লাখ ১২ হাজার টন লবণ উৎপাদনের ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে পাঁচ লাখ টন লবণ আমদানি করা হয়। ফলে প্রায় পৌনে তিন লাখ টন লবণ এখন মজুদ রয়েছে।
এ দিকে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল পর্যন্ত মাঠে লবণ উৎপাদনে যেতে পারেননি চাষিরা। বাঁশখালীর লবণ চাষিরা জানান, লবণ আমদানি করার কারণে তাদের লাখ লাখ মণ লবণ অবিক্রীত পড়ে রয়েছে।
পটিয়া ইন্দ্রপোল লবণ মিল মালিক সমিতির কুতুব উদ্দিন পিকলু বলেন, বিভিন্ন স্থাপনার জন্য যেভাবে লবণের মাঠ অধিগ্রহণ করা হচ্ছে তাতে আগামীতে লবণশিল্পের বেহাল অবস্থা হবে। তিনি বলেন এ বছর অপরিশোধিত লবণ আমদানি করার কারণে বর্তমানে মিলগুলোতে লবণ রয়েছে। তিনি বলেন এবার দেশী অপরিশোধিত দুই মণের এক বস্তা লবণ এক হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়েছে। আর বিদেশ থেকে আমদানি করা সমপরিমাণ লবণ মিলে আনা পর্যন্ত খরচ পড়ছে ৭০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা। তিনি বলেন এদিকে উৎপাদিত লবণ মাঠের খাজনা বৃদ্ধি অপর দিকে মাঠপর্যায়ে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কারণে চাষিরা লবণের ন্যায্য দাম পায় না। ফলে বর্তমানে চাষিরা লবণ উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তিনি বলেন বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করা হলেও কয়েকটি বড় লবণ মিল মালিকরা খুচরা বাজারে লবণের মূল্য কমাচ্ছেন না।
বিসিক লবণ প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) দিলদার আহমেদ চৌধুরী বলেন, গত বছর দেশে চাহিদার বিপরীতে দুই লাখ ১২ হাজার টন লবণ উৎপাদনের ঘাটতি হয়েছে। তিনি বলেন, এবার গতবারের মতো ৬৪ হাজার ১৪৭ একর জমিতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ লাখ টন আর চাহিদা ধরা হয়েছে ১৬ লাখ ২১ হাজার টন। তিনি বলেন, প্রতি বছর ১৫ নভেম্বর থেকে মাঠে লবণ উৎপাদন শুরু হলেও এবার মওসুমের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, আবহাওয়া ভালো হলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে লবণ উৎপাদন শুরু হতে পারে। আর মওসুমজুড়ে আবহাওয়া ভালো থাকলে লবণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। লবণের মাঠ সঙ্কুচিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাতারবাড়ী এলাকায় এক হাজার ৪০০ একর ও এক হাজার ২০০ একর অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তা ছাড়া কুতুবদিয়ায় আরো ৩০০ একর অধিগ্রহণ হওয়ার পথে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের বাঁশখালীতেও বেশ কিছু লবণের মাঠ অধিগ্রহণ করা হয় বলে তিনি বলেন। প্রস্তাবিত লবণ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ইতোমধ্যে ওই প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.