সেকেলে কোচে চলছে কুস্তি ক্যাম্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ষষ্ঠ সার্ভিসেস কুস্তির ফাইনাল। গত মঙ্গলবার ৬১ কেজি ওজন শ্রেণীতে ম্যাচ চলছিল বিজিবির রঞ্জু ও সেনাবাহিনীর জালালের মধ্যে। খেলা চলাকালীন দু’বার মিনি পিলো ছুড়ে আপিল করল সেনাবাহিনী। বিজিবির রঞ্জুকে জয়ী ঘোষণা করার পরই উত্তেজনা। ম্যাচ শেষে দুই খেলোয়াড়ের করমর্দনের যে রীতি সেটি উপেক্ষা করে সেনাবাহিনীর জালাল হাত না মিলিয়ে রঞ্জুকে ধাক্কা দিয়ে চলে আসেন। একটু পরেই জানা গেল আসল রহস্য। প্রধান জাজ আশরাফ আলী বিজিবির কোচ বলেই তার দলের খেলোয়াড়কে অবৈধভাবে জয়ী ঘোষণা করেন। আর এই কোচকে দিয়েই চলছে আসন্ন কমনওয়েলথ গেমসের কুস্তি ক্যাম্প। বিদেশী কোনো কোচ আনার পরিকল্পনাও নেই ফেডারেশনের।
অনেকেরই অভিযোগÑ শুধু এই টুর্নামেন্টেই নয়। জাতীয় দলের বাছাই হতে শুরু করে ফেডারেশনের প্রতিটি কাজেই আশরাফ আলীর বিচরণ। তার পছন্দের বাইরের কোনো খেলোয়াড় জাতীয় দলে সুযোগ পান না। ঘুরে ফিরে তিনিই সব সময় জাতীয় দলের কোচ হন। বাংলাদেশে কি আর কোনো কুস্তির কোচ নেই। মান্ধাতার আমলের যে ট্রেনিং সেটিই করছে ক্যাম্পের কুস্তিগিরেরা। বিশ্বের সাথে আপগ্রেড না থাকায় বরাবরই খারাপ রেজাল্ট দেশের কুস্তির। মঝে মাঝে দু-একটি পদক এলেও সেটি বাই পেয়ে কিংবা না খেলেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন বলেন, ‘আমিনুল হক ভালো কোচ। বর্তমানে অনেক চেঞ্জ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিজিবির মিজানকে দেয়া হলে কাজ করতে পারবে। আশরাফ আলী ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের গালাগালি করে। সে শুধু ফিটনেস ট্রেনিংয়ই করাতে পারে। টেকনিক্যাল কিছু তার জানা নেই। ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের প্রাকটিস মোগল আমলের। এ কারণে বিদেশে ভরাডুবি। ফেডারেশনের সাথে আশরাফ আলীর নিশ্চই গোপন কিছু রয়েছে যে কারণে অন্য কাউকে সুযোগ দেয়া হয় না। আর সুযোগ না দিলে প্রমাণ করার জায়গাও থাকে না।’
সেনাবাহিনীর সহকারী কোচ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ‘চিফ জাজ আশরাফ আলী প্রায়ই তার দলের খেলোয়াড়দের পক্ষে রায় দেন। তার এক চোখা নীতির কারণে অনেক প্লেয়ার ধ্বংস হয়ে গেছে। এই লোকটি কি করে জাতীয় দলের কোচ হয় সেটি বোধগম্য নয়। আজগর আলী কিংবা ডেভিড মোল্লা আছেন। তারাও উপয্্ুক্ত কোচ।’
আশরাফ আলীর যে লেভেলের কোচিংয়ের যোগ্যতা রয়েছে অন্যদেরও রয়েছে। তারপরও তারা বঞ্চিত। অথচ তার পক্ষে সাফাই গাইলেন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক এ কে আজাদ, ‘সেই (আশরাফ) বাংলাদেশের সেরা কোচ। অন্য কাউকে তো দেখছি না। কমনওয়েলথ গেমসের যে ক্যাম্প চলছে সেখানে তাকে যোগ্যতার ভিত্তিতেই রাখা হয়েছে। অর্থাভাবে বিদেশী কোনো কোচ আনার পরিকল্পনা নেই আমাদের।’

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.