পিঠার ঘ্রাণে ফিরে আসুক নবান্ন

কাজী সুলতানুল আরেফিন

অগ্রহায়ণ মাস। নতুন নবান্নের ফসলের মাস। সেই সাথে চিরাচরিত এক ঐতিহ্যের মাস। ঘরে ঘরে নবান্নের ফসল প্রায় উঠে গেছে। কিছু ফসল এখনো ঘরে ওঠার অপেক্ষায়। নতুন ধানের ঘ্রাণে ম ম করছে গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘর। এই নতুন ধানের সাথে শীতের আগমনী ছোঁয়া আমাদের জীবনে এক নতুন আমেজ তৈরি করে। সে আমেজ হচ্ছে গ্রামবাংলার বড় ঐতিহ্য নবান্নের পিঠাপুলি উৎসব। একসময় গ্রামবাংলায় খুব কোলাহলের সাথে পিঠা তৈরি করে খাওয়ার ধুম পড়ে যেত। ঘরে ঘরে নানা রকমের পিঠা তৈরি হতো। নিজেরা খাওয়ার পর সে পিঠা আপনজন বা আত্মীয়স্বজনকেও বিলানো হতো। কালের বিবর্তনে সে উৎসব এখন কিছুটা থমকে গেছে। তবুও আজো পিঠা তৈরি আর পিঠা খাওয়া আমাদের রাজকীয় রেওয়াজ বলা চলে। পিঠা তৈরিকে কেন্দ্র করে আর আগের মতো আসর বসে না। চলে না গানের আসর। সেই সাথে আগের মতো বাহারি রকম স্বাদের পিঠাও তেমন তৈরি হয় না। আগে অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানে রাজত্ব করত এই নবান্নের পিঠা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পিঠার স্থান কেড়ে নিচ্ছে দামি মিষ্টি আর নানা জাতের সন্দেশ। মানুষ যেন ব্যস্ত আজ নিজেকে নিয়ে। তবুও পিঠার সাথে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। পিঠার বৈশিষ্ট্য স্বকীয় ও স্বতন্ত্র। এই পিঠাপুলি উৎসবের থমকে যাওয়ার পেছনে আমাদের অলসতাও একটা কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যুগ যত আধুনিক হচ্ছে মানুষ তত সহজে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে চায়। তাই কষ্ট করে আর এখন অনেকেই আর পিঠা বানাতে বসতে চান না। যা হোক, আমরা চাই আমাদের বাঙালির প্রাণের ঐতিহ্য এই পিঠাপুলি উৎসব আবারো শক্তভাবে আমাদের মধ্যে ফিরে আসুক। নানা রকম পিঠার স্বাদে সবার মুখ ছুঁয়ে যাক। ঘরে ঘরে তৈরি হোক নবান্নের উৎসবের আমেজ। পিঠার ঘ্রাণে ঘ্রাণে ফিরে আসুক নবান্নের আনন্দ।

পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী॥

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.