'রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে'
'রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে'

'রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে'

নিউ ইয়র্ক থেকে সংবাদদাতা

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ সংকট মোকাবেলায় সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদি প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করেন তারা। রোববার রোহিঙ্গা সংকট : সমস্যা ও সমাধানের ওপর হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। অবিলম্বে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা।

এইচআরডিবি'র প্রেসিডেন্ট মাহতাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্যানালিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. হাবীব সিদ্দিকী, বার্মিজ রোহিঙ্গা অ্যাসোশিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকার পরিচালক রেজা উদ্দিন, বার্মা টাস্কফোর্সের পরিচালক অ্যাডাম ক্যারল, ডসন কলেজের অধ্যাপক ড. আবিদ বাহার। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ড. নাকিবুর রহমান, সাউথ এশিয়ান সলিডারিটি ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ইমরান আনসারী, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট সুরেষ বড়ুয়া, সোলায়মান ভূইয়া, আবদুল্লাহ আল আরিফ প্রমূখ।

ড. হাবীব সিদ্দিকী বলেন, রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলার কোনো সুযোগ নেই। তার হাজার বছর ধরে রাখাইন অঞ্চলে বসবাস করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যা চলছে এটি জেনোসাইড। এই জেনোসাইডের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে হবে।

রেজা উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো অতি শিগগির বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মন্দের ভালো হিসেবে এ কমিশনের রিপোর্ট মেনে নিয়েছি। রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের প্রতি মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ড. আবিদ বাহার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে পারে। চট্টগ্রাম পর্যন্ত দখল করার পরিকল্পনা করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তিনি আরো বলেন, বার্মার সমর শক্তির দিকে বাংলাদেশকে অবশ্যই নজর দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শুধুমাত্র মুসলিম না। তাদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক আছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলা গণহত্যায় ধর্মীয় কারণের পাশাপাশি জাতিগত কারণও নিহিত রয়েছে। এখনই এটিকে বৈশ্বিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

এডম ক্যারল বলেন, মিয়ানমারের গণহত্যার পিছনে উগ্র বৌদ্ধগোষ্ঠী ইন্ধন যোগাচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে ভারত ও শ্রীলংকায় উদীয়মান ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে এ বিষয়ে মনোযোগী করতে আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।

ইমরান আনসারী বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলা সহিংসতা দীর্ঘ দিনের হলেও সাম্প্রতিক সহিংসতার পিছনে চীন ও ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে। যে কারণে জাতিসংঘে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশ দুটি।
তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের শিগগিরই ফেরত না পাঠাতে পারলে এদের নিয়ে নানামূখী সংকট মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকে। এজন্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

কমিউনিটি এক্টিবিস্ট সুরেষ বড়ুয়া বলেন, গৌতম বুদ্ধের আদর্শের অনুসারীরা মানুষ হত্যায় মেতে উঠতে পারে না। রোহিঙ্গাদের হত্যার পিছনে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত কাজ করছে। তিনি আরো বলেন গৌতম বুদ্ধের অনুসারী হয়ে থাকলে অবিলম্বে রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধ করতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.