বুধবার জানু-পিএফ পার্টির সদর দফতরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এমারসন নানগাগোয়া : এএফপি
বুধবার জানু-পিএফ পার্টির সদর দফতরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এমারসন নানগাগোয়া : এএফপি

গণতন্ত্র-কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি জিম্বাবুয়ের নতুন নেতার

বিবিসি ও রয়টার্স

রবার্ট মুগাবের শাসনের অবসানের পর নতুন গণতন্ত্রের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের নতুন নেতা এমারসন নানগাগওয়া। আজ শুক্রবারই তিনি দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি গণমাধ্যম।
দেশে ফিরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক ভাষণে তিনি সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ দেন এবং সবার সহযোগিতার আহ্বান জানান। দণি আফ্রিকায় আত্মগোপন শেষে বুধবার দেশে ফিরে রাজধানী হারেরেতে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় তিনি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কথা বলেছেন। নানগাগওয়া বলেন, আমি আপনাদের সেবক হওয়ার অঙ্গীকার করছি। আমি সব দেশপ্রেমিক জিম্বাবুইয়ানদের একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। আমরা সবাই একসাথে কাজ করব। এখানে কেউ কারো চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নন। আমাদের পরিচয় আমরা জিম্বাবুয়ের নাগরিক।
আমরা আমাদের অর্থনীতিকে চাঙা করতে চাই, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা চাই কাজ, কাজ এবং কাজ।
দেশ থেকে বেকারত্ব অবসানের এই ঘোষণায় জানু-পিএফ পার্টির সদর দফতরের সামনে উল্লাসে ফেটে পড়ে সাধারণ জনতা। ধারণা করা হয় দেশটিতে প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষই কর্মহীন।
মতাসীন দল জানু-পিএফ পার্টির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ৭১ বছর বয়সী নতুন এই নেতা ২০১৮ সেপ্টেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রের মতায় থাকছেন। মুগাবে এমারসন নানগাগওয়াকে চাকরিচ্যুত করার পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। মুগাবের ৩৭ বছরের শাসনের অবসান হলে দেশে ফেরার আগে জিম্বাবুয়ের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট দেখা করেন দণি আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার সাথে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার পার্শ্ববর্তী দেশ, আফ্রিকান কমিউনিটি এবং বহির্বিশ্বের সহায়তার প্রয়োজনের কথাও জানান তিনি।
গত ৩৭ বছর ধরে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন মুগাবে। ১৯৮০ সালে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হওয়া জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতার যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন মুগাবে। স্বাধীনতার একজন যোদ্ধা হিসেবে মতায় এসে জিম্বাবুয়ের ‘নেলসন ম্যান্ডেলা’ হিসেবে বীরোচিত সম্মান ও খ্যাতি পেয়েছিলেন তিনি। তারপরও আফ্রিকায় অনেক মানুষের ধারণা, দীর্ঘ দিন ধরে মতায় থেকে মুগাবে জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি, গণতন্ত্র এবং বিচার ব্যবস্থাকে তিগ্রস্ত করেছেন। বিরোধীদের দমনে তিনি নৃশংসতার আশ্রয়ও নিয়েছেন। সমালোচকেরা বলে আসছেন, আধুনিক অর্থনীতি কিভাবে পরিচালিত হয় সে বিষয়টিই মুগাবে বোঝেন না। অর্থনীতির বিকাশ কিভাবে ঘটানো যাবে সে বিষয়টি তিনি কখনো গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি। এখন মতার পালাবদলে জিম্বাবুয়েতে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে কি না বা নানগাগওয়া অর্থনীতির চাকা সত্যিই ঘোরাতে পারবেন কিনা তা নিয়েও অনেক পর্যবেকের সংশয় আছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.