আজ সরকারি কলেজ শিক্ষকদের মহাসমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কলেজ শিক্ষকদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিা সমিতি, জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্তকৃত কলেজ শিক্ষকদের নন-ক্যাডার ঘোষণার দাবিতে আজ রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষক মহাসমাবেশ করবে। সমাবেশ থেকে ‘জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের নন-ক্যাডার ঘোষণা করে বিধিমালা জারি’ করতে সরকারকে বাধ্য করতে কর্মসূচির ঘোষণা আসছে বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতারা। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, সারা দেশ থেকে সরকারি কলেজ শিক্ষকেরা মহাসমাবেশে যোগ দেবেন।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি কলেজ ও মাধ্যমিক স্কুল সরকারীকরণ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি ২৮৫ কলেজ ও ৩৭১টি স্কুল সরকারি বা জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কলেজগুলোতে কর্মরত শিক্ষকেরা আত্তীকরণ হতে যাচ্ছেন। ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজ শিক্ষক সংগঠনটি (বিসিএস সাধারণ শিা সমিতি) গত মার্চ মাস থেকেই এর বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিসিএস সাধারণ শিা সমিতির বক্তব্য হচ্ছে, বিসিএস ছাড়া ক্যাডার সার্ভিস নয়, বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের েেত্র প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, ‘জাতীয়করণের আওতাভুক্ত কলেজগুলোর শিকদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না’ মানতে হবে। তাদের চাকরি নিজ নিজ কলেজেই সুনির্দিষ্ট হতে হবে।
সমিতির প্রচার সচিব মো: কামাল উদ্দিন গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, বেসরকারি ২৮৫ কলেজ জাতীয়করণের ঘোষণার পর থেকেই ক্যাডারভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের সমিতির বিরুদ্ধে সোচ্চার। তবে কলেজ জাতীয়করণের বিরুদ্ধে নয় সমিতি ও এর সদস্যরা।
সমিতির নেতারা বলেন, কোনো অবস্থায়ই জাতীয়করণে চূড়ান্তকৃত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্তি মেনে নেয়া হবে না। চাপিয়ে দেয়ার যেকোনো চেষ্টা রুখতে যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে। কোনো রূপ ছাড় দেয়া হবে না। ক্যাডারের মর্যাদা রক্ষা করা হবে।
বিসিএস সাধারণ সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার বলেন, জাতীয়করণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন এবং শিক্ষানীতির নির্দেশনার বাইরে যাওয়া যাবে না। জাতীয়করণকৃতদের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তিনি জানান, এর বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত সরকারি কলেজ শিক্ষকেরা মেনে নেবেন না। এ ব্যতয় ঘটলে আমাদের আন্দোলন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিনি আরো বলেন, বিসিএস সমিতি বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করলেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। সে কারণে বাধ্য হয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা বিবেচনা করতে হয়েছে। দাবি মানা না হলে কাস বন্ধ, পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকাসহ কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সারা দেশে বর্তমানে সরকারি কলেজ হচ্ছে ৩৩৫টি। এসব কলেজের শিক্ষকেরা ছাড়াও শিক্ষা অধিদফতর, পরিদফতরের প্রশাসনিক পদে কর্মরত কর্মকর্তারা সমিতির সদস্য। সরকারি কলেজ শিক্ষকদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিা সমিতিতে ১৫ হাজার ক্যাডারভুক্ত শিক রয়েছেন। আর জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্ত করা বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার। জাতীয়করণের আওতায় আসার পরই এসব শিক্ষক সিনিয়রিটিসহ নানা দাবিতে সোচ্চার হতে পারেন বলে আশঙ্কা ক্যাডার শিক্ষকদের। এর ফলে সরকারি কলেজের ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সঙ্কটে পড়বেন। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে একসাথে ২৮৫ কলেজ জাতীয়করণের আওতায় আসার উদ্যোগের ফলে ক্যাডারভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, আত্তীকরণকৃতরা ক্যাডারভুক্ত হলে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.