সাভার সেনানিবাসের সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারক উপহার প্রদান :  আইএসপিআর
সাভার সেনানিবাসের সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারক উপহার প্রদান : আইএসপিআর
সংসদে সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী

বিবেকবান লোকেরা কখনো বিএনপিকে ভোট দেবে না : প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, যারা জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করে। যাদের এত গুণ তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে? তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে কিভাবে? বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, যাদের বিবেক আছে তারা অন্তত ওদের (বিএনপি-জামায়াত) কোনো দিন ভোট দেবে না, ভোট দিতে পারে না। তাদের ভোট দিয়ে আর অশান্তি টেনে আনবে না, এ আপদকে ফিরিয়ে আনবে না। তাই স্বপ্ন দেখে লাভ নেই, জনগণ ভোট দেবে না।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ অধিবেশনেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্থান পাওয়ায় ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানিয়ে সর্বসম্মতক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ শান্তি চায়, উন্নতি চায়। আজ দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে, মানুষ শান্তিতে আছে। তাই যারা এতিমের টাকা চুরি করে খায়, দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে, অন্তত জনগণ তাদের ভোট দেবে না, দিতে পারে না। এটাই হলো বাস্তবতা। গুম-খুন প্রসঙ্গে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম-খুন নানাভাবেই হচ্ছে, আবার যারা নিখোঁজ হচ্ছে তাদের অনেকে আবার ফেরতও আসছে। এটা কি শুধু বাংলাদেশে হচ্ছে? যুক্তরাজ্যে দুই লাখ ৪৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়েছে, এর মধ্যে ২০ হাজারের কোনো খোঁজই পাওয়া যায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরো ভয়াবহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে ১৬ কোটির ওপরে জনগণ বাস করে। আমরা এত মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কত? উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরও তাদের দেশে এত গুম হচ্ছে। আমরা যখনই অভিযোগ পাচ্ছি তা খতিয়ে দেখছি। দেশে একজন স্বনামধন্য আঁতেল (ফরহাদ মযহার) আছেন তিনি নাকি গুম হয়ে গেলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তিনি খুলনায় নিউ মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা তো অহরহই ঘটছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে দেশের অবস্থা কী ছিল? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করেছি। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের আমরা বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি। শিক্ষার হার ৭২ ভাগে উন্নীত হয়েছে। পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর সেশনজট নেই। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নাম উল্লেখ না করলেও ইঙ্গিতে তার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আরেকটি দল আছে (বিএনপি), তারা নির্বাচনে আসেনি। এখন রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার করে বেড়াচ্ছে। বলছে তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। এটা এমন একজন লোক বললেন তার চরিত্র কী? ছাত্রাবস্থায় অন্য একটি দল করত। ব্যারিস্টারি করে দেশে ফেরার পর দেখলাম আমাদের বাড়ি থেকে নড়েন না। আঠার মতো পড়ে থাকেন। তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পিএ মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন, তার পিএ হিসেবেও এ লোকটা কিছু দিন কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর তিনি বিএনপিতে গেলেন। এরপর গেলেন জাতীয় পার্টিতে। তিনি দুর্নীতির দায়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। আবার জেনারেল এরশাদ চলে যাওয়ার পর আবারো গেলেন বিএনপিতে। তিনি বনানীতে চিটিং করে অবৈধভাবে একটি বাড়ি দখল করেছিলেন। আদালতের রায়ে সেই বাড়িটি হারিয়েছেন। এখন সেই ব্যক্তিটিই ঘোষণা দেন সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। যিনি নিজেই মাটিতে পড়ে আছেন, তিনি কিভাবে টেনে নামাবেন? প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের সরকার উৎখাত ও নির্বাচন বানচালের নামে দেশজুড়ে ভয়াল নাশকতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিএনপি নেত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারকে পতন না ঘটিয়ে তিনি ঘরে ফিরে যাবে না। ৯২ দিন ধরে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। নির্বাচন ঠেকানোর নামে ৫৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুড়িয়েছেন, ২৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করেছেন। জনগণের বাধায় বাধ্য হয়ে শুধু ঘরেই ফিরে যাননি, আদালতে আত্মসমর্পণ করে ঘরে ফিরেছেন। তিনি বলেন, যারা এভাবে মানুষ খুন করেছেন, যাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অর্থ পাচারের ঘটনা প্রমাণ হয়েছে, যিনি নিজে এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যাদের দুর্নীতিতে আগাগোড়া মোড়া, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, যারা সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিল ক্ষমতায় থাকতে। যাদের এত গুণ তাদের জনগণ ভোট দেবে কেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এটা বুঝতে পেরেছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় এবং হবে। মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচতে চায়, শান্তি চায়। উন্নতি চায়। এটা আওয়ামী লীগই যে করতে পারে তা প্রমাণ করেছি। আমরা দেশকে সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে গেছি। যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি দেশের মানুষকে উন্নতি দিয়ে যাবো। যাতে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠে। বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের দেশকে হিসেবে গড়ে তুলব, তার আকাক্সা আমরা পূরণ করব।
সংসদ নেতা বলেন, সরকার যে জনগণের সেবক সেটা আমরা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। গত আট বছরে বাংলাদেশকে আমরা আর্থসামাজিকভাবে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছি, বাংলাদেশকে আর ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে দেখে না। বরং সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। জনগণের প্রতি আস্থা-বিশ্বাস থাকতে হবে। ক্ষমতাটা যদি ভোগের বস্তু হয়, তারা জাতিকে কিছু দিতে পারে না। আমাদের কাছে ক্ষমতা ভোগের নয়, বরং কল্যাণে কাজ করছি বলেই দেশের এমন অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আইপিইউ ও সিপিইউর মতো সারা বিশ্বের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা এই দু’টি বৃহৎ সংস্থায় বাংলাদেশের দু’জন সংসদ সদস্যকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেনÑ এটা একটা বিরল ঘটনা। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, সেটা বিশ্বের জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে দেখে গেছেন। অনেকে বলে নির্বাচন অবৈধ। এটা শুনে মনে হয়, যারা এ কথা বলে শুধু তাদেরই জ্ঞানের ভাণ্ডার আছে। আর বিশ্বের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যারা আমাদের দু’জনকে নির্বাচিত করলেন তাদের মনে হয় কোনো জ্ঞান নেই। তারা যেন না জেনেই বাংলাদেশকে ভোট দিয়ে গেলেন।
রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার স্বীকার করেছে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে যৌক্তিক কারণে সমস্যার সমাধান করছি। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। সারা বিশ্ব অবাক প্রায় ১০ লাখ মানুষের খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করতে পেরেছি। সারা বিশ্ব আমাদের পক্ষে এবং সমর্থন দিচ্ছে। আগে একজন শ্রমিক সারা দিন খেটে একবেলা খাবার চাল কিনতে পারত না। এখন একবেলা খেটে দিনমজুর ১০ কেজি চাল পর্যন্ত ক্রয় করতে পারে। দেশে বেকারত্ব হ্রাস পেয়েছে, দেশে-বিদেশে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। সমগ্র বাংলাদেশকে আমরা ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে এসেছি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.