পরীক্ষার এই সময়ে

রঙের ফিচার
নিপা আহমেদ

বছরের এই সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ে চলছে বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা। এ ছাড়া বার্ষিক পরীক্ষা তো আছেই। পরীক্ষার এই সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ লক্ষ রাখা প্রয়োজন অভিভাবকদের। তবেই তারা সুস্থ শরীরে সুস্থ মস্তিষ্কে পরীক্ষা দিতে পারবে।
একজন শিক্ষার্থীর জীবনে পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীর পড়ালেখার পাশাপাশি শরীর ও মানসিক প্রশান্তির দিকেও লক্ষ রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের অন্যতম বিষয় সময় ব্যবস্থাপনা। অবশ্যই রুটিন মেনে পড়াশোনা করা, কাজ করা এবং ফাঁকে ফাঁকে অবসর কাটানো জরুরি। এ জন্য অভিভাবকদের উচিত শিক্ষার্থীর জন্য একটি রুটিন করা। পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে তৈরি করার দায়িত্ব অভিভাবকদেরই নিতে হবে।
হ প্রতিদিন কত ঘণ্টা ঘুম পরীক্ষার্থীর জন্য দরকার তার সময় নির্ধারণ করুন।
হ পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী পড়ালেখাসহ অন্য সব কাজের তালিকা তৈরি করে দিন।
হ একটি বিষয় পড়া হলে অন্য বিষয় শুরু করার আগে পরীক্ষার্থীকে পাঁচ থেকে দশ মিনিট বিশ্রাম দিন। এতে মস্তিষ্কে চাপ কম পড়বে।
হ যে বিষয়গুলোতে সে দুর্বল তার প্রতি যতœ নিন।
হ কোচিং করলে কিংবা প্রাইভেট শিক্ষক বাসায় এলে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন।
হ ছাত্রছাত্রীদের জন্য পড়াশোনার একটি নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করুন। যেখানে নোটিশ, ডিকশনারি, লেখার সরঞ্জাম, বই ইত্যাদি হাতের কাছে থাকবে।
হ পড়ার সময় যেন মোবাইল ফোন, গান, টিভি চালু না থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
হ পরীক্ষার রুটিন অনুসারে শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে কি না, সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে কলম, পেনসিল, স্কেল, অ্যাডমিট কার্ড যাদের আছে ইরেজার, লেখার বোর্ড, ব্যাগ ইত্যাদি সব গুছিয়ে রাখুন রাতেই, যাতে সকালে তাড়াহুড়ায় কিছু বাদ পড়ে না যায়।
হ পরীক্ষা হয়ে গেলে সেই বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার্থীকে বারবার প্রশ্ন করে কিংবা বকাঝকা, অহেতুক ভয় না দেখিয়ে তাকে উৎসাহিত করুন পরবর্তী পরীক্ষার বিষয়ে।
হ কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
হ বেশি করে বিশুদ্ধ পানি খেতে দিন। তাজা ফল, ফলের রস, দুধ, প্রোটিন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে দিন।
হ পুষ্টিকর খাবার দেহের শক্তি বৃদ্ধি করবে। আর পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম কাজ করার প্রেরণা জোগাবে।
হ পড়ালেখার পাশাপাশি কিছুটা সময় বিনোদনের জন্য রাখুন। বিনোদন হতে পারে টিভি দেখা ও খেলাধুলা করা। বিনোদন মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে সহায়তা করে। স্নায়ুকে নতুন উদ্যমে কাজ করার স্পৃহা জোগায়।
মনে রাখা প্রয়োজন, পরীক্ষার আসল উদ্দেশ্য হবে শেখা এবং বিষয়টিকে যাচাই করার একটা উপায় মাত্র। কী পড়ছি, কতক্ষণ পড়ছি তা নিয়ে বেশি ব্যস্ত না হয়ে নিয়ম মেনে চলতে চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও মনোযোগী হতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.