অতীত দিনের স্মৃতি

কেউ ভোলে না কেউ ভোলে

আসমা আব্বাসী

গঙ্গা সিন্ধু নর্মদা কাবেরী নদীতটে

বহিয়া চলিছে আগের মতো
কইরে আগের মানুষ কই
পলিমাটির অববাহিকায় শ্যামল বাংলাদেশ আগের মতোই সজীব সতেজ শস্য শ্যামল। এই বছর আবহাওয়া বড় বিচিত্র হয়ে দেখা দিলো। বর্ষা শরৎ হেমন্ত তিনজনে মিলেমিশে একাকার, দারুণ সখ্য। কখনো আকাশে মেঘের ঘনঘটা ঝিমঝিম বৃষ্টির, কখনো নদীর তীরে সাদা কাশফুল ও সাদা বকের মেলবন্ধন, কখনোবা স্বচ্ছ নীল গগন, মৃদু মধুর হাওয়া মনে হয় হৈমন্তী প্রহরের কথা। নগরবাসী শত সঙ্কটেও অকুতোভয়, যানজট চালের দুর্ভিক্ষ ভালো স্কুলে ভর্তির লম্বা লাইন সবই তারা মেনে নেন নির্ভয়ে।
মেঘ দেখে তুই করিস নে ভয় আড়ালে তার সূর্য হাসে
হারা শশীর হারা হাসি অন্ধকারেই ফিরে আসে
পিঁয়াজের দাম যখন লাগামছাড়া ঘোড়ার মতো বাড়তে থাকে, মাছে-ভাতে বাঙালির মাছ যখন স্বপ্ন হয়ে পড়ে, শাক-সবজি যখন দামবৃদ্ধির দৌড়ে পাল্লা দিতে থাকে, তখনো আমরা বেঁচে থাকি সুদিনের স্বপ্ন নিয়ে।
দৈনন্দিন জীবনে রামধনুর সাত রঙ ঝিলিক দিয়ে এলো ফোক ফেস্টিভ্যাল ইরান তুরান নেপাল তিব্বত ব্রাজিল ডেনমার্ক মালি ভারত বাংলাদেশের লোক সংস্কৃতি নিয়ে আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী লোক উৎসবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা, সংক্ষিপ্ত সময় আরো দীর্ঘতর হওয়ার আকৃতি নিয়ে শ্রোতারা বাড়ি ফিরলেন মধ্যরাত পার করে। মনে রইল প্রাণের টানে পরিবেশিত লোক সংস্কৃতির মাদকতাময় আবেদন, প্রতীক্ষা আগামী বছরের জন্য। স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট সমাজসেবী রোটারিয়ান স্যামসন চৌধুরীর সুযোগ্য পুত্র অঞ্জন চৌধুরী আয়োজিত এই ‘ফোক ফেস্ট’ অগণিত তরুণ প্রাণে যে আনন্দ এনে দিলো তা প্রশংসনীয়।
এই মুহূর্তে আমার জীবনসঙ্গী মুস্তাফা জামান আব্বাসী অবস্থান করছেন অন্য দেশে, তাঁর পিতা আব্বাসউদ্দিনের জন্ম বার্ষিকীর আয়োজিত ‘উজানে আব্বাসউদ্দিন’ ভাওয়াইয়ার অনুপম অনুষ্ঠানে। প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর উদ্যম সত্যিই অবাক করে সবাইকে। নিজের বয়সকে উপেক্ষা করে তিনি ছুটে গেছেন পিতার অগণিত ভক্তবৃন্দের কাছে।
বাংলাদেশের এই লোক উৎসবে আনন্দ সন্ধ্যায় আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি তাঁর উপস্থিতিকে। সঙ্গীত যদি হয় প্রাণ, সাহিত্য হলো তার মন। এই দুইয়ের সখ্যতায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে আমাদের বাড়ি।
জীবনে বেঁচে থাকার প্রধান উপাদান পানি বায়ু খাদ্য, তারই সঙ্গে যুক্ত আরেকটি শব্দ মনের খোরাক। যদি আপনি যান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যান, যদি চার পাশে ইটের পরে ইট তাহাতে মানুষ কীট আপনাকে ব্যথিত না করে তাহলে আমি বলব সুকুমারবৃত্তির চর্চা এখন থেকেই করুন।
আমি বাস করতাম পুরানা পল্টনে ‘হিরামন মঞ্জিল’-এ, যেখানে ছিল বাতাবীলেবু পেয়ারা জামরুল আম সুপারি নারকেল গাছের ঝিরিঝিরি শব্দ, যেখানে ছিল সবুজ আঙ্গিনায় শ্যামল ঘাসদের দোলা। মাঝে মাঝে মুক্তাঙ্গন থেকে ভেসে আসত মাইকের গগনবিদারী আওয়াজ, হঠাৎ ফেটে যাওয়া বোমার শব্দ, আসত টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়া, আসত পুলিশের তাড়া খেয়ে ছত্রভঙ্গ মিছিলকারীদের বাড়িতে ঢুকে যাওয়ার হুল্লোড়, তবু সব মিলে যেন ছিল প্রাণের স্পর্শ।
‘পুরোনো সেই দিনের কথা বলবি কিরে ভাই
সে যে চোখের দেখা প্রাণের কথা সে কি ভোলা যায়’

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.