আ মি ও ব ল তে চা ই

নারী ও বিজ্ঞাপন চিত্র!

কোনো কিছু বাজারজাত করতে হলে যেন আজ নারীর খুব প্রয়োজন হয়। এমন চিত্র শুধু এই দেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে দেখা যাচ্ছে। বিলবোর্ড কিংবা টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনে সর্বত্র নারীর প্রদর্শনী। আমি বলছি না নারীর মডেল হওয়া কোনো অপরাধ! আমি বলতে চাচ্ছি, মডেল হিসেবে বেশির ভাগ বিজ্ঞাপনে নারীকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তা ঠিক নয়। বিজ্ঞাপনে নারীকে উপস্থাপন করার সময় এমনভাবে উপস্থাপন করা হোক, যাতে নারী জাতির সম্মানহানি না হয়। এমন কিছু বিজ্ঞাপন চিত্র দেখা যায়, মূলত নারীর সাথে কোনো সম্পর্ক বা সামঞ্জস্য থাকে না। নারীদের দিয়ে নারী সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন তৈরি করলে ভালো হয়। তাও যাতে নারীজাতির সম্মান ক্ষুণœ না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে বেশির ভাগ বিজ্ঞাপনে নারীকে ব্যবহার করে পণ্যের বাজার কিভাবে বৃদ্ধি করা হবে শুধু সেই ভাবনা থেকে। মাঝরাতে সেচকাজে পানির পাম্পের বিজ্ঞাপনে নারীকেই বারবার উপস্থাপন করা হয়, যা খুবই হাস্যকর। আবার ফসলি জমির কোনো বিজ্ঞাপনেও ক্যামেরা ঘুরেফিরে শুধু নারীর দিকেই যায়! ঢেউটিনের বিজ্ঞাপনের কথা বাদই দিলাম। আসলে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন নির্মাতারা শুধু নারীকে উপস্থাপন করার কথাই ভাবেন, আর কিছু নয়। একবার আমার এক শিক্ষক বিজ্ঞাপনে নারীদের উপস্থাপন করা নিয়ে উপমা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম ধারালো করাতের বিজ্ঞাপন দিয়ে নারীদের ব্যবহার শুরু হয়। বিজ্ঞাপনে একজন নারীকে দেখিয়ে বলা হয়েছিল, ‘নারীর ঠোঁট ও মুখ যেমনÑ (কথা বলার ক্ষেত্রে) ধারালো। এই করাতটিও তেমন ধারালো’! শিক্ষকের কথা সত্যি কি না জানি না, তবে ভিত্তি আছে। তিনি আমাকে এ-ও বলেছিলেন, ‘বিমানবালা যদি সুন্দরী নারী না হয়, তবে বিমান যে ওপরে উঠতেই চায় না!’ আমি কাউকে ছোট করতে এসব বলছি না। কথা হচ্ছে, যোগ্যতার বিচার মেধার ভিত্তিতে হোক। আর পণ্যের বাজার গুণগত মান দিয়ে ধরা হোক, সুন্দরী নারীকে দিয়ে নয়। নারীকে পণ্য করে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন আর না হোক! এভাবে পণ্যের বিজ্ঞাপনে নারীকে যেন পণ্য করা না হয়। কারণ, নারীদের অবস্থান সম্মানের স্থানে, খুব উঁচুতে।
কাজী সুলতানুল আরেফিন
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.