৬০০ প্রজাতির গাছপালার সচিত্র বিবরণ সংবলিত বই প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিষ্প্রাণ রাজধানীতে বাংলার ঋতুবৈচিত্রকে ভালোভাবে অনুভব করার তেমন সুযোগ নেই। কিন্তু সেদিন অগ্রহায়ণের বিকেলটা একটু আলাদা ছিলো। পড়ন্ত বিকেলেও হেমন্তের কিছু মিষ্টতা ছড়িয়ে ছিলো চারপাশে। মায়াবী হেমন্তের পরশমাখা এমনই এক বিকেলে একটি বইকে ঘিরে জড়ো হয়েছিলেন শতাধিক প্রকৃতিপ্রেমী। এদিন ছিল প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক এবং উদ্ভিদ-গবেষক মোকারম হোসেনের লেখা বাংলাদেশের পুষ্প-বৃক্ষ লতা-গুল্ম বইয়ের প্রকাশনা উৎসব। বইয়ের বিষয়বস্তু ছাপিয়ে আলোচনা জমে ওঠে সামগ্রিক পরিবেশ বিষয়ে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে বৃক্ষবিষয়ক প্রথম এই ফিল্ডগাইড রচনা আমাদের বৃক্ষচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। ৬০০ প্রজাতির গাছপালার সচিত্র বিবরণ সংবলিত এ বই দেশের উদ্ভিদবৈচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় জাদুঘর ও তরুপল্লব যৌথভাবে আয়োজিত জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ারের অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন সভাপতিত্ব করেন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শিল্পী হাশেম খান।

বক্তব্য রাখেন মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মাসুদ আহমেদ, আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিশুসাহিত্যিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম। শুরুতেই বইটি সম্পর্কে মোকারম হোসেন তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তারপর অতিথিরা বইয়ের পাঠউন্মোচন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাশেম খান বলেন, আমি শিশু-কিশোরদের জন্য ছবি আঁকি। নিসর্গের ছবি আঁকি। বাংলাদেশের পুষ্প-বৃক্ষ লতা-গুল্ম বইটি ৩০ বছর আগে পেলে আঁকাআঁকির ক্ষেত্রে আমার বড় সুবিধা হতো। বইটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুনতাসীর মামুন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দিয়ে বইটি তরুণদের কাছে পাঠানো উচিত। দেশের প্রতিটি তরুণের পড়ার টেবিলে বইটি থাকা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তারা গাছ চিনতে চিনতে বড় হবে, গাছের প্রতি তাদের ভালোবাসা জন্মাবে। কারণ পরিবেশবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে এর বিকল্প নেই।

যৌথভাবে বইটির প্রকাশক তরুপল্লব এবং আইইউসিএন। বইটির মূল্য ৯০০ টাকা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.