বাজারদরের সাথে সঙ্গতি রেখে নিম্নতম মজুরির দাবি গার্মেণ্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইএলও কনভেনশন-৮৭ ও ৯৮ আলোকে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের লক্ষে আধুনিক শ্রম আইন সংশোধন ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবিলম্বে বাজারদরের সাথে সঙ্গতি রেখে নিম্নতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন গার্মেণ্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়কারী মাহতাব উদ্দিন সহিদ।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন, পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন স্বপন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি এম. দেলোয়ার হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান, একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, জাগো গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. বাহারানে সুলতান বাহার, জাতীয় গার্মেন্টস দর্জি সোয়েটার শ্রমিক কেন্দ্রের সভাপতি মো. রফিক, বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. বজলুর রহমান বাবলু, গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত জাকারিয়া সঞ্চয়, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয় সর্বশেষ শ্রম আইন-২০০৬ অদ্যাবদি সংশোধিত সেখানে আইএলও কনভেনশনের মুল স্পিরিটকে পাশ কাটিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে নানাবিধ দালিলিক জটিলতা সৃষ্টি করে দেশের কতিপয় আমলা শিল্প-কারখানার মালিকদের পক্ষাবলম্বন করলেন যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যৌথ-দরকষাকষি এজেন্ট গঠনে কত সংখ্যক শ্রমিক মিলে ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারবে তার কোনো নিদের্শনা না থাকলে ৩০% ভাগ শ্রমিককে সদস্য ফরম পূরণের বাধ্যবাদকতা শ্রম আইনে বহাল রাখা, দু’টি সাধারণ সভা আয়োজনের বিধান, এমন কি শ্রম পরিচালকের সন্তুষ্টির বিধি-বিধান, সরজমিনে পরিদর্শনের আইনি বিধান রেখে মালিকদের ট্রেড ইউনিয়ন বিহিন শিল্প-কারখানা পরিচালনায় উৎসাহিত করে চলেছেন। দেশের রাষ্ট্রকে শ্রমিক-মালিক উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণে নিরপেক্ষ ভুমিকা থাকা বাঞ্ছনীয় হলেও রাষ্ট্রের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে থাকেন যা কাম্য নয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে শ্রম আইনের বিধি-বিধান অবিলম্বে পরির্বতনে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়। এগুলো হলো ধারা-১ দেশের ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সব ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য হইবে কথাটি সংযোজন। ধারা-৪(১) ১০ এর পর (১১) সংযোজনের মাধ্যমে মৌসুমী শ্রমিকের চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষা করার বিধান সংযোজন। এছাড়া ধারা-১৪তে একজন শ্রমিক পূর্ববর্তী বার পঞ্জিকা মাসে, প্রকৃতপক্ষে ক্ষেত্র অনুযায়ী, অন্যূন ২৪০ দিন বা একশ’র বিশ দিন, অবিচ্ছিন্নভাবে যথাক্রমে পূর্ণ এক বছর এবং পূর্ণ ছয় মাস চাকরি করেছেন বলে গণ্য হবে। এক বছর শেষে পরবর্তী ছয় মাস অবিচ্ছিন্নভাবে চাকরি করলে, পরবর্তীতে এক বছর হিসাবে গণ্য হবে। ধারায় এ কথাগুলো সংযোজনের সুপারিশ করেন শ্রমিকরা নেতারা।

তারা বলেন, ধারা-২৩(৩) শ্রমিককে তার অবিচ্ছিন্ন চাকরির মেয়াদ অন্যুন এক বছর হয়, মালিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক বছর চাকরির জন্য ১৫ দিনের মজুরি অথবা গ্রাচ্যুইটি দিবেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.