ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন দ্রুত চূড়ান্ত করার দাবি পরিবেশবাদিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আলোচনা সভায় পরিবেশবাদিরা পরিবেশ রক্ষায় ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন।

তারা বলেছেন, ইলেকট্রনিক এবং ইলেকট্রিক্যাল পণ্য থেকে প্রতিনিয়ত ই-বর্জ্য ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। এই বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেললে এসিডিক কন্ডিশন তৈরি হয় যা পরে মাটির স্তর ভেদ করে পানির স্তর পর্যন্ত চলে যায়। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই আইন এখন সময়ের দাবি।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ই-বর্জ্য আইন বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা আয়োজন করে গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।

এতে মুল বক্তব্য রাখেন গবেষক এ কে এম মাকসুদ। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার খায়রুজ্জামান কামাল, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আহমেদ কামরুজ্জামান, স্বাস্থ্য মহাপরিচালক অধিদফতরের ড. আশীষ কুমার সাহা, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটির ভাইস চেয়ার ইমতিয়াজ রসুল ও পবা'র সভাপতি আবু নাসের খান।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় বক্তারা আরো বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এই ই-বর্জ্য সৃষ্টির হার বেড়েই চলছে। বাংলাদেশেও ব্যাপকহারে ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। কিন্তু, এ বিষয়ে বাংলাদেশে এখনও কোনো আইন নেই। তবে ভালো কথা একটি খসড়া তৈরি হয়েছে।

আবু নাসের খান বলেন, দেশ ডিজিটাল হয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হয়েছে। কিন্তু এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের খেসারত পরিবেশকে দিতে হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মাকসুদ বলেন, ওয়েস্ট (বর্জ্য) এখন আর ওয়েস্ট নেই, এটা এখন ওয়েলথ হয়ে গেছে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে গেছে। যার ফলে বর্জ্যও বাড়ছে।

প্রফেসর কামরুজ্জামান বলেন, আমেরিকায় প্রতি ২২ মাসে একজন মোবাইল পরিবর্তন করে। আমাদের দেশে এই হার আরো বেশি। ই-বর্জের সঠিক ব্যবস্থাপনা না করা গেলে ঢাকার ধুলা আরো বেশি দূষিত হবে। তাই এটা এখনই নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন নিয়ে আলোচনায় বক্তারা ছয়টি সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। এতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা চূড়ান্তকরণের পরামর্ম দেয়া হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পৌর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা চূড়ান্তকরণ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ই-বর্জ্য ও পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় এনে তাদের স্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষা করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা ও জনদায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইলেকট্রনিক এবং ইলেকট্রিক সামগ্রী উৎপাদকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কথা সুপারিশে বলা হয় এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ই-বর্জ্য ও পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত আইন ও বিধিমালার কার্যকর প্রয়োঘের পরামর্শ দেয়া হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.