কোচ নিয়োগে সাবধান বিসিবি
কোচ নিয়োগে সাবধান বিসিবি

সম্ভাব্য হেড কোচ আসছেন পরশু, তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিসিবির

নয়া দিগন্ত অনলাইন

হেড কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে চলছে যাছাই-বাছাই। হুট করেই কাউকে নিয়োগ দিতে রাজি নয় বিসিবি। পেছনের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা বিসিবিকে ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। বিগত প্রায় প্রত্যেক কোচই তাদের চলে যাওয়ার আগ মুহূর্তে এমন কিছু করেছেন, যা সাধারণ দৃষ্টিতে ছিল দৃষ্টিকটু।

সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাউকে না কাউকে অতিরিক্ত ফেবার করা। সিনিয়রদের উপেক্ষা করা। দলে বিভাজন তৈরি। এমন অনেক কিছুই ঘটেছে বিগত সময়ে। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কান কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহ যা করেছেন, তা নিয়ে তিক্ততা একটু বেশিই। টস জিতে কী করতে হবে সেখানে প্রভাব খাটানো থেকে শুরু করে কিছু খেলোয়াড়কে অপছন্দ করে দলের বাইরে রাখা। অধিনায়ক তার সাথে কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলে তাকে হেনস্থাও করেছেন তিনি মাঠে। এরপর না বলে রহস্যজনকভাবে চলে যাওয়ার ঘটনা তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে বোর্ডে।

গতকাল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কোচ নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন। তিনি কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে দলের সিনিয়র তিন ক্রিকেটারের অভিমত গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেছেন। এ তিনজন হলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। তিন ধরনের অভিব্যক্তি এসেছে বলে জানিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে কোনো হেড কোচের প্রয়োজনই নেই। দেশী কোচ রাখাই ভালো। অন্যজনেরটা টেকনিক্যাল সেটা তিনি বলেননি। ফলে একজন কোচ নিতে হলে এখন অনেক ভেবেচিন্তেই পা ফেলতে হবে এমন ধারণা কথাই উল্লেখ করেছেন তিনি।

গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিচার্ড পাইবাসের সাথে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তিনি ১০ বছর মেয়াদি দীর্ঘ পরিকল্পনা দিয়েছেন। আমরা সেটি গ্রহণ করেছি এবং পর্যালোচনা করে দেখছি।’ তিনি বলেন, ‘পাইবাসকেই আমরা সিলেক্ট করছি, তা নয়। কারণ তার সব কিছু নিয়ে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।’

পাইবাস ২০১২ সালে একবার যোগ দিয়ে কয়েকদিন কাজ করে চলে যান। সে প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। পাপন বলেন, ‘আমাদের এ বিষয়টিও মাথায় রয়েছে। তবে সেটি আগের কথা। কী হয়েছিল তা আমরা জানি না। তবে এখনকার প্রেক্ষাপট তো ভিন্ন। আমরা এটি নিয়েও কথা বলেছি।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি জানান, আগামী ৯ ডিসেম্বর ইন্টারভিউ দিতে আসবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও কোচিং পেশায় নিয়োজিত ফিল সিমন্স। তার সাথেও দীর্ঘ আলোচনা হবে। তার পরিকল্পনাও দেখা হবে। এরপর আগামী ১০ ডিসেম্বর বোর্ডের যে সভা রয়েছে ওই সভায় বসে কোচের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। পাপন অবশ্য আরো একজন কোচের সম্ভাবনার কথাও জানান দিয়েছেন। যিনি ঢাকায় আসবেন আগামী ৯ ডিসেম্বরের আগে। কিন্তু তিনি কে? এটা জানাননি তিনি টেকনিক্যাল কারণে। হয়তো সেটা প্রকাশ করার ব্যাপারের কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে তার পক্ষ থেকেই। আলাপ-আলোচনা হবে তার সাথেও। এর পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাদের হেড কোচ নিয়োগের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। যেখানে ছিলেন সাবেক তিন অধিনায়ক। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে অবশ্য তেমনটি হয়নি। বিসিবিই সব কিছু বিবেচনা করে নিয়োগ দেবেন। কিন্তু অনেক বোর্ডে যেমনটি রয়েছে কোচিং ডাইরেক্টর, তেমন সিস্টেমে বাংলাদেশ যাবে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এক্ষুনি এ বিষয়ে কিছু চিন্তা করা হয়নি।’

সব মিলিয়ে বিসিবিকে একটু দীর্ঘমেয়াদি রাখা যাবে এমন একজন কোচ, তা ছাড়া যিনি হুটহাট চলে না গিয়ে বাংলাদেশে থেকেই কোচিংটা করিয়ে যেতে পারেন নিয়মিত তেমন একজনকে নিয়োগ দেয়ার বাসনা।

এটি ঠিক, চাইলেই হাই প্রোফাইল অনেক কোচকেই পাচ্ছে না বিসিবি। অর্থকড়ি কম দিচ্ছে না বিসিবি। কিন্তু একজন ভিন দেশী কোচ যে লাইফ স্টাইল পরিচালনা করে অনভ্যস্থ সে পরিবেশ বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। ফ্যামিলি নিয়ে অবস্থান, সন্তানদের ভালো কোনো স্কুলে রেখে নিরাপদে পড়ালেখা করানো এমন সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয়ে তাদের প্রত্যাশিত পরিবেশ নেই বললেই চলে। এটি একটা বড় সমস্যা বাংলাদেশের। অনেক হাই প্রোফাইল কোচের ইচ্ছা থাকলেও এসব বিষয় চিন্তা করে সাড়া দেন না। এটাও একটা চিন্তার কারণ। তবু যা আছে তা নিয়েই তো ভাবতে হবে, এর বেশি কিছু চিন্তা করে তো লাভ নেই!

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.