উড়ে উড়ে পিৎজা বানাচ্ছেন নাসার নভোচারীরা
উড়ে উড়ে পিৎজা বানাচ্ছেন নাসার নভোচারীরা

উড়ে উড়ে পিৎজা পার্টি! (ভিডিওসহ)

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ভাবুন তো, আপনি হাওয়ায় উড়ছেন আর সামনে ভাসছে মজাদার পিৎজা! উড়ে উড়ে সেই পিৎজাগুলো ধরে মুখে পুরছেন! কী অবাক হচ্ছেন তাই? কিন্তু মহাকাশ কেন্দ্রে (আইএসএস) এমনটাই হয়েছে। সেখানে ছয় মহাকাশচারীর পিৎজা পার্টির ছবি আর ভিডিও এখন ভাইরাল।

শুনুন পুরো ঘটনা।

ইতালির মহাকাশচারী পাওলো নেসপোলি আর পিৎজার বিরহ সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই নাসা'র স্পেস স্টেশন ম্যানেজার কার্ক শায়ারম্যান গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি একটি অর্বিটাল এটিকে ক্যাপসুলে পিৎজা তৈরির উপকরণ পাঠান।

উপকরণ বলতে পিৎসা তৈরির রুটি, টমেটো সস, চিজ, পেপেরোনি, গোটা অলিভ, অলিভ তেল, অ্যানচভি পেস্ট ও পেস্টো। এত কিছু পাওয়ার পরও পিৎজা তৈরি না করতে পারলে আর নভশ্চর হয়েছেন কেন আইএসএস-এর ছয় সদস্য!

তাই শূন্যে ভেসে রুটিতে টমেটো সস মাখিয়ে, তার ওপর চিজ ছড়িয়ে, পছন্দমতো বাকি টপিংগুলো বস্ন তারা। কিন্তু এরপরই বাধে গোলমাল। কেননা ‘কাঁচা’ পিৎজাগুলোকে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে পুরে সেই প্যাকেটটা একটা ধাতব বাক্সে পুরে তবে ওভেনে গরম করতে দিতে হবে – হাজার হোক ‘কিচেন’-টা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরে, ঘণ্টায় ১৭,৫০০ মাইল গতিতে পৃথিবীকে চক্কর দিচ্ছে ও প্রতি ৯২ মিনিট অন্তর সূর্যোদয় দেখছে।

পিৎজা গরম হতেও যে খুব বেশি সময় লেগেছে, এমন নয়। কিন্তু রান্নার পর ধেড়ে-বুড়ো মহাকাশচারীরা যেভাবে খাবার নিয়ে খেলা করতে শুরু করলেন, তা দেখলে যে কেউ মজা পাবেন। তারা এভাবে খেলছিলেন যে, ওগুলো যেন পিৎজা নয়, ফ্রিসবি খেলার চাকতি!

তবে ভারশূন্যতার সুবিধে হলো এই যে, প্লেট থাকুক আর না থাকুক, খাবার মাটিতে পড়ে না, বাতাসেই ভাসতে থাকে। সাধে কি আর কমান্ডার ব়্যান্ডি ব্রেসনিক এই ‘স্পেস পিৎসা’-র নাম দিয়েছেন খাওয়া যায়, এমন ফ্লাইং সসার?

নেসপোলি স্বয়ং নাকি পিৎসার স্বাদ ‘অপ্রত্যাশিত রকম’ ভালো লেগেছে। না লাগলেও কোনো আপত্তি ছিল না, কেননা, তিনি আইএসএস-এ আছেন গত জুলাই মাস থেকে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর তিনি ভূমিতে ফিরবেন ব্রেসনিক ও আরো একজন রুশ নভোচারীর সাথে; ক্যাপসুল নামবে কাজাকস্তানের মরুভূমিতে।

সেখানে কি পিৎজার ব্যবস্থা থাকবে? নাকি বেচারা পাওলোকে ইতালি পৌঁছানো অবধি অপেক্ষা করতে হবে? সেটা অবশ্য ভূমিতে 'পতনের' পরই বোঝা যাবে।

দেখুন পিৎজা পার্টির সেই ভিডিও -

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.