প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষকদের কর্মসূচি ঘোষণা কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান শিক্ষকের একধাপ নিচে বেতন স্কেল নির্ধারনের দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সংগঠনসমূহ একজোট হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক মহাজোট নামে একাট্টা হয়ে আগামীকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি আদায়ের লক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সংগঠনসমূহের একাধিক নেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণের শুরু থেকেই সহকারি শিক্ষকের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকের একধাপ নিচে ছিল। ২০০৬ সালে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা ছাড়াই তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে সহকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ব্যবধান দুই ধাপে নিচে নির্ধারণ করা হয়। যা বর্তমান সরকারের আমলেও কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। সহকারি শিক্ষকরা এ নিয়ে বর্তমান সরকারের নীতি-নির্ধারকদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সর্বশেষ বেতন স্কেলেও তা বজায় রাখা হয়েছে। এনিয়ে সাড়ে তিন লাখ সহকারি শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

শিক্ষক নেতারা বলেন, চরম বৈষম্যের কারণে মেধাবীরা প্রাথমিকের শিক্ষক হিসেবে আসছেন না। তারা জানান, বিসিএস থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডারে প্রধান শিক্ষকের জন্য মনোনীত হলেও বেতন বৈষম্যের কারণে বেশিরভাগ প্রার্থী এই চাকরিতে যোগদান করেননি।

এমনই প্রেক্ষাপটে আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোট সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে।
সংগঠনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সহকারি শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য কমানোর দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

দাবি আদায়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা জানান।

শিক্ষক নেতারা জানান, আজ বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সহকারি শিক্ষক সংগঠনের নেতারা আগামী ১৫ ডিসেম্বর জেলা-উপজেলার কর্মসূচি এবং ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় শহীদ মিনারের কর্মসূচি সফল করতে বৈঠক করেছেন। আজও এ ধরনের বৈঠক হবে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়।

এ প্রসঙ্গে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সহকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ এবং সহকারি শিক্ষক সমাজ সভাপতি তপন কুমার মন্ডল আজ নয়া দিগন্তকে বলেন, আন্দোলনের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে। গত চার বছর ধরে প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষকরা তাদের বেতন বৈষম্য দূর করতে দাবি করে আসছে। গত দুই বছর আশ্বাস পূরণের অপেক্ষায় চুপচাপ ছিলেন। সম্প্রতি সরকার প্রধান শিক্ষকদের ব্যাপারে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সহকারি শিক্ষকদের ব্যাপারে সরকার নিশ্চুপ। এ নিয়ে সারাদেশের সহকারি শিক্ষকরা চরমভাবে হতাশ। তাই বাধ্য হয়েই আমরা আন্দোলন ছাড়া বিকল্প দেখছি না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.