জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি

ট্রাম্পের এ ঘোষণা প্রত্যাহার করা হোক

খবরে প্রকাশ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার রাতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারিভাবে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ঘোষণায় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ থেকে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের প্রচারিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন। এ সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক স্পেন্সার তার পাশে ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এই স্বীকৃতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের বাধার প্রাচীর তুলে দিলেন। ইহুদিবাদের তোষণমূলক তার এই উগ্র সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করে তুলবে। অথচ ট্রাম্প অনেকটা ঔদ্ধত্যের সুরেই বললেন, তার এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তিচুক্তি এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ‘দীর্ঘ দিন পড়ে থাকা একটি পদক্ষেপ’।
তিনি আরো বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন উভয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র দুই-দেশ ফর্মুলা সমর্থন করে। অথচ তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই বলেছিলেন, ‘টু নেশন থিওরি ইজ ওভার’। এতে আবারো প্রমাণিত হয়, ট্রাম্প কখন কী করেন বা বলেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার এই ঘোষণা মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবের আরেকটি বড় ধরনের উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিবেক-বিবেচনাহীন সিদ্ধান্ত বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রাক্কালে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক মুখপাত্র এই সিদ্ধান্তের মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। এ ঘোষণার আগে ট্রাম্পকে সতর্ক করে সৌদি আরবের বাদশা সালমান বলেছেন, জেরুসালেমের মর্যাদা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ঘোষণায় গোটা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনার আগুন জ্বলে উঠবে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, জেরুসালেম নিয়ে এমন ঘোষণা দেয়া হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার দীর্ঘ দিনের ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করল। কারণ, এত দিন জেরুসালেম নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান ফিলিস্তিনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে হতে হবেÑ এমন একটি দৃশ্যমান বাধ্যবাধকতা ছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও জেরুসালেমের পুরো শহরকে ইসরাইলের বলে স্বীকৃতি দেয় না। শহরটি মুসলমানদের পাশাপাশি ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের কাছেও পবিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার প্রতি সমর্থন নেই দেশটির সরকারের ভেতরেও। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক স্পেন্সার এই ঘোষণা সমর্থন করলেও এর বিরোধিতা করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটস।
বিশ্বের কোনো শান্তিকামী মানুষ এই ঘোষণা মেনে নিতে পারেন না। আমরাও সঙ্গত কারণে ট্রাম্পের এ ঘোষণায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি। সেই সাথে আশ করছি, এ ঘোষণা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশ ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে জরুরি পদক্ষেপ নেবে। আমরা মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সাধারণও ট্রাম্পের এ ঘোষণা সমর্থন করে না।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.